ঢাকা ১২:০৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

৪০ হাজার কোটি টাকার পাচার হওয়া সম্পদের সন্ধান

দৈনিক জাগ্রত বাংলাদেশ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ১১:০৭:২৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৫
  • / 461

বাংলাদেশ থেকে অর্থ পাচার করে বিদেশে প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকার সম্পদ গড়ার চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সেল (সিআইসি)। রোববার (১৭ আগস্ট) প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে এই অনুসন্ধানের প্রাথমিক চিত্র তুলে ধরেন সিআইসি মহাপরিচালক আহসান হাবিব।

কী কী পাওয়া গেছে অনুসন্ধানে

সিআইসি-এর অনুসন্ধান অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত পাঁচটি দেশের সাতটি শহরে অনুসন্ধান চালিয়ে বাংলাদেশিদের পাচার করা প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকার সন্ধান মিলেছে। এই বিপুল পরিমাণ অর্থ দিয়ে ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নামে মোট ৩৪৬টি সম্পত্তি গড়ে তোলা হয়েছে বলে জানা গেছে।

এছাড়াও, টাকার বিনিময়ে নয়টি দেশে ৩৫২টি পাসপোর্ট অর্জনের তথ্যও পেয়েছে সিআইসি। এই দেশগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো অ্যান্টিগুয়া অ‍্যান্ড বারবুডা, অস্ট্রিয়া, ডমেনিকা, গ্রেনেডা, সেন্ট কিটস অ‍্যান্ড নেভিস এবং তুরস্ক।

সিআইসি এবং প্রধান উপদেষ্টার বক্তব্য

সিআইসি মহাপরিচালক আহসান হাবিব জানান, দেশগুলোতে সরেজমিনে পরিদর্শন করে এই তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে এবং এটি তাদের অনুসন্ধানের একটি ‘আংশিক চিত্র’ মাত্র। তিনি বলেন, পাচার হওয়া সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে দেশে ফিরিয়ে আনতে এবং জড়িতদের সাজা নিশ্চিত করতে ৬টিরও বেশি আন্তর্জাতিক সংস্থা বাংলাদেশকে সহযোগিতা করছে।

আহসান হাবিব আরও বলেন, শেখ হাসিনার আমলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ডেটাবেজ (CBS) থেকে বহু তথ্য মুছে ফেলা হলেও সিআইসি সেগুলো উদ্ধারে দক্ষতা অর্জন করেছে।

এই ভয়াবহ অর্থনৈতিক লুটপাটকে ‘দেশদ্রোহিতা’ হিসেবে উল্লেখ করে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, এমন দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে হবে যাতে ভবিষ্যতে কেউ দেশের সম্পদ লুট করতে না পারে। তিনি দুদক, সিআইসি এবং পুলিশের সিআইডিসহ সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে জোটবদ্ধ হয়ে কাজ করার নির্দেশ দেন।

৪০ হাজার কোটি টাকার পাচার হওয়া সম্পদের সন্ধান

আপডেট সময় : ১১:০৭:২৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৫

বাংলাদেশ থেকে অর্থ পাচার করে বিদেশে প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকার সম্পদ গড়ার চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সেল (সিআইসি)। রোববার (১৭ আগস্ট) প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে এই অনুসন্ধানের প্রাথমিক চিত্র তুলে ধরেন সিআইসি মহাপরিচালক আহসান হাবিব।

কী কী পাওয়া গেছে অনুসন্ধানে

সিআইসি-এর অনুসন্ধান অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত পাঁচটি দেশের সাতটি শহরে অনুসন্ধান চালিয়ে বাংলাদেশিদের পাচার করা প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকার সন্ধান মিলেছে। এই বিপুল পরিমাণ অর্থ দিয়ে ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নামে মোট ৩৪৬টি সম্পত্তি গড়ে তোলা হয়েছে বলে জানা গেছে।

এছাড়াও, টাকার বিনিময়ে নয়টি দেশে ৩৫২টি পাসপোর্ট অর্জনের তথ্যও পেয়েছে সিআইসি। এই দেশগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো অ্যান্টিগুয়া অ‍্যান্ড বারবুডা, অস্ট্রিয়া, ডমেনিকা, গ্রেনেডা, সেন্ট কিটস অ‍্যান্ড নেভিস এবং তুরস্ক।

সিআইসি এবং প্রধান উপদেষ্টার বক্তব্য

সিআইসি মহাপরিচালক আহসান হাবিব জানান, দেশগুলোতে সরেজমিনে পরিদর্শন করে এই তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে এবং এটি তাদের অনুসন্ধানের একটি ‘আংশিক চিত্র’ মাত্র। তিনি বলেন, পাচার হওয়া সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে দেশে ফিরিয়ে আনতে এবং জড়িতদের সাজা নিশ্চিত করতে ৬টিরও বেশি আন্তর্জাতিক সংস্থা বাংলাদেশকে সহযোগিতা করছে।

আহসান হাবিব আরও বলেন, শেখ হাসিনার আমলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ডেটাবেজ (CBS) থেকে বহু তথ্য মুছে ফেলা হলেও সিআইসি সেগুলো উদ্ধারে দক্ষতা অর্জন করেছে।

এই ভয়াবহ অর্থনৈতিক লুটপাটকে ‘দেশদ্রোহিতা’ হিসেবে উল্লেখ করে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, এমন দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে হবে যাতে ভবিষ্যতে কেউ দেশের সম্পদ লুট করতে না পারে। তিনি দুদক, সিআইসি এবং পুলিশের সিআইডিসহ সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে জোটবদ্ধ হয়ে কাজ করার নির্দেশ দেন।