স্বর্গ ও যিশুর সাক্ষাৎ পেতে অনাহার : মৃত্যু বেড়ে ৫৮
- আপডেট সময় : ০৪:০১:৩১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৩
- / 606
গত কয়েকদিন ধরে বিশ্ব মিডিয়ায় তোলপাড় করা খবর হচ্ছে কেনিয়ায় যিশুর সাক্ষাৎের আশায় অনাহারে একের পর এক মানুষের মৃত্যু হচ্ছে। ইতোমধ্যে ৫৮ জন মানুষ না খেয়ে নির্মমভাবে মৃত্যু বরণ করেন।
জানা যায়, খ্রিস্টান ধর্মের নতুন অনুসারীরা যিশুর সাক্ষাত পেতে অনাহারে থাকছেন। আর এতে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে ৫৮ জনে পৌঁছেছে। কেনিয়ার পুলিশ বলছে, কেনিয়ায় একটি ধর্মগোষ্ঠীর মানুষ এসব করছে। ওই গোষ্ঠীর গুরু নিশ্চয়তা দিয়েছিলেন যে যদি তারা না খেয়ে মারা যান তাহলে যিশুর সাক্ষাৎ পাবেন।
পুলিশের অনুসন্ধান দলগুলো রোববার দেশটির উপকূলীয় শহর মালিন্দিতে সেই ধর্মগুরুর বাড়িতে একটি অগভীর কবরে ২৬ জনের মৃতদেহ খুঁজে পায়। জানা যায়, গত সপ্তাহে এই মরদেহগুলো খুঁজে পাওয়ার পর থেকে মৃতের সংখ্যা ক্রমাগত বাড়তে থাকে। যা ইতোমধ্যে ৫০ জনের বেশি হয়েছে।
গুড নিউজ ইন্টারন্যাশনাল গির্জার প্রধান পল ম্যাকেঞ্জি এনথেঞ্জ তার শিষ্যদের বলেন, তারা যদি অনাহারে মারা যায় তবে তারা যিশুর সাথে সাক্ষাৎ করতে পারবে। এবং নিশ্চিত স্বগ্যে যাবে। শিষ্যদের অনেকেই তার এই কথা বিশ্বাস করেন, এবং অনাহারে দিন অতিবাহিত করতে শুরু করেন। যার প্রেক্ষিতে অনেকের মৃত্যু হয়েছে ইতোমধ্যে।
পুলিশ সূত্র পেয়েছিলো যে, ধর্মগুরুর বাড়িতে আরও ভুক্তভোগী আছেন। পুলিশ যখন সেই স্থানে অভিযান চালায়, তখন তারা ১৫ জন দুর্বল হয়ে যাওয়া ব্যক্তিকে দেখতে পায়।
কর্মকর্তারা আশঙ্কা করছেন, গির্জার অন্য সদস্যরা কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে লুকিয়ে রয়েছেন। তবে গির্জা প্রধানকে আটক করেছে পুলিশ।
এর আগে কেনিয়ার রাষ্ট্রীয় টিভি কেবিসি এনথেঙ্গেকে একজন ধর্মগুরু বলে বর্ণনা করে। খবরে বলা হয় অনশনে মৃত্যুবরণের সাথে সম্পর্কিত ৫৮ টি কবর শনাক্ত করা হয়েছে।
এসব কবরের একটিতে একই পরিবারের পাঁচজন সদস্য – বাবা-মা এবং তিন সন্তান- থাকতে পারে বলে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ম্যাকেঞ্জি তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন, কিন্তু আদালত তাকে জামিন দেয়নি। ওই ব্যক্তি দাবি করেন ২০১৯ সালে তিনি তার গির্জা বন্ধ করে দেন। এই ধর্মগুরুর বিরুদ্ধে অভিযোগ– তিনি তার অনুসারীদের ‘খ্রিস্টের সাথে সাক্ষাৎ না হওয়া পর্যন্ত’ অভুক্ত থাকতে বলতেন।
কেনিয়ার দৈনিক দি স্ট্যান্ডার্ড লিখেছে উদ্ধার করা মরদেহগুলোর ডিএনএ নমুনা পরীক্ষা করা দেখা হবে যে সত্যিই না খেয়ে তাদের মৃত্যু হয়েছিল কিনা।
দি স্টান্ডার্ডের রিপোর্টে অভিযোগ করা হয়, ওই ধর্মগুরু তিনটি গ্রামের নাম দিয়েছিলেন – নাজারেথ, বেথলেহেম এবং জুদেয়া। তিনি তার অনুসারীদের স্থানীয় একটি পুকুরের পানিতে ‘পূত-পবিত্র’ হয়ে তাদেরকে অনশন শুরুর নির্দেশ দেন।
কেনিয়ায় ধর্মবিশ্বাস খুবই গভীর। এর আগেও বিভিন্ন সময় অনিয়ন্ত্রিত গির্জা এবং ধর্মগুরুদের ফাঁদে পড়ে বিপদগ্রস্ত হওয়ার খবর প্রকাশ্যে এসেছে।
সূত্র: আল জাজিরা ও বিবিসি


























