ঢাকা ০৭:২৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৫ মে ২০২৬, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মাদকের জালে পুলিশের রাঘববোয়াল! ওসি-এসআইদের ইয়াবা ও বিপুল সম্পদ

দৈনিক জাগ্রত বাংলাদেশ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ০৮:৫৬:৩২ অপরাহ্ন, শনিবার, ৬ ডিসেম্বর ২০২৫
  • / 455

দেশের মাদক পাচার সিন্ডিকেটে চট্টগ্রাম রেলওয়ে পুলিশের এক শক্তিশালী নেটওয়ার্ক গড়ে উঠেছে। রেলওয়ে থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি), উপপরিদর্শক (এসআই) সহ একাধিক সদস্যের বিরুদ্ধে ইয়াবা পাচার ও এর টাকায় বিপুল অবৈধ সম্পদ গড়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। পুলিশ সদস্যদের জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়ায় ইতিমধ্যে কয়েকজনকে বদলি করা হয়েছে এবং গ্রেপ্তারও হয়েছেন কেউ কেউ।

রেলওয়ে পুলিশের প্রধান অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক মো. জিল্লুর রহমান জানিয়েছেন, মাদকের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা পাওয়ায় কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং যাঁদের বাড়ি চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার জেলায়, তাঁদের চট্টগ্রাম রেলওয়ে জেলা পুলিশে না রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

গ্রেপ্তার ও ইয়াবা পাচারের চাঞ্চল্যকর ঘটনা

সম্প্রতি রেলওয়ে পুলিশের বেশ কয়েকজন সদস্য ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার হয়েছেন।

এসআই মিজানুর রহমান: গত ২৪ নভেম্বর চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশন থেকে আট হাজার ইয়াবা বড়িসহ গোয়েন্দা পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হন এসআই মিজানুর রহমান। তবে, রেলওয়ে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার অনুরোধে মামলায় তাঁর পুলিশ কর্মকর্তার পরিচয় উল্লেখ করা হয়নি।

মো. মহিবুর রহমান: চট্টগ্রাম রেলওয়ে জেলা পুলিশের সদস্য মো. মহিবুর রহমান পদোন্নতি পরীক্ষার কথা বলে ছুটিতে গিয়ে গত ১২ অক্টোবর ১০ হাজার ইয়াবা বড়িসহ যশোরে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের হাতে গ্রেপ্তার হন।

অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদের অভিযোগ

মাদকের টাকায় পুলিশের বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা বিপুল বিত্ত-বৈভবের মালিক হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে:

অভিযুক্ত কর্মকর্তা পদ ও কর্মস্থল অভিযোগ/সম্পত্তি
এস এম শহিদুল ইসলাম সাবেক ওসি, চট্টগ্রাম রেলওয়ে থানা মাদকের টাকায় চট্টগ্রামের পাহাড়তলীতে পাঁচতলা বাড়ি, গ্রামের বাড়ি আনোয়ারায় বিপুল সম্পদ।
মো. দস্তগির হোসেন এসআই, চট্টগ্রাম রেলওয়ে থানা চন্দনাইশে ডুপ্লেক্স বাড়ি নির্মাণ, কক্সবাজারে সী শার্ক রিসোর্ট নামে প্রায় ৪ কোটি টাকার আবাসিক হোটেল।

ইয়াবা কম দেখিয়ে বিক্রির অভিযোগ

চট্টগ্রাম রেলওয়ে থানার আরেক এসআই আরব আলীর বিরুদ্ধে মাদক নেটওয়ার্কে জড়িত থাকার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

২০ হাজার ইয়াবা গায়েব: চলতি বছরের ২৫ জুন ষোলশহর স্টেশনে ‘কক্সবাজার এক্সপ্রেস’ ট্রেন থেকে আসাদুজ্জামান নামের একজনকে ২০ হাজার ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার করেন আরব আলী। অভিযোগ উঠেছে, আদালতে জমা দেওয়ার সময় সেই সংখ্যা ১ হাজার ২০০ দেখানো হয় এবং বাকি ইয়াবা তিনি বিক্রি করে দেন।

আসামির স্বীকারোক্তি: আদালতে আসামি আসাদুজ্জামান নিজেই ২০ হাজার ইয়াবার কথা স্বীকার করেন। যদিও আরব আলী এই অভিযোগ মিথ্যা বলে দাবি করেছেন।

নজরদারির অভাব ও র‍্যাবে গণবদলির ঘটনা

কঠোর নজরদারি না থাকায় পুলিশের কিছু সদস্য মাদকের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছেন, ফলে ট্রেনে মাদক পাচার প্রতিরোধ করা যাচ্ছে না বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মনে করছেন।

র‍্যাব-১৫ তে গণবদলির ঘটনা: মাদক পাচার ও আর্থিক কেলেঙ্কারির অভিযোগে সম্প্রতি (১৯ থেকে ২৭ নভেম্বর) কক্সবাজার ও বান্দরবান নিয়ে গঠিত র‍্যাব-১৫-এর অধিনায়কসহ চার শতাধিক সদস্যকে একযোগে বদলি করা হয়েছে। যদিও র‍্যাব এটিকে নিয়মিত বদলির অংশ বলছে।

স্ক্যানার অকার্যকর: মাদক পাচার প্রতিরোধে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার রেলস্টেশনে স্ক্যানার বসানো হলেও জনবলের অভাবে তা পুরোদমে চালু করা যাচ্ছে না।

রেলওয়ে পুলিশের প্রধান মো. জিল্লুর রহমান বলেন, রেলওয়ে পুলিশে নজরদারি জোরদার করতে কক্সবাজার রেলস্টেশনে একটি রেলওয়ে থানা স্থাপনের সুপারিশ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।

