ফরিদপুরে মাদ্রাসাছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টা: পরিচালকের ১০ বছরের কারাদণ্ড
- আপডেট সময় : ০৫:১৮:৩৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬
- / 50
ফরিদপুর শহরে নিজ মাদ্রাসার আবাসিক ছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার দায়ে মো. আশরাফ আলী (৪৬) নামের এক মাদ্রাসা পরিচালককে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সাথে তাকে ৭০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। রায়ে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন যে, জরিমানার এই টাকা দণ্ডপ্রাপ্ত আসামির স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি বিক্রি করে আদায় করত ভুক্তভোগী কিশোরীর পরিবারকে বুঝিয়ে দিতে হবে।
আজ বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) দুপুর দেড়টার দিকে ফরিদপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) শামীমা পারভীন এই ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি আদালতে অনুপস্থিত ও পলাতক ছিলেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত আশরাফ আলী ফরিদপুর শহরের দক্ষিণ গোয়ালচামট মহল্লায় অবস্থিত ‘রওজাতুন-নেছা মহিলা মাদ্রাসা’র পরিচালক এবং ওই মহল্লারই বাসিন্দা।
ফাঁকা বাসায় কুপ্রস্তাব ও ধর্ষণচেষ্টা:
মামলার এজাহার ও আদালত সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী ১৫ বছর বয়সী ওই কিশোরী ওই মাদ্রাসার আবাসিক হেফজখানার শিক্ষার্থী ছিল। ২০২৫ সালের ২৩ এপ্রিল বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে মাদ্রাসার হেফজখানার শ্রেণিকক্ষ থেকে নিজের থাকার কক্ষে ওই ছাত্রীকে ডেকে নেন পরিচালক আশরাফ আলী। ওই সময় আশরাফের স্ত্রী-সন্তান বাসায় ছিলেন না। বাসা ফাঁকা থাকার সুযোগে তিনি ওই মাদ্রাসাছাত্রীকে জোরপূর্বক ধর্ষণের চেষ্টা করেন। তবে চতুরতার সাথে ওই ছাত্রী পরিচালকের কবল থেকে দৌড়ে পালিয়ে বাঁচতে সক্ষম হয়।
পরবর্তীতে ওই শিক্ষার্থী বাড়িতে গিয়ে পরিবারকে বিষয়টি খুলে বলে। প্রথমে স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হলেও তা ব্যর্থ হয়। ঘটনার ১৭ দিন পর ভুক্তভোগীর বাবা বাদী হয়ে মাদ্রাসা পরিচালক আশরাফ আলীকে একমাত্র আসামি করে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পর পুলিশ আশরাফকে গ্রেপ্তার করলেও পরবর্তীতে তিনি জামিনে মুক্ত হন। এরপর মামলার যুক্তিতর্ক শুরু হওয়ার পর থেকেই তিনি আত্মগোপনে চলে যান।
তদন্ত ও রায় নিয়ে পিপি-র সন্তোষ:
ঘটনাটি তদন্ত শেষে ২০২৫ সালের ৩১ আগস্ট ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. নূর হোসেন মাদ্রাসা পরিচালক আশরাফ আলীকে একমাত্র অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দাখিল করেন। দীর্ঘ শুনানি ও সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আদালত আজ এই রায় প্রদান করেন।
রায়ের সত্যতা নিশ্চিত করে সংশ্লিষ্ট আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) গোলাম রব্বানী ভূঁইয়া সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “আদালত জরিমানার ৭০ হাজার টাকা দণ্ডপ্রাপ্ত আসামির জমি বা সম্পত্তি বিক্রি করে ভুক্তভোগী পরিবারের হাতে তুলে দেওয়ার জন্য ফরিদপুরের জেলা প্রশাসককে (ডিসি) নির্দেশ দিয়েছেন। পাশাপাশি পলাতক আসামির বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানা (ওয়ারেন্ট) জারি করা হয়েছে। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় এই রায়ে আমরা অত্যন্ত সন্তুষ্ট।”




















