বোরকা পরে এসে স্ত্রীর সামনে যুবদল নেতাকে গুলি করে হত্যা
- আপডেট সময় : ০৫:২২:৪৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ৬ জুলাই ২০২৫
- / 710
চট্টগ্রামের রাউজানে প্রকাশ্য দিবালোকে নিজ স্ত্রী ও কন্যার সামনে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে মো. সেলিম (৪০) নামে এক যুবদল নেতাকে। রোববার (৬ জুলাই, ২০২৫) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে রাউজান উপজেলার কদলপুর ইউনিয়নের ইশান ভট্টের হাট এলাকায় এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। নিহত সেলিম কদলপুর ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সচিব ছিলেন।
হত্যাকাণ্ডের বিস্তারিত
নিহত সেলিম প্রয়াত আমির হোসেনের পুত্র এবং দক্ষিণ শমসের পাড়া এলাকার বাসিন্দা। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, সেলিম তার স্ত্রী ফেরদৌস আকতার ও মেয়ে সাবরিনাকে সঙ্গে নিয়ে চাচি শাশুড়ির জানাজা শেষে নিজের খামারবাড়িতে ফিরছিলেন। পথে ইশান ভট্টের হাট এলাকায় ওষুধ কেনার জন্য মোটরসাইকেল থামানোর পরপরই একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা থেকে বোরকা পরা দুই অস্ত্রধারী বের হয়ে আসে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই তারা সেলিমকে খুব কাছ থেকে গুলি করে দ্রুত পালিয়ে যায়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, বোরকার আড়ালে থাকা হামলাকারীরা পুরুষ ছিলেন এবং তাদের মধ্যে একজন ছিল লম্বা ও স্বাস্থ্যবান। অটোরিকশায় আরও কয়েকজন হামলাকারী ছিল বলেও তারা জানান।
সেলিমের স্ত্রী ফেরদৌস আকতার ঘটনার বিভীষিকাময় বর্ণনা দিয়ে বলেন, “ওষুধ কিনে মোটরসাইকেলে উঠতেই গুলি করে পালিয়ে যায় ওরা। আশপাশে থাকা কেউ এগিয়ে আসেনি। পরে আমি ও কয়েকজন মিলে সিএনজিতে করে সেলিমকে হাসপাতালে নিয়ে যাই। কিন্তু চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।”
পুলিশের তদন্ত ও স্থানীয় প্রতিক্রিয়া
রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম ভূঁইয়া জানান, ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ হাসপাতালে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করেছে। সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ পাঠানো হয়েছে। তিনি আরও বলেন, এটি একটি পূর্বপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড হতে পারে, তবে এখনো হত্যার কারণ নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু হয়েছে।
জানা গেছে, নিহত সেলিম মুরগি ও গবাদিপশুর খামার পরিচালনার পাশাপাশি বালুর ব্যবসায়ও জড়িত ছিলেন। দিবালোকে প্রকাশ্যে এমন হত্যাকাণ্ডে এলাকাজুড়ে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয়দের মধ্যে দেখা দিয়েছে গভীর উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা।





















