১৫ বছর পর খালাস পেলেন বিএনপির নিখোঁজ নেতা ইলিয়াস-দিনারসহ ৩৮ জন
- আপডেট সময় : ১২:০৯:১৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৩ মে ২০২৬
- / 1166
সিলেটের দক্ষিণ সুরমায় বাসে অগ্নিসংযোগ ও চিত্রনায়িকা শাবনূরের কথিত পিতা কাজী নাছিরকে পুড়িয়ে মারার মামলায় দীর্ঘ ১৫ বছর পর খালাস পেয়েছেন নিখোঁজ বিএনপি নেতা এম ইলিয়াস আলী ও ছাত্রদল নেতা ইফতেখার আহমদ দিনারসহ ৩৮ জন নেতাকর্মী। মঙ্গলবার (১২ মে) দুপুরে মামলার দীর্ঘ শুনানি ও সাক্ষ্য-প্রমাণ বিশ্লেষণ শেষে আসামিরা নির্দোষ প্রমাণিত হওয়ায় সিলেটের মানবপাচার অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. শরিফুল ইসলাম এই রায় ঘোষণা করেন。
মামলার প্রেক্ষাপট ও লোমহর্ষক সেই ঘটনা:
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০১১ সালের ১৮ ডিসেম্বর বিএনপির কর্মসূচি চলাকালে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের বদিকোনা এলাকায় হবিগঞ্জ সুপার এক্সপ্রেসের একটি বাসে অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুর করা হয়。 ওই অগ্নিকাণ্ডে বাসের ভেতরেই দগ্ধ হয়ে মারা যান ৭০ বছর বয়সী বৃদ্ধ কাজী নাছির, যিনি নিজেকে চিত্রনায়িকা শাবনূরের পিতা হিসেবে পরিচয় দিতেন。 ঘটনার ১৩ দিন পর নিহতের দ্বিতীয় স্ত্রী জ্যোৎস্না বেগম স্বামীর ব্যবহার্য জিনিসপত্র দেখে তার পরিচয় শনাক্ত করেছিলেন。
দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া ও রায়:
তৎকালীন সময়ে পুলিশ বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা এবং পরিবহন ব্যবসায়ীরা দ্রুত বিচার আইনে মামলা দায়ের করেন。 মামলায় এম ইলিয়াস আলী ও দিনারসহ মোট ৪০ জনকে আসামি করা হয়েছিল。 দীর্ঘ ১৫ বছরের বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আদালত আজ ৩৮ জন আসামিকে এই দায় থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে অব্যাহতি প্রদান করেন。 খালাসপ্রাপ্তদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য অন্যান্য নেতারা হলেন অ্যাডভোকেট সামসুজ্জামান জামান ও অ্যাডভোকেট এটিএম ফয়েজ。
আইনজীবীদের প্রতিক্রিয়া:
রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা জানান, এই মামলাটি ছিল সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, যা আজ আদালতের রায়ে প্রমাণিত হয়েছে。 উল্লেখ্য, নিখোঁজ এম ইলিয়াস আলী ও দিনারের সন্ধান দীর্ঘ বছর ধরে না মিললেও আইনি প্রক্রিয়ায় এই মামলা থেকে তাদের নাম আনুষ্ঠানিকভাবে বাদ পড়ল。
























