ঢাকা ০২:২৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জ্বালানি সংকটে টালমাটাল দেশ: বাজারে আগুন, বিপাকে জনজীবন

দৈনিক জাগ্রত বাংলাদেশ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ১২:১৪:২৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ এপ্রিল ২০২৬
  • / 112

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের প্রভাবে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ সংকটের ঢেউ লেগেছে বাংলাদেশেও। এই অস্থির পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে দেশে সক্রিয় হয়ে উঠেছে এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী ও রাজনৈতিক চক্রান্তকারী। কৃত্রিম সংকট তৈরি করে ডিজেল-পেট্রোলের মজুতদারি এবং ‘পেনিক বায়িং’-এর ফলে দেশজুড়ে শুরু হয়েছে জ্বালানি তেলের তেলেসমাতি কাণ্ড। যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে সাধারণ মানুষের পকেটে এবং নিত্যপণ্যের বাজারে।

জ্বালানি সংকটে পণ্য পরিবহনে বিপর্যয়

জ্বালানি তেলের অভাবে দেশের পণ্য পরিবহন ব্যবস্থা প্রায় অচল হওয়ার পথে। ট্রাক ও লরি চলাচল কমে যাওয়ায় ঢাকা ও চট্টগ্রামের পাইকারি বাজারে পণ্য পৌঁছাচ্ছে না। এর ফলে মাছ, মাংস, মুরগি ও সবজির দাম এক সপ্তাহের ব্যবধানে আকাশচুম্বী হয়েছে। রাজধানীর শান্তিনগর বাজারের ব্যবসায়ীরা বলছেন, পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ায় এবং পর্যাপ্ত গাড়ি না পাওয়ায় বাজারে পণ্যের ঘাটতি দেখা দিয়েছে।

বাজারে আগুন: মধ্যবিত্তের নাভিশ্বাস

বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এক সপ্তাহের ব্যবধানে গরুর মাংসের দাম ৭৫০ টাকা থেকে বেড়ে ৮২০ টাকায় দাঁড়িয়েছে। ব্রয়লার মুরগি ২৩০ টাকা এবং সোনালি মুরগি ৪২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। মাছের বাজারেও একই দশা; রুই, কাতলা থেকে শুরু করে ছোট মাছের দাম কেজিতে ৫০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। সবজির দামও ৮০ থেকে ১২০ টাকার নিচে নামছে না, যা সাধারণ মানুষের জন্য অসহনীয় হয়ে উঠেছে।

সাগরে অনুকূল আবহাওয়া, তবু অলস বসে আছে জেলেরা

মাছ ধরার ভরা মৌসুম হওয়া সত্ত্বেও তেলের অভাবে উপকূলীয় অঞ্চলের লাখো জেলে এখন বেকার। কক্সবাজার থেকে চট্টগ্রাম, বরগুনা ও খুলনার মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রগুলো এখন খাঁ খাঁ করছে। জেলেরা অভিযোগ করছেন, ডিলার ও এজেন্টদের একটি অংশ গোপনে জ্বালানি তেল মজুত করে কৃত্রিম সংকট তৈরি করছে। এতে একদিকে জেলেরা জীবিকা হারাচ্ছে, অন্যদিকে প্রতিবেশী দেশের জেলেরা আমাদের জলসীমায় মাছ চুরির সুযোগ নিচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগ ও পরামর্শ

অর্থনীতিবিদ ও বাজার বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, শুধু মোবাইল কোর্ট বা প্রশাসনের অভিযানে এই পরিস্থিতি সামাল দেওয়া সম্ভব নয়। সিপিডি-র গবেষক ড. গোলাম মোয়াজ্জেম এবং মৎস্য বিশেষজ্ঞ ড. শেখ আহমাদ আল নাহিদ জানান, ১৯৭৪-এর দুর্ভিক্ষের ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিয়ে সরকারকে এখনই কঠোর মনিটরিং নিশ্চিত করতে হবে। বিশেষ করে তৃণমূল পর্যায়ের দলীয় নেতাকর্মীদের এই তদারকিতে সম্পৃক্ত করে অসাধু মজুতদারদের লাগাম টেনে ধরতে হবে।

সরকারের বক্তব্য

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু জানিয়েছেন, দেশে জ্বালানির কোনো প্রকৃত সংকট নেই এবং মজুত পর্যাপ্ত। তবে মন্ত্রীর আশ্বাসের সাথে বাস্তবতার মিল খুঁজে পাচ্ছেন না সাধারণ মানুষ। ফিলিং স্টেশনগুলোতে গাড়ির দীর্ঘ লাইন এবং তেল না পেয়ে পাম্প বন্ধ রাখার চিত্রই এখন নিত্যদিনের বাস্তবতা।

