ঢাকা ০১:৫৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তি নিয়ে ধোঁয়াশা: তেলের দামে বড় ধস

দৈনিক জাগ্রত বাংলাদেশ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ১২:৫৫:০১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬
  • / 28

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান পরোক্ষ আলোচনা ঘিরে একটি সম্ভাব্য শান্তি চুক্তির বিষয়ে নতুন করে আশার আলো দেখা গেলেও, উভয় পক্ষের পরস্পরবিরোধী বক্তব্যে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অনিশ্চয়তা আরও ঘনীভূত হয়েছে। সোমবার (২৫ মে) এক ঊর্ধ্বতন মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, যুদ্ধ বন্ধে সম্ভাব্য এই চুক্তির চূড়ান্ত অনুমোদন পেতে আরও কয়েক দিন সময় লেগে যেতে পারে।

বিশ্ববাজারে তেলের দামে বড় পতন:

এদিকে, দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দেশের মধ্যে আলোচনায় অগ্রগতির এই গুঞ্জনে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম তীব্রভাবে কমে গেছে। সোমবার বৈশ্বিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুডের দাম এক ধাক্কায় ৫ শতাংশের বেশি কমে ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৯৫ ডলারে নেমে আসে। তবে বাজার বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন, সংঘাত শুরু হওয়ার আগের তুলনায় তেলের দাম এখনও প্রায় ৩০ শতাংশ বেশি রয়েছে।

বক্তব্যে অমিল, নজর হরমুজ প্রণালীতে:

সম্ভাব্য চুক্তি নিয়ে মার্কিন ও ইরানি কর্মকর্তারা ভিন্নধর্মী বক্তব্য দিলেও উভয় পক্ষই একটি বিষয়ে একমত প্রকাশ করেছে। চুক্তিটি সফল হলে পারস্য উপসাগরের ভূ-রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জলপথ ‘হরমুজ প্রণালী’ পুনরায় স্বাভাবিক চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হতে পারে। বর্তমানে ইরান কার্যত এই কৌশলগত পথটি অবরোধ করে রাখায় বিশ্বজুড়ে তেল ও গ্যাস পরিবহন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

ট্রাম্পের রাজনৈতিক চাল ও সমালোচনা:

বিশ্লেষকদের মতে, সম্ভাব্য এই চুক্তি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্য একটি বড় রাজনৈতিক সুযোগ। এর মাধ্যমে তিনি দীর্ঘদিনের অজনপ্রিয় যুদ্ধ থেকে মার্কিন বাহিনীকে সরিয়ে নেওয়ার মোক্ষম সুযোগ পাবেন। তবে এর ফলে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিসহ বেশ কিছু স্পর্শকাতর ইস্যু ভবিষ্যৎ আলোচনার জন্য ঝুলে যেতে পারে।

সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প নিজের অবস্থান পরিষ্কার করে বলেন, চুক্তিটি হয় “চমৎকার ও অর্থবহ” হবে, নয়তো “কোনো চুক্তিই হবে না”। এর আগে রিপাবলিকান দলের প্রভাবশালী নেতাদের কাছ থেকে এই প্রস্তাবটি ইরানের প্রতি অতিরিক্ত নমনীয় বলে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েন তিনি।

তেহরানের অনড় অবস্থান:

অন্যদিকে, ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানিয়েছেন, তেহরান এখনও পারমাণবিক কর্মসূচির বিস্তারিত বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত আলোচনা করছে না। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “বেশিরভাগ বিষয়ে সিদ্ধান্তে পৌঁছানো গেলেও এখনই কেউ বলতে পারে না যে চুক্তি স্বাক্ষর আসন্ন।”

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন মার্কিন কর্মকর্তা সাংবাদিকদের জানান, চুক্তিটি এখনও ড্রাফটিং বা চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। তবে এটি কার্যকর করতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনেইয়ের সরাসরি অনুমোদনের প্রয়োজন হবে।

ইসরায়েলের উদ্বেগ ও মধ্যস্থতাকারীদের দৌড়ঝাঁপ:

গত কয়েক সপ্তাহে ট্রাম্পের কখনো হামলার হুমকি, আবার কখনো সমঝোতার দাবির পর শনিবার তিনি দাবি করেন, দুই দেশ “শান্তি সম্পর্কিত” একটি সমঝোতা স্মারকের বেশিরভাগ বিষয়ে একমত হয়েছে। তবে এই সম্ভাব্য চুক্তিকে ঘিরে ইসরায়েলে গভীর উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। দেশটির রাজনীতিবিদদের আশঙ্কা, এই সমঝোতা ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা কার্যকরভাবে সীমিত করতে ব্যর্থ হতে পারে। একই সাথে লেবাননে ইসরায়েল ও ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর মধ্যে তুমুল সংঘর্ষ চলমান থাকায় এই চুক্তি কতটা শান্তি আনবে তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

এই বৈশ্বিক সংকট নিরসনে কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়িয়েছে মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তান। সোমবার পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ চীনের বেইজিংয়ে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেছেন। চীন ইরানের তেলের সবচেয়ে বড় ক্রেতা হওয়ায় এই বৈঠকটিকে আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তি নিয়ে ধোঁয়াশা: তেলের দামে বড় ধস

