ঢাকা ০৩:৫৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নদীপাড়ের দখল নিয়ে বিরোধ: যুবদলকর্মী বিপুলকে কুপিয়ে হত্যা

শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০৪:৫১:৩২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৫
  • / 325

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে আজমীর হোসেন বিপুল (৪০) নামে যুবদলকর্মীকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। নিহতের পরিবারের দাবি, বাড়ি সংক্রান্ত পুরনো বিরোধ এবং নদীপাড়ে বাঁশের মাচালপাতাকে কেন্দ্র করে এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে।

শুক্রবার (১৮ এপ্রিল) রাত সাড়ে ৭টার দিকে শাহজাদপুর উপজেলার পৌর সদরের রামবাড়ি মহল্লায় এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।

নিহতের পরিচয় ও রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা

নিহত আজমীর হোসেন বিপুল রামবাড়ি মহল্লার মৃত মাজেদ শেখের ছেলে। তিনি স্থানীয় যুবদলের রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন বলে জানা গেছে।

হামলার বর্ণনা দিলেন বড় ভাই

নিহতের বড় ভাই নুরুজ্জামান জানান, তাদের বাড়ির সামনের নদীপাড়ে বাঁশের মাচালপাতা নিয়ে একই এলাকার মোকছেদ আলী ওরফে বগা মেম্বারের ছেলে শহিদুল ইসলামের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। শুক্রবার রাতে শহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে ২০ থেকে ২৫ জনের একটি দল দেশীয় অস্ত্র নিয়ে বাড়ির গেটের সামনে এসে বিপুলের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। তারা তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ও লাঠি দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে।

পরিবারের সদস্যরাও হামলার শিকার

বিপুলের চিৎকারে বাড়ির ভেতর থেকে ছুটে আসেন ভাই নুরুজ্জামান, তার ছেলে আরফিন, মা নবীয়া খাতুন, স্ত্রী আমিনা খাতুন ও ছেলে আরমান। হামলাকারীরা তাদেরও বেধড়ক মারধর করে। পরে তারা চলে গেলে আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে শাহজাদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে বিপুলকে সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়, সেখানে রাত সাড়ে ১০টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

স্বজনদের কান্না ও বিচার দাবি

বিপুলের স্ত্রী আমিনা খাতুন বলেন, ‘স্বামীর চিৎকার শুনে বাইরে গিয়ে দেখি খুনিরা তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপাচ্ছে। আমরা ঠেকাতে গেলে আমাদেরও মারধর করে। আমি আমার স্বামীর হত্যাকারীদের ফাঁসি চাই।’

বিপুলের মা নবীয়া খাতুন বলেন, ‘আমি ছুটে গিয়ে তাদের হাতে-পায়ে ধরেছি। তারা আমার মাথায় লাঠি দিয়ে আঘাত করে ফেলে দেয়। আমি আবার উঠে গিয়ে কাকুতি মিনতি করি। কিন্তু তারা আমার চোখের সামনেই আমার ছেলেকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে রক্তাক্ত করে পালিয়ে যায়। আমি এর বিচার চাই।’

পুলিশ ও রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া

শাহজাদপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আসলাম আলী বলেন, ‘খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশের একটি দল পাঠানো হয়। এ ঘটনায় একজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সিরাজগঞ্জ শহীদ এম. মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।’

উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বলেন, ‘নিহত বিপুল যুবদলের একজন সক্রিয় কর্মী ছিলেন। প্রতিপক্ষের সঙ্গে পুরনো বিরোধ থেকেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে।’

প্রতিপক্ষের বক্তব্য অনুপস্থিত

অভিযোগের বিষয়ে শহিদুল ইসলামের মোবাইল নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কোনো ফোন রিসিভ করেননি।

নদীপাড়ের দখল নিয়ে বিরোধ: যুবদলকর্মী বিপুলকে কুপিয়ে হত্যা

আপডেট সময় : ০৪:৫১:৩২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৫

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে আজমীর হোসেন বিপুল (৪০) নামে যুবদলকর্মীকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। নিহতের পরিবারের দাবি, বাড়ি সংক্রান্ত পুরনো বিরোধ এবং নদীপাড়ে বাঁশের মাচালপাতাকে কেন্দ্র করে এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে।

শুক্রবার (১৮ এপ্রিল) রাত সাড়ে ৭টার দিকে শাহজাদপুর উপজেলার পৌর সদরের রামবাড়ি মহল্লায় এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।

নিহতের পরিচয় ও রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা

নিহত আজমীর হোসেন বিপুল রামবাড়ি মহল্লার মৃত মাজেদ শেখের ছেলে। তিনি স্থানীয় যুবদলের রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন বলে জানা গেছে।

হামলার বর্ণনা দিলেন বড় ভাই

নিহতের বড় ভাই নুরুজ্জামান জানান, তাদের বাড়ির সামনের নদীপাড়ে বাঁশের মাচালপাতা নিয়ে একই এলাকার মোকছেদ আলী ওরফে বগা মেম্বারের ছেলে শহিদুল ইসলামের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। শুক্রবার রাতে শহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে ২০ থেকে ২৫ জনের একটি দল দেশীয় অস্ত্র নিয়ে বাড়ির গেটের সামনে এসে বিপুলের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। তারা তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ও লাঠি দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে।

পরিবারের সদস্যরাও হামলার শিকার

বিপুলের চিৎকারে বাড়ির ভেতর থেকে ছুটে আসেন ভাই নুরুজ্জামান, তার ছেলে আরফিন, মা নবীয়া খাতুন, স্ত্রী আমিনা খাতুন ও ছেলে আরমান। হামলাকারীরা তাদেরও বেধড়ক মারধর করে। পরে তারা চলে গেলে আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে শাহজাদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে বিপুলকে সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়, সেখানে রাত সাড়ে ১০টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

স্বজনদের কান্না ও বিচার দাবি

বিপুলের স্ত্রী আমিনা খাতুন বলেন, ‘স্বামীর চিৎকার শুনে বাইরে গিয়ে দেখি খুনিরা তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপাচ্ছে। আমরা ঠেকাতে গেলে আমাদেরও মারধর করে। আমি আমার স্বামীর হত্যাকারীদের ফাঁসি চাই।’

বিপুলের মা নবীয়া খাতুন বলেন, ‘আমি ছুটে গিয়ে তাদের হাতে-পায়ে ধরেছি। তারা আমার মাথায় লাঠি দিয়ে আঘাত করে ফেলে দেয়। আমি আবার উঠে গিয়ে কাকুতি মিনতি করি। কিন্তু তারা আমার চোখের সামনেই আমার ছেলেকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে রক্তাক্ত করে পালিয়ে যায়। আমি এর বিচার চাই।’

পুলিশ ও রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া

শাহজাদপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আসলাম আলী বলেন, ‘খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশের একটি দল পাঠানো হয়। এ ঘটনায় একজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সিরাজগঞ্জ শহীদ এম. মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।’

উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বলেন, ‘নিহত বিপুল যুবদলের একজন সক্রিয় কর্মী ছিলেন। প্রতিপক্ষের সঙ্গে পুরনো বিরোধ থেকেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে।’

প্রতিপক্ষের বক্তব্য অনুপস্থিত

অভিযোগের বিষয়ে শহিদুল ইসলামের মোবাইল নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কোনো ফোন রিসিভ করেননি।