ফরিদপুরে টিকটক মডেলের টোপ দিয়ে পতিতালয়ে বিক্রি, পাচারকারীর জেল
- আপডেট সময় : ০১:০৪:১০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬
- / 718
ফরিদপুরে এক কিশোরীকে (১৬) টিকটক তারকা ও মডেল বানানোর প্রলোভন দেখিয়ে পতিতালয়ে বিক্রির দায়ে আদল কাজী (৫৪) নামে এক ব্যক্তিকে দুটি পৃথক ধারায় সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। সোমবার (১১ মে) দুপুরে ফরিদপুরের মানব পাচার অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) শামীমা পারভীন এই রায় ঘোষণা করেন।
দণ্ড ও আইনি পর্যবেক্ষণ:
আদালত সূত্রে জানা গেছে, মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইনের ১০ ধারায় আসামিকে ৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। একই আইনের ১১ ধারায় তাকে আরও ৭ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। দুটি সাজা একই সঙ্গে কার্যকর হওয়ায় আসামিকে মোট ৭ বছর কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। জরিমানা অনাদায়ে তাকে আরও ৬ মাস বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। দণ্ডপ্রাপ্ত আদল কাজী ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার পূর্ব গঙ্গাবর্দী এলাকার মৃত ইমান কাজীর ছেলে। রায় ঘোষণার সময় আসামি পলাতক ছিলেন।
ঘটনার প্রেক্ষাপট:
মামলার নথিপত্র অনুযায়ী, ২০২১ সালের ২০ জুলাই ওই কিশোরীকে উন্নত জীবনের স্বপ্ন ও টিকটক মডেল বানানোর টোপ দিয়ে বাড়ি থেকে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে তাকে ফরিদপুর শহরের রথখোলা এলাকার একটি পতিতালয়ে চড়া দামে বিক্রি করে দেওয়া হয় এবং জোরপূর্বক দেহ ব্যবসায় বাধ্য করা হয়।
পরবর্তীতে র্যাব-৮ এর একটি দল ২৭ জুলাই রাতে অভিযান চালিয়ে ওই কিশোরীকে উদ্ধার এবং আদল কাজীকে হাতেনাতে গ্রেফতার করে। ওই রাতেই ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় মামলা করা হয়। দীর্ঘ তদন্ত শেষে এসআই শ্রী প্রসাদ কুমার চাকী আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন, যেখানে আদল কাজীকে একটি সংঘবদ্ধ পাচার চক্রের সদস্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
সন্তোষ প্রকাশ:
রায়ের সত্যতা নিশ্চিত করে আদালতের পিপি গোলাম রব্বানী বলেন, “এই রায়ের মাধ্যমে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং আমরা এতে সন্তুষ্ট।”





