আপডেট সময় : ১২:৫৫:০১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান পরোক্ষ আলোচনা ঘিরে একটি সম্ভাব্য শান্তি চুক্তির বিষয়ে নতুন করে আশার আলো দেখা গেলেও, উভয় পক্ষের পরস্পরবিরোধী বক্তব্যে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অনিশ্চয়তা আরও ঘনীভূত হয়েছে। সোমবার (২৫ মে) এক ঊর্ধ্বতন মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, যুদ্ধ বন্ধে সম্ভাব্য এই চুক্তির চূড়ান্ত অনুমোদন পেতে আরও কয়েক দিন সময় লেগে যেতে পারে।

বিশ্ববাজারে তেলের দামে বড় পতন:

এদিকে, দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দেশের মধ্যে আলোচনায় অগ্রগতির এই গুঞ্জনে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম তীব্রভাবে কমে গেছে। সোমবার বৈশ্বিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুডের দাম এক ধাক্কায় ৫ শতাংশের বেশি কমে ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৯৫ ডলারে নেমে আসে। তবে বাজার বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন, সংঘাত শুরু হওয়ার আগের তুলনায় তেলের দাম এখনও প্রায় ৩০ শতাংশ বেশি রয়েছে।

বক্তব্যে অমিল, নজর হরমুজ প্রণালীতে:

সম্ভাব্য চুক্তি নিয়ে মার্কিন ও ইরানি কর্মকর্তারা ভিন্নধর্মী বক্তব্য দিলেও উভয় পক্ষই একটি বিষয়ে একমত প্রকাশ করেছে। চুক্তিটি সফল হলে পারস্য উপসাগরের ভূ-রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জলপথ ‘হরমুজ প্রণালী’ পুনরায় স্বাভাবিক চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হতে পারে। বর্তমানে ইরান কার্যত এই কৌশলগত পথটি অবরোধ করে রাখায় বিশ্বজুড়ে তেল ও গ্যাস পরিবহন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

ট্রাম্পের রাজনৈতিক চাল ও সমালোচনা:

বিশ্লেষকদের মতে, সম্ভাব্য এই চুক্তি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্য একটি বড় রাজনৈতিক সুযোগ। এর মাধ্যমে তিনি দীর্ঘদিনের অজনপ্রিয় যুদ্ধ থেকে মার্কিন বাহিনীকে সরিয়ে নেওয়ার মোক্ষম সুযোগ পাবেন। তবে এর ফলে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিসহ বেশ কিছু স্পর্শকাতর ইস্যু ভবিষ্যৎ আলোচনার জন্য ঝুলে যেতে পারে।

সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প নিজের অবস্থান পরিষ্কার করে বলেন, চুক্তিটি হয় “চমৎকার ও অর্থবহ” হবে, নয়তো “কোনো চুক্তিই হবে না”। এর আগে রিপাবলিকান দলের প্রভাবশালী নেতাদের কাছ থেকে এই প্রস্তাবটি ইরানের প্রতি অতিরিক্ত নমনীয় বলে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েন তিনি।

তেহরানের অনড় অবস্থান:

অন্যদিকে, ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানিয়েছেন, তেহরান এখনও পারমাণবিক কর্মসূচির বিস্তারিত বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত আলোচনা করছে না। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “বেশিরভাগ বিষয়ে সিদ্ধান্তে পৌঁছানো গেলেও এখনই কেউ বলতে পারে না যে চুক্তি স্বাক্ষর আসন্ন।”

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন মার্কিন কর্মকর্তা সাংবাদিকদের জানান, চুক্তিটি এখনও ড্রাফটিং বা চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। তবে এটি কার্যকর করতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনেইয়ের সরাসরি অনুমোদনের প্রয়োজন হবে।

ইসরায়েলের উদ্বেগ ও মধ্যস্থতাকারীদের দৌড়ঝাঁপ:

গত কয়েক সপ্তাহে ট্রাম্পের কখনো হামলার হুমকি, আবার কখনো সমঝোতার দাবির পর শনিবার তিনি দাবি করেন, দুই দেশ “শান্তি সম্পর্কিত” একটি সমঝোতা স্মারকের বেশিরভাগ বিষয়ে একমত হয়েছে। তবে এই সম্ভাব্য চুক্তিকে ঘিরে ইসরায়েলে গভীর উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। দেশটির রাজনীতিবিদদের আশঙ্কা, এই সমঝোতা ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা কার্যকরভাবে সীমিত করতে ব্যর্থ হতে পারে। একই সাথে লেবাননে ইসরায়েল ও ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর মধ্যে তুমুল সংঘর্ষ চলমান থাকায় এই চুক্তি কতটা শান্তি আনবে তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

এই বৈশ্বিক সংকট নিরসনে কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়িয়েছে মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তান। সোমবার পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ চীনের বেইজিংয়ে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেছেন। চীন ইরানের তেলের সবচেয়ে বড় ক্রেতা হওয়ায় এই বৈঠকটিকে আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।