ঢাকা ১১:৩৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৫ মে ২০২৬, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাসায় ঢুকে বিচারকের ছেলেকে কুপিয়ে হত্যা, স্ত্রী জখম

দৈনিক জাগ্রত বাংলাদেশ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ১০:৩০:৩১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ নভেম্বর ২০২৫
  • / 659

রাজশাহীতে মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক মোহাম্মদ আবদুর রহমানের ভাড়া বাসায় ঢুকে তাঁর ছেলে তাওসিফ রহমান ওরফে সুমনকে (২২) ছুরিকাঘাতে হত্যা করেছে এক যুবক। এ সময় হামলাকারীর ছুরিকাঘাতে বিচারকের স্ত্রী তাসমিন নাহারও (৪৪) গুরুতর আহত হন। এই ঘটনায় অভিযুক্ত লিমন মিয়াকে (৩৫) আটক করে পুলিশ হাসপাতালে ভর্তি করেছে।

আজ বৃহস্পতিবার বেলা আড়াইটার পর রাজশাহী নগরের ডাবতলা এলাকায় এই চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

পূর্ব বিরোধ ও জিডি

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নিহত পরিবারটির সঙ্গে আটক লিমনের পূর্ব থেকেই বিরোধ ছিল এবং লিমন পরিবারটিকে হত্যার হুমকি দিয়েছিলেন।

হুমকির অভিযোগ: লিমন মিয়া পরিবারটিকে হত্যার হুমকি দেওয়ার পর গত ৬ নভেম্বর বিচারকের স্ত্রী তাসমিন নাহার সিলেটের জালালাবাদ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছিলেন।

জিডিতে যা ছিল: জিডিতে তাসমিন নাহার উল্লেখ করেন, কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের সদস্য হওয়ার সূত্রে লিমনের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়েছিল। লিমন আর্থিকভাবে দুর্বলতার কথা বলে প্রায়ই আর্থিক সহযোগিতা চাইতেন। সহযোগিতা দিতে অপারগতা প্রকাশ করায় লিমন মুঠোফোনে হুমকি দিতেন। সবশেষ ৩ নভেম্বর তিনি তাসমিন নাহারের মেয়েকে ফেসবুক ম্যাসেঞ্জারে কল দিয়ে পুরো পরিবারকে হত্যার হুমকি দেন।

সিলেটের ঘটনা: জালালাবাদ থানার ওসি জানান, ওই যুবক দীর্ঘদিন ধরে ম্যাডামকে বিরক্ত করে ব্ল্যাকমেল করার চেষ্টা করছিল। ম্যাডাম সিলেটে এলে লিমনও সেখানে গিয়ে অপ্রীতিকর অবস্থার সৃষ্টি করলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা তাকে ধরে পুলিশে দেয়। জিডির কারণে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার না করে সন্দেহভাজন হিসেবে আদালতে পাঠিয়েছিল।

হামলার বিবরণ ও অনুপ্রবেশ

প্রবেশের কৌশল: ভবনের দারোয়ান মেসের আলী জানান, হামলাকারী লিমন মিয়া নিজেকে ‘বিচারকের ভাই’ পরিচয় দিয়ে ভবনে প্রবেশ করেন। তবে দারোয়ান খাতায় তাঁর নাম ও মুঠোফোন নম্বর লিখে নিয়েছিলেন।

আক্রমণ: বেলা আড়াইটার দিকে লিমন ফ্ল্যাটে প্রবেশ করেন। প্রায় ৩০ মিনিট পর গৃহকর্মী অন্যদের জানান, ফ্ল্যাটে বিচারকের ছেলে ও স্ত্রীকে কুপিয়ে আহত করা হয়েছে। পরে অন্য ফ্ল্যাটের বাসিন্দারা তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।

পুলিশের প্রাথমিক মন্তব্য

হত্যাকাণ্ডের খবর পেয়ে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) কমিশনার মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

কমিশনারের মন্তব্য: তিনি সাংবাদিকদের বলেন, হামলাকারী ব্যক্তির পকেটে একটি ড্রাইভিং লাইসেন্স পাওয়া গেছে, ধারণা করা হচ্ছে তিনি চালক। তাঁদের মধ্যে পূর্ববিরোধ থাকতে পারে। তবে কেন এই ঘটনা ঘটেছে, তা বিস্তারিত তদন্ত ছাড়া বলা যাচ্ছে না।

