ঢাকা ০৮:৪৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬, ৩১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ

ফরিদপুরে আ’লীগ নেতাকে রক্ষায় মামলা প্রত্যাহারের সুপারিশ বিএনপি নেতার

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
  • আপডেট সময় : ০৯:১১:৫৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৫ মে ২০২৬
  • / 705

ফরিদপুরের ভাঙ্গায় ইতালি প্রবাসী মাসুদ রানা হত্যা মামলাটি ‘রাজনৈতিক মামলা’ হিসেবে দাবি করে প্রত্যাহারের আবেদন ও সুপারিশের ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে নিহতের পরিবার। এ নিয়ে মঙ্গলবার (৫ মে) দুপুরে ফরিদপুর প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ:

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন নিহত মাসুদ রানার ছোট ভাই মো. আসাদুজ্জামান। এ সময় নিহতের মা হালিমা বেগম, স্ত্রী শাহীন আফরোজ রোজী ও ছোট মেয়ে মাসুদা মেহেরামা উপস্থিত ছিলেন।

লিখিত বক্তব্যে অভিযোগ করা হয়, ২০২১ সালের ১৩ এপ্রিল ভাঙ্গা পৌরসভার নওপাড়া বাসস্ট্যান্ডে ইতালি প্রবাসী মাসুদ রানাকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় প্রধান আসামি ভাঙ্গা পৌর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ইমদাদুল হক বাচ্চুসহ ৩০-৩৫ জন অংশ নেন। পরে নিহতের মা বাদী হয়ে ভাঙ্গা থানায় মামলা করেন এবং তদন্ত শেষে ৩৪ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। মামলাটি বর্তমানে ফরিদপুরের দ্বিতীয় জজ আদালতে বিচ characterise।

বাদীপক্ষের আইনজীবী আব্দুর রশিদ বলেন, মামলার ২৪ জন সাক্ষীর মধ্যে ৯ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। এটি কোনো রাজনৈতিক মামলা নয়, বরং একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। প্রভাবশালী আসামিরা রাজনৈতিক তকমা দিয়ে মামলাটি প্রত্যাহারের চেষ্টা করছেন।

সুপারিশ ও বিতর্ক:

সম্প্রতি ফরিদপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক সৈয়দের মোদাররেছ আলী ইছা এ হত্যা মামলাটিকে রাজনৈতিক মামলা হিসেবে উল্লেখ করে প্রত্যাহারের আবেদন করেন। ওই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, এডিএম ও সরকারি কৌঁসুলি সুপারিশ করে গত ২৩ এপ্রিল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ‘প্রত্যাহার সম্পর্কিত প্রতিবেদন’ পাঠান।

তবে এ বিষয়ে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক সৈয়দের মোদাররেছ আলী ইছা বলেন, “স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে, হত্যা ও নারী নির্যাতন মামলা রাজনৈতিক বিবেচনার আওতাভুক্ত নয়। আমি এ ধরনের কোনো আবেদন করিনি, আমার নাম কেন জুড়ে দেওয়া হয়েছে তা সুপারিশকারীরাই বলতে পারবেন।”

ভাঙ্গা উপজেলা আওয়ামী লীগ সূত্রে জানা যায়, ইমদাদুল হক ২০১২ সালে ভাঙ্গা পৌর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি নির্বাচিত হন এবং এখনো এই পদে বহাল আছেন। তবে গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তাকে ফরিদপুর-৪ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণা চালাতে দেখা গিয়েছিল।

অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) মিন্টু বিশ্বাস জানান, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ভুল করে আবেদনকারীর ঘরে সই করেছিলেন এবং তিন দফা যাচাই-বাছাইয়ের পর জেলা কমিটি সুপারিশপত্রটি পাঠিয়েছে, যা এখনো কার্যকর হয়নি।

সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ

ফরিদপুরে আ’লীগ নেতাকে রক্ষায় মামলা প্রত্যাহারের সুপারিশ বিএনপি নেতার

আপডেট সময় : ০৯:১১:৫৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৫ মে ২০২৬

ফরিদপুরের ভাঙ্গায় ইতালি প্রবাসী মাসুদ রানা হত্যা মামলাটি ‘রাজনৈতিক মামলা’ হিসেবে দাবি করে প্রত্যাহারের আবেদন ও সুপারিশের ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে নিহতের পরিবার। এ নিয়ে মঙ্গলবার (৫ মে) দুপুরে ফরিদপুর প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ:

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন নিহত মাসুদ রানার ছোট ভাই মো. আসাদুজ্জামান। এ সময় নিহতের মা হালিমা বেগম, স্ত্রী শাহীন আফরোজ রোজী ও ছোট মেয়ে মাসুদা মেহেরামা উপস্থিত ছিলেন।

লিখিত বক্তব্যে অভিযোগ করা হয়, ২০২১ সালের ১৩ এপ্রিল ভাঙ্গা পৌরসভার নওপাড়া বাসস্ট্যান্ডে ইতালি প্রবাসী মাসুদ রানাকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় প্রধান আসামি ভাঙ্গা পৌর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ইমদাদুল হক বাচ্চুসহ ৩০-৩৫ জন অংশ নেন। পরে নিহতের মা বাদী হয়ে ভাঙ্গা থানায় মামলা করেন এবং তদন্ত শেষে ৩৪ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। মামলাটি বর্তমানে ফরিদপুরের দ্বিতীয় জজ আদালতে বিচ characterise।

বাদীপক্ষের আইনজীবী আব্দুর রশিদ বলেন, মামলার ২৪ জন সাক্ষীর মধ্যে ৯ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। এটি কোনো রাজনৈতিক মামলা নয়, বরং একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। প্রভাবশালী আসামিরা রাজনৈতিক তকমা দিয়ে মামলাটি প্রত্যাহারের চেষ্টা করছেন।

সুপারিশ ও বিতর্ক:

সম্প্রতি ফরিদপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক সৈয়দের মোদাররেছ আলী ইছা এ হত্যা মামলাটিকে রাজনৈতিক মামলা হিসেবে উল্লেখ করে প্রত্যাহারের আবেদন করেন। ওই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, এডিএম ও সরকারি কৌঁসুলি সুপারিশ করে গত ২৩ এপ্রিল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ‘প্রত্যাহার সম্পর্কিত প্রতিবেদন’ পাঠান।

তবে এ বিষয়ে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক সৈয়দের মোদাররেছ আলী ইছা বলেন, “স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে, হত্যা ও নারী নির্যাতন মামলা রাজনৈতিক বিবেচনার আওতাভুক্ত নয়। আমি এ ধরনের কোনো আবেদন করিনি, আমার নাম কেন জুড়ে দেওয়া হয়েছে তা সুপারিশকারীরাই বলতে পারবেন।”

ভাঙ্গা উপজেলা আওয়ামী লীগ সূত্রে জানা যায়, ইমদাদুল হক ২০১২ সালে ভাঙ্গা পৌর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি নির্বাচিত হন এবং এখনো এই পদে বহাল আছেন। তবে গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তাকে ফরিদপুর-৪ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণা চালাতে দেখা গিয়েছিল।

অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) মিন্টু বিশ্বাস জানান, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ভুল করে আবেদনকারীর ঘরে সই করেছিলেন এবং তিন দফা যাচাই-বাছাইয়ের পর জেলা কমিটি সুপারিশপত্রটি পাঠিয়েছে, যা এখনো কার্যকর হয়নি।