ঢাকা ০১:১৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তৃণমূলে কার আধিপত্য? বিএনপির সামনে জামায়াত ও ত্রিমুখী লড়াই

দৈনিক জাগ্রত বাংলাদেশ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ১২:৫৭:৩৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / 152

দুই-তৃতীয়াংশ আসনে জয়লাভ করে দীর্ঘ দুই দশক পর রাষ্ট্রক্ষমতায় আসা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির সামনে এখন বড় পরীক্ষা স্থানীয় সরকার নির্বাচন। জাতীয় নির্বাচনে ভূমিধস বিজয় হলেও তৃণমূল পর্যায়ে দলকে আরও সুসংহত করতে দ্রুততম সময়ে সিটি করপোরেশন, পৌরসভা ও উপজেলা নির্বাচন সম্পন্ন করতে চায় নতুন সরকার।

রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম দিনেই স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানিয়েছেন, দেশের স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর অনেক পদ বর্তমানে শূন্য। জনগণের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দিতে দ্রুত এসব নির্বাচনের ব্যবস্থা করা হবে।

সিটি নির্বাচন দিয়ে শুরু হবে ভোট সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ছেড়ে দেওয়া আসন ও স্থগিত হওয়া আসনের উপ-নির্বাচন শেষ করেই স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ডামাডোল শুরু হবে। এর প্রথম ধাপে ঢাকা উত্তর, দক্ষিণ ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে। স্থানীয় সরকার বিভাগ ইতোমধ্যে এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনকে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিতে চিঠি দিয়েছে।
বিএনপির সামনে চ্যালেঞ্জ ও জামায়াত ফ্যাক্টর রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জাতীয় নির্বাচন যতটা সহজে বিএনপি পার করেছে, স্থানীয় নির্বাচন ততটা সহজ নাও হতে পারে। জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি বড় জয় পেলেও রংপুর, রাজশাহী ও খুলনা বিভাগের অনেক জেলায় জামায়াত ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট শক্তিশালী অবস্থান দেখিয়েছে। বিশেষ করে ঢাকার ১৫টি সংসদীয় আসনের মধ্যে ৭টিতেই জামায়াতের জয় বিএনপিকে ভাবিয়ে তুলছে। ঢাকা ও চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচনে এই জোট বিএনপিকে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
দলীয় প্রতীক কি থাকছে? স্থানীয় নির্বাচনে দলীয় প্রতীক থাকবে কি না, তা নিয়ে এখনো ধোঁয়াশা রয়েছে। নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাসউদ জানান, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধ্যাদেশে প্রতীক বাদ দেওয়া হয়েছিল। এখন সংসদ এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে। বর্তমানে দেশের ৫ স্তরের স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার মধ্যে ইউনিয়ন পরিষদ বাদে প্রায় সবখানেই প্রশাসক দিয়ে কাজ চালানো হচ্ছে।
বিএনপির ‘৩১ দফা’ ও প্রতিশ্রুতি বিএনপির পক্ষ থেকে রাষ্ট্র মেরামতের যে ৩১ দফা ঘোষণা করা হয়েছিল, তার ২০ দফায় স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালী ও স্বাধীন করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। দলটির ইশতেহার অনুযায়ী:

নির্বাচিত প্রতিনিধিদের আদালতের রায় ছাড়া বরখাস্ত করা হবে না।

প্রশাসক নিয়োগের সংস্কৃতি বন্ধ করা হবে।

আর্থিক ও প্রশাসনিকভাবে স্থানীয় সরকারকে সায়ত্তশাসন দেওয়া হবে।

মাঠে নেমেছে জামায়াত ও অন্যান্য দল জাতীয় নির্বাচনে প্রত্যাশিত আসন না পেলেও স্থানীয় নির্বাচনে কোমর বেঁধে নামছে জামায়াত। রমজান ও ঈদকে সামনে রেখে ইফতার মাহফিল ও খাদ্যসামগ্রী বিতরণের মাধ্যমে তারা তৃণমূল পর্যায়ে জনসম্পৃক্ততা বাড়ানোর চেষ্টা করছে। পাশাপাশি জাতীয় নাগরিক পার্টিও (এনসিপি) ৩০টি আসনে তাদের শক্ত অবস্থানের জানান দিতে চায়।

বর্তমানে সারা দেশে ৪,৫৮১টি ইউনিয়ন পরিষদ, ৪৯৫টি উপজেলা এবং ১২টি সিটি করপোরেশনসহ অন্যান্য স্তরে নাগরিক সেবা নিশ্চিত করতে দ্রুত নির্বাচনই এখন সময়ের দাবি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