জ্বালানি সংকটে টালমাটাল দেশ: বাজারে আগুন, বিপাকে জনজীবন

আপডেট সময় : ১২:১৪:২৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ এপ্রিল ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের প্রভাবে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ সংকটের ঢেউ লেগেছে বাংলাদেশেও। এই অস্থির পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে দেশে সক্রিয় হয়ে উঠেছে এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী ও রাজনৈতিক চক্রান্তকারী। কৃত্রিম সংকট তৈরি করে ডিজেল-পেট্রোলের মজুতদারি এবং ‘পেনিক বায়িং’-এর ফলে দেশজুড়ে শুরু হয়েছে জ্বালানি তেলের তেলেসমাতি কাণ্ড। যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে সাধারণ মানুষের পকেটে এবং নিত্যপণ্যের বাজারে।

জ্বালানি সংকটে পণ্য পরিবহনে বিপর্যয়

জ্বালানি তেলের অভাবে দেশের পণ্য পরিবহন ব্যবস্থা প্রায় অচল হওয়ার পথে। ট্রাক ও লরি চলাচল কমে যাওয়ায় ঢাকা ও চট্টগ্রামের পাইকারি বাজারে পণ্য পৌঁছাচ্ছে না। এর ফলে মাছ, মাংস, মুরগি ও সবজির দাম এক সপ্তাহের ব্যবধানে আকাশচুম্বী হয়েছে। রাজধানীর শান্তিনগর বাজারের ব্যবসায়ীরা বলছেন, পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ায় এবং পর্যাপ্ত গাড়ি না পাওয়ায় বাজারে পণ্যের ঘাটতি দেখা দিয়েছে।

বাজারে আগুন: মধ্যবিত্তের নাভিশ্বাস

বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এক সপ্তাহের ব্যবধানে গরুর মাংসের দাম ৭৫০ টাকা থেকে বেড়ে ৮২০ টাকায় দাঁড়িয়েছে। ব্রয়লার মুরগি ২৩০ টাকা এবং সোনালি মুরগি ৪২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। মাছের বাজারেও একই দশা; রুই, কাতলা থেকে শুরু করে ছোট মাছের দাম কেজিতে ৫০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। সবজির দামও ৮০ থেকে ১২০ টাকার নিচে নামছে না, যা সাধারণ মানুষের জন্য অসহনীয় হয়ে উঠেছে।

সাগরে অনুকূল আবহাওয়া, তবু অলস বসে আছে জেলেরা

মাছ ধরার ভরা মৌসুম হওয়া সত্ত্বেও তেলের অভাবে উপকূলীয় অঞ্চলের লাখো জেলে এখন বেকার। কক্সবাজার থেকে চট্টগ্রাম, বরগুনা ও খুলনার মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রগুলো এখন খাঁ খাঁ করছে। জেলেরা অভিযোগ করছেন, ডিলার ও এজেন্টদের একটি অংশ গোপনে জ্বালানি তেল মজুত করে কৃত্রিম সংকট তৈরি করছে। এতে একদিকে জেলেরা জীবিকা হারাচ্ছে, অন্যদিকে প্রতিবেশী দেশের জেলেরা আমাদের জলসীমায় মাছ চুরির সুযোগ নিচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগ ও পরামর্শ

অর্থনীতিবিদ ও বাজার বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, শুধু মোবাইল কোর্ট বা প্রশাসনের অভিযানে এই পরিস্থিতি সামাল দেওয়া সম্ভব নয়। সিপিডি-র গবেষক ড. গোলাম মোয়াজ্জেম এবং মৎস্য বিশেষজ্ঞ ড. শেখ আহমাদ আল নাহিদ জানান, ১৯৭৪-এর দুর্ভিক্ষের ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিয়ে সরকারকে এখনই কঠোর মনিটরিং নিশ্চিত করতে হবে। বিশেষ করে তৃণমূল পর্যায়ের দলীয় নেতাকর্মীদের এই তদারকিতে সম্পৃক্ত করে অসাধু মজুতদারদের লাগাম টেনে ধরতে হবে।

সরকারের বক্তব্য

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু জানিয়েছেন, দেশে জ্বালানির কোনো প্রকৃত সংকট নেই এবং মজুত পর্যাপ্ত। তবে মন্ত্রীর আশ্বাসের সাথে বাস্তবতার মিল খুঁজে পাচ্ছেন না সাধারণ মানুষ। ফিলিং স্টেশনগুলোতে গাড়ির দীর্ঘ লাইন এবং তেল না পেয়ে পাম্প বন্ধ রাখার চিত্রই এখন নিত্যদিনের বাস্তবতা।