বাসায় ঢুকে বিচারকের ছেলেকে কুপিয়ে হত্যা, স্ত্রী জখম

আপডেট সময় : ১০:৩০:৩১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ নভেম্বর ২০২৫

রাজশাহীতে মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক মোহাম্মদ আবদুর রহমানের ভাড়া বাসায় ঢুকে তাঁর ছেলে তাওসিফ রহমান ওরফে সুমনকে (২২) ছুরিকাঘাতে হত্যা করেছে এক যুবক। এ সময় হামলাকারীর ছুরিকাঘাতে বিচারকের স্ত্রী তাসমিন নাহারও (৪৪) গুরুতর আহত হন। এই ঘটনায় অভিযুক্ত লিমন মিয়াকে (৩৫) আটক করে পুলিশ হাসপাতালে ভর্তি করেছে।

আজ বৃহস্পতিবার বেলা আড়াইটার পর রাজশাহী নগরের ডাবতলা এলাকায় এই চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

পূর্ব বিরোধ ও জিডি

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নিহত পরিবারটির সঙ্গে আটক লিমনের পূর্ব থেকেই বিরোধ ছিল এবং লিমন পরিবারটিকে হত্যার হুমকি দিয়েছিলেন।

হুমকির অভিযোগ: লিমন মিয়া পরিবারটিকে হত্যার হুমকি দেওয়ার পর গত ৬ নভেম্বর বিচারকের স্ত্রী তাসমিন নাহার সিলেটের জালালাবাদ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছিলেন।

জিডিতে যা ছিল: জিডিতে তাসমিন নাহার উল্লেখ করেন, কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের সদস্য হওয়ার সূত্রে লিমনের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়েছিল। লিমন আর্থিকভাবে দুর্বলতার কথা বলে প্রায়ই আর্থিক সহযোগিতা চাইতেন। সহযোগিতা দিতে অপারগতা প্রকাশ করায় লিমন মুঠোফোনে হুমকি দিতেন। সবশেষ ৩ নভেম্বর তিনি তাসমিন নাহারের মেয়েকে ফেসবুক ম্যাসেঞ্জারে কল দিয়ে পুরো পরিবারকে হত্যার হুমকি দেন।

সিলেটের ঘটনা: জালালাবাদ থানার ওসি জানান, ওই যুবক দীর্ঘদিন ধরে ম্যাডামকে বিরক্ত করে ব্ল্যাকমেল করার চেষ্টা করছিল। ম্যাডাম সিলেটে এলে লিমনও সেখানে গিয়ে অপ্রীতিকর অবস্থার সৃষ্টি করলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা তাকে ধরে পুলিশে দেয়। জিডির কারণে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার না করে সন্দেহভাজন হিসেবে আদালতে পাঠিয়েছিল।

হামলার বিবরণ ও অনুপ্রবেশ

প্রবেশের কৌশল: ভবনের দারোয়ান মেসের আলী জানান, হামলাকারী লিমন মিয়া নিজেকে ‘বিচারকের ভাই’ পরিচয় দিয়ে ভবনে প্রবেশ করেন। তবে দারোয়ান খাতায় তাঁর নাম ও মুঠোফোন নম্বর লিখে নিয়েছিলেন।

আক্রমণ: বেলা আড়াইটার দিকে লিমন ফ্ল্যাটে প্রবেশ করেন। প্রায় ৩০ মিনিট পর গৃহকর্মী অন্যদের জানান, ফ্ল্যাটে বিচারকের ছেলে ও স্ত্রীকে কুপিয়ে আহত করা হয়েছে। পরে অন্য ফ্ল্যাটের বাসিন্দারা তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।

পুলিশের প্রাথমিক মন্তব্য

হত্যাকাণ্ডের খবর পেয়ে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) কমিশনার মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

কমিশনারের মন্তব্য: তিনি সাংবাদিকদের বলেন, হামলাকারী ব্যক্তির পকেটে একটি ড্রাইভিং লাইসেন্স পাওয়া গেছে, ধারণা করা হচ্ছে তিনি চালক। তাঁদের মধ্যে পূর্ববিরোধ থাকতে পারে। তবে কেন এই ঘটনা ঘটেছে, তা বিস্তারিত তদন্ত ছাড়া বলা যাচ্ছে না।