তৃণমূলে কার আধিপত্য? বিএনপির সামনে জামায়াত ও ত্রিমুখী লড়াই

আপডেট সময় : ১২:৫৭:৩৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

দুই-তৃতীয়াংশ আসনে জয়লাভ করে দীর্ঘ দুই দশক পর রাষ্ট্রক্ষমতায় আসা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির সামনে এখন বড় পরীক্ষা স্থানীয় সরকার নির্বাচন। জাতীয় নির্বাচনে ভূমিধস বিজয় হলেও তৃণমূল পর্যায়ে দলকে আরও সুসংহত করতে দ্রুততম সময়ে সিটি করপোরেশন, পৌরসভা ও উপজেলা নির্বাচন সম্পন্ন করতে চায় নতুন সরকার।

রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম দিনেই স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানিয়েছেন, দেশের স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর অনেক পদ বর্তমানে শূন্য। জনগণের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দিতে দ্রুত এসব নির্বাচনের ব্যবস্থা করা হবে।

সিটি নির্বাচন দিয়ে শুরু হবে ভোট সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ছেড়ে দেওয়া আসন ও স্থগিত হওয়া আসনের উপ-নির্বাচন শেষ করেই স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ডামাডোল শুরু হবে। এর প্রথম ধাপে ঢাকা উত্তর, দক্ষিণ ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে। স্থানীয় সরকার বিভাগ ইতোমধ্যে এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনকে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিতে চিঠি দিয়েছে।
বিএনপির সামনে চ্যালেঞ্জ ও জামায়াত ফ্যাক্টর রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জাতীয় নির্বাচন যতটা সহজে বিএনপি পার করেছে, স্থানীয় নির্বাচন ততটা সহজ নাও হতে পারে। জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি বড় জয় পেলেও রংপুর, রাজশাহী ও খুলনা বিভাগের অনেক জেলায় জামায়াত ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট শক্তিশালী অবস্থান দেখিয়েছে। বিশেষ করে ঢাকার ১৫টি সংসদীয় আসনের মধ্যে ৭টিতেই জামায়াতের জয় বিএনপিকে ভাবিয়ে তুলছে। ঢাকা ও চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচনে এই জোট বিএনপিকে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
দলীয় প্রতীক কি থাকছে? স্থানীয় নির্বাচনে দলীয় প্রতীক থাকবে কি না, তা নিয়ে এখনো ধোঁয়াশা রয়েছে। নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাসউদ জানান, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধ্যাদেশে প্রতীক বাদ দেওয়া হয়েছিল। এখন সংসদ এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে। বর্তমানে দেশের ৫ স্তরের স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার মধ্যে ইউনিয়ন পরিষদ বাদে প্রায় সবখানেই প্রশাসক দিয়ে কাজ চালানো হচ্ছে।
বিএনপির ‘৩১ দফা’ ও প্রতিশ্রুতি বিএনপির পক্ষ থেকে রাষ্ট্র মেরামতের যে ৩১ দফা ঘোষণা করা হয়েছিল, তার ২০ দফায় স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালী ও স্বাধীন করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। দলটির ইশতেহার অনুযায়ী:

নির্বাচিত প্রতিনিধিদের আদালতের রায় ছাড়া বরখাস্ত করা হবে না।

প্রশাসক নিয়োগের সংস্কৃতি বন্ধ করা হবে।

আর্থিক ও প্রশাসনিকভাবে স্থানীয় সরকারকে সায়ত্তশাসন দেওয়া হবে।

মাঠে নেমেছে জামায়াত ও অন্যান্য দল জাতীয় নির্বাচনে প্রত্যাশিত আসন না পেলেও স্থানীয় নির্বাচনে কোমর বেঁধে নামছে জামায়াত। রমজান ও ঈদকে সামনে রেখে ইফতার মাহফিল ও খাদ্যসামগ্রী বিতরণের মাধ্যমে তারা তৃণমূল পর্যায়ে জনসম্পৃক্ততা বাড়ানোর চেষ্টা করছে। পাশাপাশি জাতীয় নাগরিক পার্টিও (এনসিপি) ৩০টি আসনে তাদের শক্ত অবস্থানের জানান দিতে চায়।

বর্তমানে সারা দেশে ৪,৫৮১টি ইউনিয়ন পরিষদ, ৪৯৫টি উপজেলা এবং ১২টি সিটি করপোরেশনসহ অন্যান্য স্তরে নাগরিক সেবা নিশ্চিত করতে দ্রুত নির্বাচনই এখন সময়ের দাবি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।