ঢাকা ১১:১৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৫ মে ২০২৬, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফরিদপুরে পুলিশের নামে চাঁদা আদায়, বিএনপি-আওয়ামী লীগ নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ

তৈয়বুর রহমান বোয়ালমারী ফরিদপুর
  • আপডেট সময় : ০৫:৩১:৫৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২ এপ্রিল ২০২৫
  • / 341

ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলায় ঈদ উপলক্ষ্যে পুলিশকে খাসি কিনে দেওয়ার কথা বলে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চাঁদা উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। এই অভিযোগটি উঠেছে ইউনিয়ন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি কালাম মোল্যা, ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সানোয়ার মেম্বার ও বাজার বণিক সমিতির সভাপতি লক্ষণ মন্ডলের বিরুদ্ধে।

ব্যবসায়ীদের মধ্যে ক্ষোভ:

এই ঘটনায় স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

সরেজমিনে তথ্য:

সরেজমিনে ঘুরে জানা যায়, বোয়ালমারী উপজেলার রূপাপাত কালিনগর বাজারের সভাপতি লক্ষণ মণ্ডল, রূপাপাত ইউনিয়ন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি কালাম মোল্যা ও ৯ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সানোয়ার মেম্বার ডহরনগর পুলিশ ফাঁড়িতে ঈদের জন্য খাসি কিনে দেবেন, এই কথা বলে বাজারের অধিকাংশ ব্যবসায়ীর কাছ থেকে চাঁদা তুলেছেন।

 টাকা ফেরত:

ওই চাঁদার টাকা থেকে ১০ হাজার টাকা স্থানীয় এক মেম্বারের কাছে তারা পুলিশ ফাঁড়িতে দেওয়ার জন্য দিয়েছিলেন। ওই মেম্বার ফাঁড়ির ইনচার্জকে টাকা দেওয়ার বিষয়টি জানালে ফাঁড়ির ইনচার্জ মাইকেল মধুসূদন পান্ডে টাকা নিতে অস্বীকার করেন। পরে ওই মেম্বার ওই টাকা বাজারের সভাপতি লক্ষণ মন্ডলের কাছে ঈদের দিন বিকালে ফেরত দেন।

 ব্যবসায়ীদের বক্তব্য:

বাজারের ব্যবসায়ী সুজিত পাল, উত্তম দত্ত ও কৃষ্ণ মালো জানান, ডহরনগর পুলিশ ফাঁড়িতে খাসি কিনে দেবে বলে কালাম মোল্যা, সানোয়ার মেম্বার ও লক্ষণ মন্ডল তাদেরসহ অন্যান্য ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ৩০০, ৫০০ করে টাকা তুলেছেন।

স্থানীয় বিএনপি নেতার ভাষ্য:

এ ব্যাপারে কালিনগর গ্রামের বাসিন্দা বিএনপি নেতা কামরুল ইসলাম বলেন, ঈদের দুই-তিন দিন আগে ইউনিয়ন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি কালাম মোল্যা, সানোয়ার মেম্বর ও বাজারের বণিক সমিতির সভাপতি লক্ষণ মন্ডল ফাঁড়ির পুলিশকে খাসি কিনে দেবে, এই কথা বলে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ৫০০, ৩০০, ১০০০ টাকা করে চাঁদা তুলেছেন। তিনি আরও বলেন, এই চাঁদা তোলার ঘটনায় ব্যবসায়ীদের মনে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। বাজারে মোট ব্যবসায়ী রয়েছে প্রায় ৭০০ জনের মতো। চাঁদা তোলার বিষয়টি ওসিকে জানানো হয়েছে।

 অভিযুক্তদের স্বীকারোক্তি:

