ঢাকা ০২:৪৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬, ১২ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফের গ্রেফতার ফরিদপুরের তুফান

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
  • আপডেট সময় : ০৭:২৭:৩১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬
  • / 153

ফরিদপুর শহরে ইনজেকশনের সিরিঞ্জে পচা রক্ত ভরে পথচারীদের ভয়ভীতি দেখিয়ে ছিনতাইয়ের অভিযোগে আলোচিত ও কুখ্যাত ‘সিরিঞ্জ তুফান’ আবারও পুলিশের হাতে আটক হয়েছেন।

আজ বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) দুপুর ২টার দিকে শহরের নিউমার্কেট এলাকার ইমামুদ্দিন স্কয়ারের পাশ থেকে তাকে আটক করে কোতোয়ালি থানা পুলিশ। আটক তুফানের কাছ থেকে একটি ইনজেকশনের সিরিঞ্জ উদ্ধার করা হয়েছে।

কারাগার থেকে বেরিয়েই ফের অপরাধ:

ফরিদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) আজমীর হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, মাসখানেকেরও বেশি সময় আগে সিরিঞ্জে পচা রক্ত ভরে তা মানুষের শরীরে প্রবেশ করানোর ভয় দেখিয়ে ছিনতাইয়ের অভিযোগে তুফানকে আটক করা হয়েছিল। কিন্তু সে সময় তার বিরুদ্ধে কোনো ভুক্তভোগী লিখিত অভিযোগ না করায় সম্প্রতি তিনি কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পান। তবে মুক্তি পাওয়ার পরপরই সে একই কায়দায় আবারও শহরে ছিনতাই ও সাধারণ মানুষকে আতঙ্কিত করা শুরু করে।

ফেসবুক পোস্ট দেখে পুলিশের অ্যাকশন:

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গতকাল বুধবার (১৭ জুন) শহরের হাজী শরীয়তুল্লাহ বাজারের লোহার ব্রিজসংলগ্ন এলাকায় মাহফুজুর রহমান শাহিদ নামে এক যুবককে সিরিঞ্জ দেখিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন তুফান। পরে ভুক্তভোগী শাহিদ বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে বিস্তারিত তুলে ধরলে তা দ্রুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরে আসে। ফেসবুক পোস্টে শাহিদ দাবি করেন, র‍্যাফেলস মোড় থেকে লোহার ব্রিজের দিকে যাওয়ার সময় তুফান তাকে থামিয়ে টাকা দাবি করেন। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তুফান নিজের সন্ত্রাসী পরিচয় দিয়ে ভয় দেখায় এবং পুলিশকে নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য করে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই ক্ষোভ ও আতঙ্কের খবর ছড়িয়ে পড়ার পরপরই পুলিশ তুফানকে আটকের জন্য শহরের বিভিন্ন স্থানে বিশেষ অভিযান শুরু করে এবং আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে তাকে হাতেনাতে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।

নগরবাসীর স্বস্তি ও কঠোর শাস্তির দাবি:

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে শহরের বিভিন্ন জনবহুল এলাকায় সাধারণ মানুষকে আতঙ্কিত করে আসছিলেন তুফান। বিশেষ করে সিরিঞ্জে পচা রক্ত ভরে শরীরে পুশ করার অভিনব ও ভয়ানক কৌশলের কারণে তিনি শহরজুড়ে ‘সিরিঞ্জ তুফান’ নামে পরিচিতি পান। মাসখানেক আগে স্থানীয় সাংবাদিক শ্রাবণ হাসান তার হাতে ছিনতাইয়ের শিকার হওয়ার পর বিষয়টি প্রথম ব্যাপকভাবে প্রকাশ্যে আসে। তখন জনতা তাকে গণধোলাই দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেছিল।

বারবার জামিনে বেরিয়ে এসে একই অপরাধ করায় এবার তার বিরুদ্ধে কোনো রকম ছাড় না দিয়ে কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন ফরিদপুরের সচেতন নাগরিক সমাজ। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আজমীর হোসেন জানিয়েছেন, তুফানের বিরুদ্ধে নতুন করে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

