ঢাকা ০৬:০৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬, ১১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মা ও ঢাবি ছাত্রীসহ ৩ জনকে কুপিয়ে হত্যা, গণপিটুনিতে ঘাতক নিহত

দৈনিক জাগ্রত বাংলাদেশ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ০৪:৫৯:৫৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬
  • / 37

লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে এক প্রবাসীর ঘরে ঢুকে মা ও তার দুই মেয়েসহ তিনজনকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। নিহতদের মধ্যে একজন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) মেধাবী শিক্ষার্থী এবং অন্যজন ৯ বছরের এক শিশু। এই ঘটনায় আরও এক কলেজছাত্রী গুরুতর জখম হয়ে ঢাকা মেডিকেলে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন।

এদিকে, এই বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের পর পালিয়ে যাওয়ার সময় উত্তেজিত জনতার গণপিটুনিতে অভিযুক্ত প্রধান ঘাতক যুবকও নিহত হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রায়পুর পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের গোডাউন রোড এলাকায় এই লোমহর্ষক ঘটনা ঘটে।

নিহত ও আহতদের পরিচয়:

হত্যাকাণ্ডের শিকার ব্যক্তিরা হলেন— মা শাহিনুর বেগম (৩৮), তার বড় মেয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সায়মা আক্তার (২১) এবং ছোট মেয়ে শিফা আক্তার (৯)। এছাড়া গুরুতর আহত মেঝো মেয়ে ইকরা আক্তার (১৭) রায়পুর কাজী ফারুকী কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রী। তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (ঢামেক) পাঠানো হয়েছে। নিহতদের পরিবারটি মূলত কুমিল্লার বাসিন্দা হলেও দীর্ঘদিন ধরে রায়পুরে একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করে আসছিলেন। ২০১৯ সালে বিদ্যুৎস্পর্শে তাদের বাবা কামাল হোসেন মারা যান।

অন্যদিকে, গণপিটুনিতে নিহত অভিযুক্ত যুবকের নাম অন্তর মজুমদার। সে নোয়াখালী জেলার সুবর্ণচরের বাসিন্দা কার্তিক মজুমদারের ছেলে বলে জানা গেছে।

সকালে ঘরে ঢুকে তাণ্ডব:

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার সকালে শাহিনুর বেগম তার তিন মেয়েকে নিয়ে ঘরেই ছিলেন। এসময় ঘাতক অন্তর মজুমদার হঠাৎ ধারালো অস্ত্র নিয়ে ওই বাসায় ঢুকে চারজনের ওপরই নৃশংসভাবে হামলা চালায় এবং এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে। ধারালো অস্ত্রের আঘাতে ঘটনাস্থলেই মা শাহিনুর ও ছোট মেয়ে শিফা মারা যায়। পরে প্রতিবেশীরা চিৎকার শুনে এগিয়ে এসে রক্তস্নাত অবস্থায় বড় মেয়ে সায়মা ও মেঝো মেয়ে ইকরাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার পথে সায়মার মৃত্যু হয়।

জনতার গণপিটুনি ও রণক্ষেত্র, আহত ৭ পুলিশ:

নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়লে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী চারপাশ থেকে ঘাতক যুবক অন্তর মজুমদারকে ঘেরাও করে গণপিটুনি দেয়। গুরুতর আহত অবস্থায় পুলিশ তাকে উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে পাঠালে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এদিকে ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুরো এলাকায় চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গিয়ে উত্তেজিত জনতার ইটপাটকেলের আঘাতে অন্তত ৬ থেকে ৭ জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। পরে খবর পেয়ে জেলা পুলিশ সুপার আবু তারেক ভারী পুলিশ ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও চিকিৎসকদের বক্তব্য:

রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. বাহারুল আলম জানান, হাসপাতালে আনা সবার শরীরেই ধারালো অস্ত্রের গভীর ও নৃশংস আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। গুরুতর আহত একজনকে ঢাকায় রেফার করা হয়েছে এবং বাকিদের লাশ মর্গে রাখা হয়েছে।

সহকারী পুলিশ সুপার (রায়পুর সার্কেল) মো. আব্দুর রাশেদ এবং পুলিশ সুপার আবু তারেক ৪ জন নিহতের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, “ঠিক কী কারণে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে, তা এখনও সুনির্দিষ্টভাবে জানা যায়নি। তবে পুরো বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে। ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।”