কালাম মোল্যা, সানোয়ার মেম্বার ও লক্ষণ মন্ডল জানান, ঈদ আসলে প্রতি বছর বাজারের ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে টাকা তুলে ফাঁড়িতে খাসি কেনার জন্য দেওয়া হয়। তাই এ বছরও টাকা তুলে ১০ হাজার টাকা খাসি কেনার জন্য দেওয়া হয়েছে। একটি মহল টাকা তোলার বিষয়টি নিয়ে ঝামেলা করছে। পরে ৩১ মার্চ বিকেলে সকল ব্যবসায়ীর টাকা ফেরত দেওয়া হয়েছে।

মেম্বারের বক্তব্য:

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই মেম্বার জানান, খাসি কেনার টাকা তার কাছে দেওয়া হয়েছিল। পুলিশ না নেওয়ায় ওই ১০ হাজার টাকা বাজারের বণিক সমিতির সভাপতি লক্ষনের কাছে ফেরত দেওয়া হয়েছে।

 পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জের বক্তব্য:

ডহরনগর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মধুসূদন পান্ডে বলেন, তাদের ফাঁড়িতে কেউ কোনো টাকা দেয়নি। আর তারা কেন খাসি কেনার জন্য ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে টাকা নেবেন। তিনি আরও বলেন, পুলিশ ফাঁড়ির কথা বলে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে কালাম মোল্যা, সানোয়ার মেম্বর ও লক্ষণ মন্ডল টাকা তুলেছে বলে তিনি শুনেছেন। কেউ যদি লিখিত অভিযোগ করেন, তাহলে তারা আইনগত ব্যবস্থা নেবেন। তা ছাড়া কালাম মোল্যার নামে মামলা রয়েছে এবং পুলিশ তাকে গ্রেপ্তারের জন্য খুঁজছে।

 থানার ওসির বক্তব্য:

থানা অফিসার ইনচার্জ মো. মাহমুদুল হাসান বলেন, পুলিশের কথা বলে টাকা তোলার বিষয়টি শুনে ফাঁড়ির ইনচার্জের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি জানান, কিছু লোক ফাঁড়ির কথা বলে টাকা তুলেছে বলে তিনি শুনেছেন। ওসি বলেন, ব্যবসায়ীরা যদি লিখিত অভিযোগ দেয়, তাহলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ফরিদপুরে পুলিশের নামে চাঁদা আদায়, বিএনপি-আওয়ামী লীগ নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ

আপডেট সময় : ০৫:৩১:৫৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২ এপ্রিল ২০২৫

ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলায় ঈদ উপলক্ষ্যে পুলিশকে খাসি কিনে দেওয়ার কথা বলে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চাঁদা উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। এই অভিযোগটি উঠেছে ইউনিয়ন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি কালাম মোল্যা, ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সানোয়ার মেম্বার ও বাজার বণিক সমিতির সভাপতি লক্ষণ মন্ডলের বিরুদ্ধে।

ব্যবসায়ীদের মধ্যে ক্ষোভ:

এই ঘটনায় স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

সরেজমিনে তথ্য:

সরেজমিনে ঘুরে জানা যায়, বোয়ালমারী উপজেলার রূপাপাত কালিনগর বাজারের সভাপতি লক্ষণ মণ্ডল, রূপাপাত ইউনিয়ন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি কালাম মোল্যা ও ৯ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সানোয়ার মেম্বার ডহরনগর পুলিশ ফাঁড়িতে ঈদের জন্য খাসি কিনে দেবেন, এই কথা বলে বাজারের অধিকাংশ ব্যবসায়ীর কাছ থেকে চাঁদা তুলেছেন।

 টাকা ফেরত:

ওই চাঁদার টাকা থেকে ১০ হাজার টাকা স্থানীয় এক মেম্বারের কাছে তারা পুলিশ ফাঁড়িতে দেওয়ার জন্য দিয়েছিলেন। ওই মেম্বার ফাঁড়ির ইনচার্জকে টাকা দেওয়ার বিষয়টি জানালে ফাঁড়ির ইনচার্জ মাইকেল মধুসূদন পান্ডে টাকা নিতে অস্বীকার করেন। পরে ওই মেম্বার ওই টাকা বাজারের সভাপতি লক্ষণ মন্ডলের কাছে ঈদের দিন বিকালে ফেরত দেন।