ফের গ্রেফতার ফরিদপুরের তুফান

আপডেট সময় : ০৭:২৭:৩১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬

ফরিদপুর শহরে ইনজেকশনের সিরিঞ্জে পচা রক্ত ভরে পথচারীদের ভয়ভীতি দেখিয়ে ছিনতাইয়ের অভিযোগে আলোচিত ও কুখ্যাত ‘সিরিঞ্জ তুফান’ আবারও পুলিশের হাতে আটক হয়েছেন।

আজ বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) দুপুর ২টার দিকে শহরের নিউমার্কেট এলাকার ইমামুদ্দিন স্কয়ারের পাশ থেকে তাকে আটক করে কোতোয়ালি থানা পুলিশ। আটক তুফানের কাছ থেকে একটি ইনজেকশনের সিরিঞ্জ উদ্ধার করা হয়েছে।

কারাগার থেকে বেরিয়েই ফের অপরাধ:

ফরিদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) আজমীর হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, মাসখানেকেরও বেশি সময় আগে সিরিঞ্জে পচা রক্ত ভরে তা মানুষের শরীরে প্রবেশ করানোর ভয় দেখিয়ে ছিনতাইয়ের অভিযোগে তুফানকে আটক করা হয়েছিল। কিন্তু সে সময় তার বিরুদ্ধে কোনো ভুক্তভোগী লিখিত অভিযোগ না করায় সম্প্রতি তিনি কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পান। তবে মুক্তি পাওয়ার পরপরই সে একই কায়দায় আবারও শহরে ছিনতাই ও সাধারণ মানুষকে আতঙ্কিত করা শুরু করে।

ফেসবুক পোস্ট দেখে পুলিশের অ্যাকশন:

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গতকাল বুধবার (১৭ জুন) শহরের হাজী শরীয়তুল্লাহ বাজারের লোহার ব্রিজসংলগ্ন এলাকায় মাহফুজুর রহমান শাহিদ নামে এক যুবককে সিরিঞ্জ দেখিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন তুফান। পরে ভুক্তভোগী শাহিদ বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে বিস্তারিত তুলে ধরলে তা দ্রুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরে আসে। ফেসবুক পোস্টে শাহিদ দাবি করেন, র‍্যাফেলস মোড় থেকে লোহার ব্রিজের দিকে যাওয়ার সময় তুফান তাকে থামিয়ে টাকা দাবি করেন। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তুফান নিজের সন্ত্রাসী পরিচয় দিয়ে ভয় দেখায় এবং পুলিশকে নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য করে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই ক্ষোভ ও আতঙ্কের খবর ছড়িয়ে পড়ার পরপরই পুলিশ তুফানকে আটকের জন্য শহরের বিভিন্ন স্থানে বিশেষ অভিযান শুরু করে এবং আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে তাকে হাতেনাতে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।

নগরবাসীর স্বস্তি ও কঠোর শাস্তির দাবি:

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে শহরের বিভিন্ন জনবহুল এলাকায় সাধারণ মানুষকে আতঙ্কিত করে আসছিলেন তুফান। বিশেষ করে সিরিঞ্জে পচা রক্ত ভরে শরীরে পুশ করার অভিনব ও ভয়ানক কৌশলের কারণে তিনি শহরজুড়ে ‘সিরিঞ্জ তুফান’ নামে পরিচিতি পান। মাসখানেক আগে স্থানীয় সাংবাদিক শ্রাবণ হাসান তার হাতে ছিনতাইয়ের শিকার হওয়ার পর বিষয়টি প্রথম ব্যাপকভাবে প্রকাশ্যে আসে। তখন জনতা তাকে গণধোলাই দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেছিল।

বারবার জামিনে বেরিয়ে এসে একই অপরাধ করায় এবার তার বিরুদ্ধে কোনো রকম ছাড় না দিয়ে কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন ফরিদপুরের সচেতন নাগরিক সমাজ। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আজমীর হোসেন জানিয়েছেন, তুফানের বিরুদ্ধে নতুন করে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।