মা ও ঢাবি ছাত্রীসহ ৩ জনকে কুপিয়ে হত্যা, গণপিটুনিতে ঘাতক নিহত

আপডেট সময় : ০৪:৫৯:৫৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬

লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে এক প্রবাসীর ঘরে ঢুকে মা ও তার দুই মেয়েসহ তিনজনকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। নিহতদের মধ্যে একজন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) মেধাবী শিক্ষার্থী এবং অন্যজন ৯ বছরের এক শিশু। এই ঘটনায় আরও এক কলেজছাত্রী গুরুতর জখম হয়ে ঢাকা মেডিকেলে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন।

এদিকে, এই বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের পর পালিয়ে যাওয়ার সময় উত্তেজিত জনতার গণপিটুনিতে অভিযুক্ত প্রধান ঘাতক যুবকও নিহত হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রায়পুর পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের গোডাউন রোড এলাকায় এই লোমহর্ষক ঘটনা ঘটে।

নিহত ও আহতদের পরিচয়:

হত্যাকাণ্ডের শিকার ব্যক্তিরা হলেন— মা শাহিনুর বেগম (৩৮), তার বড় মেয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সায়মা আক্তার (২১) এবং ছোট মেয়ে শিফা আক্তার (৯)। এছাড়া গুরুতর আহত মেঝো মেয়ে ইকরা আক্তার (১৭) রায়পুর কাজী ফারুকী কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রী। তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (ঢামেক) পাঠানো হয়েছে। নিহতদের পরিবারটি মূলত কুমিল্লার বাসিন্দা হলেও দীর্ঘদিন ধরে রায়পুরে একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করে আসছিলেন। ২০১৯ সালে বিদ্যুৎস্পর্শে তাদের বাবা কামাল হোসেন মারা যান।

অন্যদিকে, গণপিটুনিতে নিহত অভিযুক্ত যুবকের নাম অন্তর মজুমদার। সে নোয়াখালী জেলার সুবর্ণচরের বাসিন্দা কার্তিক মজুমদারের ছেলে বলে জানা গেছে।

সকালে ঘরে ঢুকে তাণ্ডব:

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার সকালে শাহিনুর বেগম তার তিন মেয়েকে নিয়ে ঘরেই ছিলেন। এসময় ঘাতক অন্তর মজুমদার হঠাৎ ধারালো অস্ত্র নিয়ে ওই বাসায় ঢুকে চারজনের ওপরই নৃশংসভাবে হামলা চালায় এবং এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে। ধারালো অস্ত্রের আঘাতে ঘটনাস্থলেই মা শাহিনুর ও ছোট মেয়ে শিফা মারা যায়। পরে প্রতিবেশীরা চিৎকার শুনে এগিয়ে এসে রক্তস্নাত অবস্থায় বড় মেয়ে সায়মা ও মেঝো মেয়ে ইকরাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার পথে সায়মার মৃত্যু হয়।

জনতার গণপিটুনি ও রণক্ষেত্র, আহত ৭ পুলিশ:

নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়লে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী চারপাশ থেকে ঘাতক যুবক অন্তর মজুমদারকে ঘেরাও করে গণপিটুনি দেয়। গুরুতর আহত অবস্থায় পুলিশ তাকে উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে পাঠালে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এদিকে ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুরো এলাকায় চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গিয়ে উত্তেজিত জনতার ইটপাটকেলের আঘাতে অন্তত ৬ থেকে ৭ জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। পরে খবর পেয়ে জেলা পুলিশ সুপার আবু তারেক ভারী পুলিশ ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও চিকিৎসকদের বক্তব্য:

রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. বাহারুল আলম জানান, হাসপাতালে আনা সবার শরীরেই ধারালো অস্ত্রের গভীর ও নৃশংস আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। গুরুতর আহত একজনকে ঢাকায় রেফার করা হয়েছে এবং বাকিদের লাশ মর্গে রাখা হয়েছে।

সহকারী পুলিশ সুপার (রায়পুর সার্কেল) মো. আব্দুর রাশেদ এবং পুলিশ সুপার আবু তারেক ৪ জন নিহতের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, “ঠিক কী কারণে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে, তা এখনও সুনির্দিষ্টভাবে জানা যায়নি। তবে পুরো বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে। ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।”