 ব্যবসায়ীদের বক্তব্য:

বাজারের ব্যবসায়ী সুজিত পাল, উত্তম দত্ত ও কৃষ্ণ মালো জানান, ডহরনগর পুলিশ ফাঁড়িতে খাসি কিনে দেবে বলে কালাম মোল্যা, সানোয়ার মেম্বার ও লক্ষণ মন্ডল তাদেরসহ অন্যান্য ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ৩০০, ৫০০ করে টাকা তুলেছেন।

স্থানীয় বিএনপি নেতার ভাষ্য:

এ ব্যাপারে কালিনগর গ্রামের বাসিন্দা বিএনপি নেতা কামরুল ইসলাম বলেন, ঈদের দুই-তিন দিন আগে ইউনিয়ন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি কালাম মোল্যা, সানোয়ার মেম্বর ও বাজারের বণিক সমিতির সভাপতি লক্ষণ মন্ডল ফাঁড়ির পুলিশকে খাসি কিনে দেবে, এই কথা বলে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ৫০০, ৩০০, ১০০০ টাকা করে চাঁদা তুলেছেন। তিনি আরও বলেন, এই চাঁদা তোলার ঘটনায় ব্যবসায়ীদের মনে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। বাজারে মোট ব্যবসায়ী রয়েছে প্রায় ৭০০ জনের মতো। চাঁদা তোলার বিষয়টি ওসিকে জানানো হয়েছে।

 অভিযুক্তদের স্বীকারোক্তি:

কালাম মোল্যা, সানোয়ার মেম্বার ও লক্ষণ মন্ডল জানান, ঈদ আসলে প্রতি বছর বাজারের ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে টাকা তুলে ফাঁড়িতে খাসি কেনার জন্য দেওয়া হয়। তাই এ বছরও টাকা তুলে ১০ হাজার টাকা খাসি কেনার জন্য দেওয়া হয়েছে। একটি মহল টাকা তোলার বিষয়টি নিয়ে ঝামেলা করছে। পরে ৩১ মার্চ বিকেলে সকল ব্যবসায়ীর টাকা ফেরত দেওয়া হয়েছে।

মেম্বারের বক্তব্য:

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই মেম্বার জানান, খাসি কেনার টাকা তার কাছে দেওয়া হয়েছিল। পুলিশ না নেওয়ায় ওই ১০ হাজার টাকা বাজারের বণিক সমিতির সভাপতি লক্ষনের কাছে ফেরত দেওয়া হয়েছে।

 পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জের বক্তব্য:

ডহরনগর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মধুসূদন পান্ডে বলেন, তাদের ফাঁড়িতে কেউ কোনো টাকা দেয়নি। আর তারা কেন খাসি কেনার জন্য ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে টাকা নেবেন। তিনি আরও বলেন, পুলিশ ফাঁড়ির কথা বলে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে কালাম মোল্যা, সানোয়ার মেম্বর ও লক্ষণ মন্ডল টাকা তুলেছে বলে তিনি শুনেছেন। কেউ যদি লিখিত অভিযোগ করেন, তাহলে তারা আইনগত ব্যবস্থা নেবেন। তা ছাড়া কালাম মোল্যার নামে মামলা রয়েছে এবং পুলিশ তাকে গ্রেপ্তারের জন্য খুঁজছে।

 থানার ওসির বক্তব্য:

থানা অফিসার ইনচার্জ মো. মাহমুদুল হাসান বলেন, পুলিশের কথা বলে টাকা তোলার বিষয়টি শুনে ফাঁড়ির ইনচার্জের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি জানান, কিছু লোক ফাঁড়ির কথা বলে টাকা তুলেছে বলে তিনি শুনেছেন। ওসি বলেন, ব্যবসায়ীরা যদি লিখিত অভিযোগ দেয়, তাহলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।