তুলে নিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ ‘কলেজছাত্রীর’, আলামত পাননি চিকিৎসক ও পুলিশ
- আপডেট সময় : ০৩:১৫:৪৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ ডিসেম্বর ২০২৫
- / 550
শরীয়তপুর সরকারি কলেজের অনার্স প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী পরিচয় দেওয়া এক তরুণী অভিযোগ করেন, পরীক্ষা শেষে বাড়ি ফেরার সময় সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছেন তিনি। ঘটনাটি ঘটে মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর) জেলা শহরের বনবিভাগ কার্যালয়ের পাশের নির্জন এলাকায়। পরে তাকে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং চিকিৎসকের পরামর্শে মেডিকেল পরীক্ষা সম্পন্ন হয়।
🔹চিকিৎসকের দাবি: ধর্ষণের কোনও আলামত নেই
শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. হাবিবুর রহমান জানান, মেডিকেল পরীক্ষায় ধর্ষণের কোনো আলামত পাওয়া যায়নি। তিনি বলেন, “তরুণীটি শারীরিকভাবে সুস্থ রয়েছে এবং এখনও হাসপাতালে ভর্তি আছে।”
🔹পুলিশ: তরুণী কলেজ শিক্ষার্থী নন, প্রাথমিক তথ্য ভিন্ন
পালং মডেল থানা পুলিশ জানিয়েছে, তদন্তে জানা গেছে—তরুণী কলেজ শিক্ষার্থী নন; তার বিয়ে হয়েছে এবং দুটি সন্তান রয়েছে। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, তরুণী বন্ধুদের সঙ্গে বাইরে গিয়েছিলেন এবং ফেরার পথে কেউ তাকে মারধর করেছে বলে তিনি জানিয়েছেন। তবে তিনি পুলিশকে সরাসরি ধর্ষণের ঘটনা অস্বীকার করেছেন।
অন্যদিকে, পুলিশের বক্তব্য—মেডিকেল রিপোর্টেও ধর্ষণের কোনো আলামত পাওয়া যায়নি। তরুণী নিজেও বিভিন্ন গণমাধ্যমকে জানান যে তাকে ধর্ষণ করা হয়নি।
🔹ঘটনার সময় সঙ্গে থাকা সহপাঠীকেও মারধরের অভিযোগ
তরুণীর দাবি, তার সঙ্গে থাকা সহপাঠীকেও আটকে রেখে মারধর করা হয়। তাদের পথরোধ করে কয়েকজন যুবক জোর করে বনবিভাগের ভেতরে নিয়ে যায়। সেখানে সহপাঠীর মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয় এবং তাকে মারধর করা হয়। তরুণীর অভিযোগ—তিন যুবক পালাক্রমে তাকে ধর্ষণ করে এবং প্রায় দুই ঘণ্টা আটকে রেখে ভয়ভীতি দেখিয়ে সড়কে ছেড়ে দেয়।
🔹ঘটনাস্থলে উপস্থিত আরও কয়েকজনকে দেখার দাবি
ভুক্তভোগী আরও জানান, ঘটনাস্থলে দুইজন নারী দাঁড়িয়ে ছিলেন, তারা কিছু বলেননি। এমনকি ভিতরে আরও কয়েকজন কর্মকর্তা ছিলেন বলে তার অভিযোগ, কিন্তু কেউ তাকে বাঁচাতে এগিয়ে আসেননি।
🔹স্থানীয়ের সাক্ষ্য: সন্দেহজনকভাবে মেয়েটিকে নিয়ে আসতে দেখেছি
স্থানীয় শাহাবুদ্দিন জানান, “বাসায় ফেরার পথে দেখি কয়েকজন যুবক এক মেয়েকে নিয়ে বনবিভাগের দিক থেকে আসছে। মেয়েটি ভীত ছিল। তার সঙ্গে থাকা একটি ছেলে ইশারা করলে বুঝতে পারি তারা সমস্যায় পড়েছে। জিজ্ঞেস করতেই অভিযুক্তরা দৌড়ে পালিয়ে যায়।”





