মাদকের জালে পুলিশের রাঘববোয়াল! ওসি-এসআইদের ইয়াবা ও বিপুল সম্পদ

আপডেট সময় : ০৮:৫৬:৩২ অপরাহ্ন, শনিবার, ৬ ডিসেম্বর ২০২৫

দেশের মাদক পাচার সিন্ডিকেটে চট্টগ্রাম রেলওয়ে পুলিশের এক শক্তিশালী নেটওয়ার্ক গড়ে উঠেছে। রেলওয়ে থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি), উপপরিদর্শক (এসআই) সহ একাধিক সদস্যের বিরুদ্ধে ইয়াবা পাচার ও এর টাকায় বিপুল অবৈধ সম্পদ গড়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। পুলিশ সদস্যদের জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়ায় ইতিমধ্যে কয়েকজনকে বদলি করা হয়েছে এবং গ্রেপ্তারও হয়েছেন কেউ কেউ।

রেলওয়ে পুলিশের প্রধান অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক মো. জিল্লুর রহমান জানিয়েছেন, মাদকের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা পাওয়ায় কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং যাঁদের বাড়ি চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার জেলায়, তাঁদের চট্টগ্রাম রেলওয়ে জেলা পুলিশে না রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

গ্রেপ্তার ও ইয়াবা পাচারের চাঞ্চল্যকর ঘটনা

সম্প্রতি রেলওয়ে পুলিশের বেশ কয়েকজন সদস্য ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার হয়েছেন।

এসআই মিজানুর রহমান: গত ২৪ নভেম্বর চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশন থেকে আট হাজার ইয়াবা বড়িসহ গোয়েন্দা পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হন এসআই মিজানুর রহমান। তবে, রেলওয়ে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার অনুরোধে মামলায় তাঁর পুলিশ কর্মকর্তার পরিচয় উল্লেখ করা হয়নি।

মো. মহিবুর রহমান: চট্টগ্রাম রেলওয়ে জেলা পুলিশের সদস্য মো. মহিবুর রহমান পদোন্নতি পরীক্ষার কথা বলে ছুটিতে গিয়ে গত ১২ অক্টোবর ১০ হাজার ইয়াবা বড়িসহ যশোরে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের হাতে গ্রেপ্তার হন।

অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদের অভিযোগ

মাদকের টাকায় পুলিশের বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা বিপুল বিত্ত-বৈভবের মালিক হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে:

অভিযুক্ত কর্মকর্তা পদ ও কর্মস্থল অভিযোগ/সম্পত্তি
এস এম শহিদুল ইসলাম সাবেক ওসি, চট্টগ্রাম রেলওয়ে থানা মাদকের টাকায় চট্টগ্রামের পাহাড়তলীতে পাঁচতলা বাড়ি, গ্রামের বাড়ি আনোয়ারায় বিপুল সম্পদ।
মো. দস্তগির হোসেন এসআই, চট্টগ্রাম রেলওয়ে থানা চন্দনাইশে ডুপ্লেক্স বাড়ি নির্মাণ, কক্সবাজারে সী শার্ক রিসোর্ট নামে প্রায় ৪ কোটি টাকার আবাসিক হোটেল।

ইয়াবা কম দেখিয়ে বিক্রির অভিযোগ

চট্টগ্রাম রেলওয়ে থানার আরেক এসআই আরব আলীর বিরুদ্ধে মাদক নেটওয়ার্কে জড়িত থাকার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

২০ হাজার ইয়াবা গায়েব: চলতি বছরের ২৫ জুন ষোলশহর স্টেশনে ‘কক্সবাজার এক্সপ্রেস’ ট্রেন থেকে আসাদুজ্জামান নামের একজনকে ২০ হাজার ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার করেন আরব আলী। অভিযোগ উঠেছে, আদালতে জমা দেওয়ার সময় সেই সংখ্যা ১ হাজার ২০০ দেখানো হয় এবং বাকি ইয়াবা তিনি বিক্রি করে দেন।

আসামির স্বীকারোক্তি: আদালতে আসামি আসাদুজ্জামান নিজেই ২০ হাজার ইয়াবার কথা স্বীকার করেন। যদিও আরব আলী এই অভিযোগ মিথ্যা বলে দাবি করেছেন।

নজরদারির অভাব ও র‍্যাবে গণবদলির ঘটনা

কঠোর নজরদারি না থাকায় পুলিশের কিছু সদস্য মাদকের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছেন, ফলে ট্রেনে মাদক পাচার প্রতিরোধ করা যাচ্ছে না বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মনে করছেন।

র‍্যাব-১৫ তে গণবদলির ঘটনা: মাদক পাচার ও আর্থিক কেলেঙ্কারির অভিযোগে সম্প্রতি (১৯ থেকে ২৭ নভেম্বর) কক্সবাজার ও বান্দরবান নিয়ে গঠিত র‍্যাব-১৫-এর অধিনায়কসহ চার শতাধিক সদস্যকে একযোগে বদলি করা হয়েছে। যদিও র‍্যাব এটিকে নিয়মিত বদলির অংশ বলছে।

স্ক্যানার অকার্যকর: মাদক পাচার প্রতিরোধে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার রেলস্টেশনে স্ক্যানার বসানো হলেও জনবলের অভাবে তা পুরোদমে চালু করা যাচ্ছে না।

রেলওয়ে পুলিশের প্রধান মো. জিল্লুর রহমান বলেন, রেলওয়ে পুলিশে নজরদারি জোরদার করতে কক্সবাজার রেলস্টেশনে একটি রেলওয়ে থানা স্থাপনের সুপারিশ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।