ঢাকা ০৮:২৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হলো ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ও গণভোট

দৈনিক জাগ্রত বাংলাদেশ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ০৫:১৯:৪৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / 72

উৎসবমুখর এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশে শেষ হলো দেশের বহুল প্রতীক্ষিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ঐতিহাসিক মহোৎসব। আজ বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে শুরু হয়ে বিরতিহীনভাবে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত সারা দেশে ভোটগ্রহণ চলে। রাজধানীর কেন্দ্রগুলোসহ দেশের কোথাও বড় ধরনের কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।

ভোটগ্রহণের সময়সীমা ও নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা

নির্বাচন কমিশনের (ইসি) পূর্বনির্ধারিত ঘোষণা অনুযায়ী, বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণের সময় নির্ধারিত ছিল। তবে প্রিসাইডিং কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্যমতে, যারা বিকেল সাড়ে ৪টার মধ্যে ভোটকেন্দ্রের লাইনে দাঁড়িয়েছিলেন, তাদের প্রত্যেকের ভোট গ্রহণ নিশ্চিত করা হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী, সাড়ে ৪টার পর নতুন করে কেউ আর লাইনে দাঁড়ানোর সুযোগ পাননি।

রাজধানীর একটি কেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা জানান, “লাইনে থাকা অবস্থায় সময় পার হয়ে গেলেও ভোটারদের হতাশ হওয়ার কারণ নেই। কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা লাইনে দাঁড়ানো শেষ ভোটারটির ভোটও গ্রহণ করেছি।”

নারী ভোটারদের উপচেপড়া ভিড় ও ভোট কাস্টিং

নির্বাচনে সাধারণ ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ছিল চোখে পড়ার মতো। বিশেষ করে রাজধানীর গুলশান, বনানী ও ধানমণ্ডি এলাকার কেন্দ্রগুলোতে নারী ভোটারদের দীর্ঘ লাইন ও উচ্ছ্বাস লক্ষ্য করা গেছে।

দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের পরিসংখ্যান অনুযায়ী:

বেলা ১১টার মধ্যেই অনেক কেন্দ্রে ২০ থেকে ২৫ শতাংশ ভোট কাস্টিং সম্পন্ন হয়।

বনানীর ৫১ নম্বর কেন্দ্রে দুপুর সাড়ে ১১টা পর্যন্ত মোট ৩ হাজার ৫১০টি ভোটের বিপরীতে পড়ে ৭৯৫টি ভোট, যা মোট ভোটের ২২ শতাংশ।

নির্বাচনের গুরুত্বপূর্ণ পরিসংখ্যান

এবারের নির্বাচনে দেশের ২৯৯টি সংসদীয় আসনে ব্যালট পেপারের মাধ্যমে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শেরপুর-৩ আসনের প্রার্থীর মৃত্যুতে সেখানকার নির্বাচন স্থগিত থাকলেও বাকি আসনে ৫১টি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল লড়াই করেছে।

একনজরে প্রার্থীর সংখ্যা:

মোট প্রার্থী: ২,০৩৪ জন।

স্বতন্ত্র প্রার্থী: ২৭৫ জন।

প্রধান দলগুলোর প্রার্থী সংখ্যা: * বিএনপি: ২৯১ জন

ইসলামী আন্দোলন: ২৫৮ জন

জামায়াতে ইসলামী: ২২৯ জন

জাতীয় পার্টি: ১৯৮ জন

জাতীয় নাগরিক পার্টি (শাপলা কলি প্রতীক): ৩২ জন

ভোটার ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা

১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৮৯৯ জন ভোটারের এই বিশাল কর্মযজ্ঞ সামলাতে দেশজুড়ে নেওয়া হয়েছিল নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

মোট ভোটার: পুরুষ ৬ কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার ১৫৪ জন এবং নারী ৬ কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ৫২৫ জন।

নিরাপত্তা বাহিনী: সেনাবাহিনী, বিজিবি, র‍্যাব, পুলিশ ও আনসার মিলিয়ে প্রায় ৯ লাখ সদস্য মোতায়েন ছিলেন।

পর্যবেক্ষক: ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া তদারকিতে দেশি-বিদেশি মিলিয়ে প্রায় ৫৬ হাজার পর্যবেক্ষক নিয়োজিত ছিলেন।

শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হওয়ায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন সাধারণ ভোটার ও নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। এখন দেশজুড়ে অপেক্ষা চূড়ান্ত ফলাফলের।

শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হলো ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ও গণভোট

আপডেট সময় : ০৫:১৯:৪৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

উৎসবমুখর এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশে শেষ হলো দেশের বহুল প্রতীক্ষিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ঐতিহাসিক মহোৎসব। আজ বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে শুরু হয়ে বিরতিহীনভাবে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত সারা দেশে ভোটগ্রহণ চলে। রাজধানীর কেন্দ্রগুলোসহ দেশের কোথাও বড় ধরনের কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।

ভোটগ্রহণের সময়সীমা ও নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা

নির্বাচন কমিশনের (ইসি) পূর্বনির্ধারিত ঘোষণা অনুযায়ী, বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণের সময় নির্ধারিত ছিল। তবে প্রিসাইডিং কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্যমতে, যারা বিকেল সাড়ে ৪টার মধ্যে ভোটকেন্দ্রের লাইনে দাঁড়িয়েছিলেন, তাদের প্রত্যেকের ভোট গ্রহণ নিশ্চিত করা হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী, সাড়ে ৪টার পর নতুন করে কেউ আর লাইনে দাঁড়ানোর সুযোগ পাননি।

রাজধানীর একটি কেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা জানান, “লাইনে থাকা অবস্থায় সময় পার হয়ে গেলেও ভোটারদের হতাশ হওয়ার কারণ নেই। কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা লাইনে দাঁড়ানো শেষ ভোটারটির ভোটও গ্রহণ করেছি।”

নারী ভোটারদের উপচেপড়া ভিড় ও ভোট কাস্টিং

নির্বাচনে সাধারণ ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ছিল চোখে পড়ার মতো। বিশেষ করে রাজধানীর গুলশান, বনানী ও ধানমণ্ডি এলাকার কেন্দ্রগুলোতে নারী ভোটারদের দীর্ঘ লাইন ও উচ্ছ্বাস লক্ষ্য করা গেছে।

দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের পরিসংখ্যান অনুযায়ী:

বেলা ১১টার মধ্যেই অনেক কেন্দ্রে ২০ থেকে ২৫ শতাংশ ভোট কাস্টিং সম্পন্ন হয়।

বনানীর ৫১ নম্বর কেন্দ্রে দুপুর সাড়ে ১১টা পর্যন্ত মোট ৩ হাজার ৫১০টি ভোটের বিপরীতে পড়ে ৭৯৫টি ভোট, যা মোট ভোটের ২২ শতাংশ।

নির্বাচনের গুরুত্বপূর্ণ পরিসংখ্যান

এবারের নির্বাচনে দেশের ২৯৯টি সংসদীয় আসনে ব্যালট পেপারের মাধ্যমে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শেরপুর-৩ আসনের প্রার্থীর মৃত্যুতে সেখানকার নির্বাচন স্থগিত থাকলেও বাকি আসনে ৫১টি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল লড়াই করেছে।

একনজরে প্রার্থীর সংখ্যা:

মোট প্রার্থী: ২,০৩৪ জন।

স্বতন্ত্র প্রার্থী: ২৭৫ জন।

প্রধান দলগুলোর প্রার্থী সংখ্যা: * বিএনপি: ২৯১ জন

ইসলামী আন্দোলন: ২৫৮ জন

জামায়াতে ইসলামী: ২২৯ জন

জাতীয় পার্টি: ১৯৮ জন

জাতীয় নাগরিক পার্টি (শাপলা কলি প্রতীক): ৩২ জন

ভোটার ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা

১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৮৯৯ জন ভোটারের এই বিশাল কর্মযজ্ঞ সামলাতে দেশজুড়ে নেওয়া হয়েছিল নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

মোট ভোটার: পুরুষ ৬ কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার ১৫৪ জন এবং নারী ৬ কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ৫২৫ জন।

নিরাপত্তা বাহিনী: সেনাবাহিনী, বিজিবি, র‍্যাব, পুলিশ ও আনসার মিলিয়ে প্রায় ৯ লাখ সদস্য মোতায়েন ছিলেন।

পর্যবেক্ষক: ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া তদারকিতে দেশি-বিদেশি মিলিয়ে প্রায় ৫৬ হাজার পর্যবেক্ষক নিয়োজিত ছিলেন।

শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হওয়ায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন সাধারণ ভোটার ও নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। এখন দেশজুড়ে অপেক্ষা চূড়ান্ত ফলাফলের।