অনুমতিহীন পশুর হাট: ফরিদপুরে লাখ টাকার খাজনা লুটছে চক্র
- আপডেট সময় : ০৯:৫৬:৩১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৫ মে ২০২৬
- / 104
ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলায় প্রশাসনের কোনো ধরনের বৈধ অনুমতি বা ইজারা ছাড়াই সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে পশুর হাট বসিয়ে লাখ লাখ টাকা খাজনা (টোল) আদায়ের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে একটি প্রভাবশালী স্থানীয় চক্রের বিরুদ্ধে। সোমবার (২৫ মে) দুপুর ৩টার দিকে উপজেলার ঢেউখালী ইউনিয়নের পিয়াজখালী বাজার এলাকায় এই অবৈধ পশুর হাট বসানোর ঘটনা ঘটে।
অনুমতিহীন হাট ও লাখ টাকার খাজনা লুট:
স্থানীয় ভুক্তভোগী ও নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, ঢেউখালী এলাকার হান্নান চাকলাদার নামে এক প্রভাবশালী ব্যক্তি এবং তার একটি বিশেষ সহযোগী চক্র কোনো ধরনের সরকারি দরপত্র বা প্রশাসনের অনুমতি ছাড়াই আসন্ন কোরবানি ঈদকে সামনে রেখে এই পশুর হাট পরিচালনা করছেন। হাটে দূর-দূরান্ত থেকে আসা গরু-মহিষের ব্যবসায়ী ও সাধারণ ক্রেতাদের জিম্মি করে মোটা অঙ্কের খাজনা হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলেও সুনির্দিষ্ট অভিযোগ উঠেছে।
এলাকাবাসীর দাবি, সরকারি নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করেই দীর্ঘদিন ধরে এই প্রভাবশালী চক্রটি এলাকায় আধিপত্য বিস্তার করে এ ধরনের অবৈধ কার্যক্রম চালিয়ে আসছে। এর ফলে একদিকে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে, অন্যদিকে সাধারণ ব্যবসায়ী ও সাধারণ ক্রেতারা ওই চক্রের অতিরিক্ত খাজনার চাপে পিষ্ট হচ্ছেন।
অভিযুক্তের পলায়নপর নীতি:
লুটপাটের এই চাঞ্চল্যকর বিষয়ে বক্তব্য নেওয়ার জন্য অভিযুক্ত হান্নান চাকলাদারের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল দেওয়া হয়। তবে সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে তিনি ফোন রিসিভ করেননি, যার ফলে তার কোনো মন্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।
তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস:প্রশাসনের চোখে ধুলো দিয়ে এই অবৈধ হাট পরিচালনার বিষয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সচেতন মহল। জানতে চাইলে সদরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শরীফ শাওন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, পিয়াজখালী বাজারে কোনো পশুর হাট বসানোর অনুমতি উপজেলা প্রশাসন থেকে দেওয়া হয়নি।
ইউএনও আরও বলেন, “উনারা জেলা প্রশাসকের (ডিসি) বরাবর একটি আবেদন করেছেন বলে জানতে পেরেছি। তবে অনুমতি পাওয়ার আগেই হাট বসানো সম্পূর্ণ বেআইনি। পুরো বিষয়টি আমরা অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখছি এবং খুব দ্রুতই তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”




















