ঢাকা ০৯:৩৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৫ মে ২০২৬, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

১৪৪ ধারা ভেঙে পুলিশের ওপর হামলা, ওসিসহ রক্তাক্ত ৮

দৈনিক জাগ্রত বাংলাদেশ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ১১:৪৬:৪১ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ এপ্রিল ২০২৬
  • / 467

শহরজুড়ে জারি ছিল ১৪৪ ধারা, মোতায়েন ছিল বিশাল পুলিশ বাহিনী। কিন্তু সব বাধা তুচ্ছ করে রাজপথে নামলো দুই পক্ষ। মুহূর্তেই শান্ত লক্ষ্মীপুর পরিণত হলো রণক্ষেত্রে! বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন এবং ছাত্রদলের ‘জুলাই ফাইটার্স’ ব্যানারের নেতাকর্মীদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে শহরের চকবাজার এলাকা। এই তপ্ত পরিস্থিতিতে বিদ্রোহীদের থামাতে গিয়ে খোদ সদর থানার ওসিসহ আহত হয়েছেন অন্তত ৮ জন।

ঘটনার ফ্ল্যাশব্যাকে যা ছিল:

সিনেমার গল্পের মতোই ঘটনার সূত্রপাত শনিবার রাতে। হাসপাতাল রোডে তুচ্ছ কথা কাটাকাটি নিয়ে দ্বন্দ্বে জড়ান বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ফাহিম এবং জেলা ছাত্রদলের প্রচার সম্পাদক আকবর হোসেন মুন্না। সেই আগুনেই ঘি ঢেলে দেয় রবিবারের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি। একপক্ষ ডাকে প্রতিবাদ মিছিল, অন্যপক্ষ একই সময়ে একই স্থানে ঘোষণা করে পাল্টা সমাবেশ।

রণক্ষেত্র চকবাজার:

বিস্ফোরক পরিস্থিতি সামলাতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ক্যাথোয়াইপ্রু মারমা বিকেল ৪টা থেকে শহরে ১৪৪ ধারা জারি করেন। কিন্তু বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে চকবাজার মসজিদের সামনে সব নিয়ম ভেঙে যখন দুই পক্ষ মুখোমুখি হয়, তখন শুরু হয় তুমুল সংঘর্ষ। পুলিশ মাঝখানে দাঁড়িয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করলে আন্দোলনকারীদের রোষানলে পড়েন খোদ সদর মডেল থানার ওসি ওয়াহিদ পারভেজ। ইটের আঘাতে ওসিসহ বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্য রক্তাক্ত হন।

অ্যাকশন ও গ্রেফতার:

পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে গেলে অ্যাকশনে নামে পুলিশ। ঘটনাস্থল থেকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মুখ্য সংগঠক সাইফুল ইসলাম মুরাদসহ বেশ কয়েকজনকে আটক করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হোসাইন মোহাম্মদ রায়হান কাজেমী জানান, “আমরা দুই পক্ষকে হটিয়ে দিয়েছি, তবে ওসিসহ আমাদের বেশ কয়েকজন সদস্য আহত হয়েছেন।”

নেতাদের রহস্যময় নীরবতা:

এই তাণ্ডব নিয়ে জেলা ছাত্রদল সভাপতি হাসান মাহমুদ ইব্রাহিম দায় এড়াতে চাইলেও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সদস্য সচিব শাহেদুর রহমান রাফিকে বারবার কল করেও পাওয়া যায়নি। বর্তমানে পুরো শহর থমথমে, যেন বড় কোনো ঝড়ের আগের নিস্তব্ধতা!

১৪৪ ধারা ভেঙে পুলিশের ওপর হামলা, ওসিসহ রক্তাক্ত ৮

আপডেট সময় : ১১:৪৬:৪১ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ এপ্রিল ২০২৬

শহরজুড়ে জারি ছিল ১৪৪ ধারা, মোতায়েন ছিল বিশাল পুলিশ বাহিনী। কিন্তু সব বাধা তুচ্ছ করে রাজপথে নামলো দুই পক্ষ। মুহূর্তেই শান্ত লক্ষ্মীপুর পরিণত হলো রণক্ষেত্রে! বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন এবং ছাত্রদলের ‘জুলাই ফাইটার্স’ ব্যানারের নেতাকর্মীদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে শহরের চকবাজার এলাকা। এই তপ্ত পরিস্থিতিতে বিদ্রোহীদের থামাতে গিয়ে খোদ সদর থানার ওসিসহ আহত হয়েছেন অন্তত ৮ জন।

ঘটনার ফ্ল্যাশব্যাকে যা ছিল:

সিনেমার গল্পের মতোই ঘটনার সূত্রপাত শনিবার রাতে। হাসপাতাল রোডে তুচ্ছ কথা কাটাকাটি নিয়ে দ্বন্দ্বে জড়ান বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ফাহিম এবং জেলা ছাত্রদলের প্রচার সম্পাদক আকবর হোসেন মুন্না। সেই আগুনেই ঘি ঢেলে দেয় রবিবারের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি। একপক্ষ ডাকে প্রতিবাদ মিছিল, অন্যপক্ষ একই সময়ে একই স্থানে ঘোষণা করে পাল্টা সমাবেশ।

রণক্ষেত্র চকবাজার:

বিস্ফোরক পরিস্থিতি সামলাতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ক্যাথোয়াইপ্রু মারমা বিকেল ৪টা থেকে শহরে ১৪৪ ধারা জারি করেন। কিন্তু বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে চকবাজার মসজিদের সামনে সব নিয়ম ভেঙে যখন দুই পক্ষ মুখোমুখি হয়, তখন শুরু হয় তুমুল সংঘর্ষ। পুলিশ মাঝখানে দাঁড়িয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করলে আন্দোলনকারীদের রোষানলে পড়েন খোদ সদর মডেল থানার ওসি ওয়াহিদ পারভেজ। ইটের আঘাতে ওসিসহ বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্য রক্তাক্ত হন।

অ্যাকশন ও গ্রেফতার:

পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে গেলে অ্যাকশনে নামে পুলিশ। ঘটনাস্থল থেকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মুখ্য সংগঠক সাইফুল ইসলাম মুরাদসহ বেশ কয়েকজনকে আটক করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হোসাইন মোহাম্মদ রায়হান কাজেমী জানান, “আমরা দুই পক্ষকে হটিয়ে দিয়েছি, তবে ওসিসহ আমাদের বেশ কয়েকজন সদস্য আহত হয়েছেন।”

নেতাদের রহস্যময় নীরবতা:

এই তাণ্ডব নিয়ে জেলা ছাত্রদল সভাপতি হাসান মাহমুদ ইব্রাহিম দায় এড়াতে চাইলেও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সদস্য সচিব শাহেদুর রহমান রাফিকে বারবার কল করেও পাওয়া যায়নি। বর্তমানে পুরো শহর থমথমে, যেন বড় কোনো ঝড়ের আগের নিস্তব্ধতা!