ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকার বরাবরই মুসলিম বিরোধী মনোভাব প্রদর্শন করে এসেছে। মোদির শাসনামলে ভারতে মুসলমানদের ওপর অমানবিক নির্যাতন বেড়েছে, যার মধ্যে একাধিক মসজিদ ধ্বংস এবং মুসলিমদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করা হয়েছে। মুসলমানদের ওপর সহিংসতা যেমন বেড়েছে, তেমনি জয় শ্রীরাম না বলায় পিটিয়ে হত্যার ঘটনাও ঘটেছে। এই পরিস্থিতির মধ্যে ভারতীয় একটি নাগরিক বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন, যা এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল।
বিস্ফোরক মন্তব্যের সারাংশ
সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে পশ্চিমবঙ্গের এক নাগরিক দাবি করেছেন যে, বিজেপি সরকার ভারতের ৪২ হাজার মসজিদ দখলে নেবে। শুধু মসজিদ দখল নয়, মুসলমানদের নামাজের জন্য প্রয়োজনীয় জায়গাগুলোও দখল করার পরিকল্পনা রয়েছে মোদির। ওই ব্যক্তি আরও বলেন, মুসলমানরা যেন তাদের মৃতদেহ সৎকার করতে না পারে, সেজন্য কবরস্থানের জায়গাও দখল করবে বিজেপি সরকার। এই ধরনের মন্তব্য ভারতের মুসলিমদের জন্য এক নতুন ধরনের শঙ্কার জন্ম দিয়েছে।
মোদির বিদেশি প্রোপাগান্ডা ও ফ্যাসিস্ট আচরণ
মোদি সরকার শুধু ভারতে মুসলিমদের ওপর নির্যাতন চালাচ্ছে না, বরং তাদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিকভাবে প্রোপাগান্ডা ছড়ানোর চেষ্টা করছে। সেক্ষেত্রে, বিজেপি সরকারের এমপি-মন্ত্রীদের মালিকানাধীন স্যাটেলাইট টেলিভিশনগুলো বাংলাদেশে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের নির্যাতনের প্রচারণা চালিয়ে আসছে। কিন্তু এসব প্রচারণা তাদের দেশের মুসলিমদের ওপর নির্যাতন বন্ধ করতে ব্যর্থ হয়েছে। মোদি সরকার নিজেই দেশে সংখ্যালঘু মুসলমানদের ওপর আক্রমণ চালিয়ে যাচ্ছে, এমন অভিযোগ ওঠেছে।
মুসলিম বিরোধী ঘটনাগুলোর পুনরাবৃত্তি
মোদি সরকারের মুসলিম বিরোধী কর্মসূচি শুধু এই কথাবার্তার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। ১৯৯২ সালে ঐতিহাসিক বাবরি মসজিদ ভাঙার ঘটনা স্মরণ করা যেতে পারে, যেখানে রাম মন্দির প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে মুসলিমদের ধর্মীয় স্থাপনা ধ্বংস করা হয়েছিল। সেই সময় অনেক মুসলিম প্রাণ হারিয়েছিলেন, এবং আজও মোদি সরকারের কঠোর পদক্ষেপের কারণে মুসলমানদের ওপর নিপীড়ন থামছে না।
নেটিজেনদের প্রতিক্রিয়া
ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর নেটিজেনদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। মনজুর আহমেদ নামের একজন মন্তব্য করেছেন, “বিজেপি দলটি হিন্দুত্ববাদী। তারা মুসলমানদের দেখতে চায় না।” অন্যদিকে, ফারজানা বীথি নামের একজন মন্তব্য করেছেন, “ধ্বংস হয়ে যাবে মোদি, সেদিন আর বেশি দূর নয়। বাংলাদেশে প্রোপাগান্ডা চালায় এবং নিজের দেশে সংখ্যালঘু মুসলমানদের ওপর নির্যাতন করে।”


















