ফরিদপুরে মাদকের সাম্রাজ্যে আঘাত: ১৫ জন আটক, বিপুল মাদক ও অস্ত্র উদ্ধার
- আপডেট সময় : ১২:৩৩:১৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ জুন ২০২৫
- / 556
ফরিদপুর সদর উপজেলার গুহ লক্ষ্মীপুর এলাকার রেলওয়ে বস্তিতে মাদক কারবার ও সন্ত্রাসী কার্যক্রমের বিরুদ্ধে সেনাবাহিনী ও পুলিশের যৌথ অভিযানে ১৫ জনকে আটক করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক মাদকবিরোধী দিবস উপলক্ষে পরিচালিত এই অভিযানে বিপুল পরিমাণ মাদক, দেশীয় অস্ত্র এবং অপরাধ সংশ্লিষ্ট সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। আটককৃতদের মধ্যে কুখ্যাত মাদক চক্রের নেত্রী শিলপি বেগম (৩০) এবং তার পরিবারের সদস্যরাও রয়েছেন।
সেনা সূত্র থেকে জানা যায়, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ফরিদপুর আর্মি ক্যাম্পে গুহ লক্ষ্মীপুর রেলওয়ে বস্তিতে মাদক পাচার, জোরপূর্বক দখলদারিত্ব এবং স্থানীয় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড নিয়ে একাধিক অভিযোগ আসছিল। গোপন সূত্রে পাওয়া তথ্যে জানা যায়, শিলপি বেগম ও তার পরিবার এই এলাকায় একটি সুসংগঠিত মাদক নেটওয়ার্ক পরিচালনা করছে, যেখানে নারীদের ব্যবহার করে প্রকাশ্যে ইয়াবা, গাঁজা ও হেরোইন বিক্রি করা হচ্ছিল। অনুসন্ধানে আরও বেরিয়ে আসে যে, শিলপির সঙ্গে ভারতীয় মাদক পাচার চক্রের সরাসরি যোগাযোগ রয়েছে এবং ভারত থেকে গাঁজা এনে এই এলাকায় সরবরাহ করে তারা অবৈধভাবে অর্থনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছিল।
অভিযানের বিস্তারিত ও উদ্ধারকৃত সামগ্রী
২৬ জুন রাত ৮টায়, ১৫ ইঞ্জিনিয়ার ব্যাটালিয়ন ও পুলিশ যৌথভাবে একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে তাৎক্ষণিকভাবে ৭ জনকে হাতেনাতে মাদক বিক্রির সময় আটক করা হয়। এরপর পুরো এলাকাজুড়ে তল্লাশি চালিয়ে এবং বস্তির কেন্দ্রে অবস্থিত শিলপির বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাকে এবং আরও আটজনকে আটক করা হয়।
অভিযান চলাকালে শিলপির বাড়ি থেকে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য, দেশীয় ধারালো অস্ত্র এবং মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। এসব ব্যবহার করে তারা দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় ভীতি ও নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে আসছিল।
সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই অভিযানে ৪৫.৫ কেজি গাঁজা, ৩৩৭টি ইয়াবা ট্যাবলেট, ২১১টি হেরোইনের প্যাকেট, ৬১টি দেশীয় অস্ত্র, ২টি বিদেশি মদের বোতল, ৯টি ফিচার ফোন এবং ১০টি অ্যান্ড্রয়েড ফোন উদ্ধার করা হয়েছে।
আইনি পদক্ষেপ ও সেনাবাহিনীর কঠোর বার্তা
আটককৃত ১৫ জনকে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে মাদক ও সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
সেনা সূত্র মতে, অবৈধ অস্ত্র, মাদক, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সেনাবাহিনীর ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি রয়েছে। অপরাধ দমনে সেনা ক্যাম্পসমূহকে প্রয়োজনীয় তথ্য প্রদানের মাধ্যমে সহায়তা করার জন্য জনসাধারণের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে।





















