ঢাকা ০৪:২৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৫ মে ২০২৬, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফরিদপুরে পাওনার জেরে জিহ্বা কেটে হত্যা, স্তব্ধ পুরো গ্রাম

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
  • আপডেট সময় : ০১:০০:২৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৫
  • / 602

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধের জেরে মো. আব্দুল হালিম মোল্লা (৬১) নামে এক বৃদ্ধের জিহ্বা কেটে গুরুতর জখম করার ঘটনা ঘটেছে। আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার দুই দিন পর মঙ্গলবার (১৫ এপ্রিল) সকালে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তিনি মারা যান।

ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার

রোববার (১৩ এপ্রিল) সকালে উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নের পাড়াগ্রামের মাহবুবের বাগান থেকে গুরুতর আহত অবস্থায় আব্দুল হালিমকে উদ্ধার করে প্রথমে আলফাডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

নিহতের পরিচয়

আব্দুল হালিম মোল্লা পাড়াগ্রাম বাজারে নৈশপ্রহরী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তিনি ওই এলাকার মৃত আবু সাঈদ মোল্লার ছেলে।

কী ঘটেছিল?

পুলিশ, এলাকাবাসী ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, পাওনা টাকা আদায়ের জন্য শনিবার (১২ এপ্রিল) বিকেলে হেলেঞ্চা গ্রামের কয়েকজন—মিজানুর রহমান, শান্ত, লালটু, মজিবর ও আনোয়ারের সঙ্গে দেখা করতে বাড়ি থেকে বের হন হালিম। এর পর রাত আনুমানিক ৩টার দিকে দুর্বৃত্তরা তার জিহ্বা কেটে ফেলে দেয় মাহবুবের বাগানে।

চিকিৎসা ও মৃত্যু

আলফাডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. আবিদ হোসেন জানান, প্রাথমিক চিকিৎসার পর অবস্থার অবনতি হওয়ায় ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে মঙ্গলবার সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

স্থানীয় প্রতিক্রিয়া

স্থানীয় ইউপি সদস্য ইব্রাহিম মোল্লা বলেন, “এটি একটি নির্মম ঘটনা। বৃদ্ধের জিহ্বা কেটে ভয়াবহভাবে জখম করা হয়েছে। ধারের টাকা সংক্রান্ত বিরোধ থেকেই ঘটনা ঘটেছে বলে শুনেছি।”

পুলিশি পদক্ষেপ

আলফাডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হারুন অর রশিদ বলেন, “ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে, অর্থ লেনদেন নিয়ে বিরোধের জেরেই এ ঘটনা। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।”

ফরিদপুরে পাওনার জেরে জিহ্বা কেটে হত্যা, স্তব্ধ পুরো গ্রাম

আপডেট সময় : ০১:০০:২৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৫

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধের জেরে মো. আব্দুল হালিম মোল্লা (৬১) নামে এক বৃদ্ধের জিহ্বা কেটে গুরুতর জখম করার ঘটনা ঘটেছে। আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার দুই দিন পর মঙ্গলবার (১৫ এপ্রিল) সকালে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তিনি মারা যান।

ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার

রোববার (১৩ এপ্রিল) সকালে উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নের পাড়াগ্রামের মাহবুবের বাগান থেকে গুরুতর আহত অবস্থায় আব্দুল হালিমকে উদ্ধার করে প্রথমে আলফাডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

নিহতের পরিচয়

আব্দুল হালিম মোল্লা পাড়াগ্রাম বাজারে নৈশপ্রহরী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তিনি ওই এলাকার মৃত আবু সাঈদ মোল্লার ছেলে।

কী ঘটেছিল?

পুলিশ, এলাকাবাসী ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, পাওনা টাকা আদায়ের জন্য শনিবার (১২ এপ্রিল) বিকেলে হেলেঞ্চা গ্রামের কয়েকজন—মিজানুর রহমান, শান্ত, লালটু, মজিবর ও আনোয়ারের সঙ্গে দেখা করতে বাড়ি থেকে বের হন হালিম। এর পর রাত আনুমানিক ৩টার দিকে দুর্বৃত্তরা তার জিহ্বা কেটে ফেলে দেয় মাহবুবের বাগানে।

চিকিৎসা ও মৃত্যু

আলফাডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. আবিদ হোসেন জানান, প্রাথমিক চিকিৎসার পর অবস্থার অবনতি হওয়ায় ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে মঙ্গলবার সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

স্থানীয় প্রতিক্রিয়া

স্থানীয় ইউপি সদস্য ইব্রাহিম মোল্লা বলেন, “এটি একটি নির্মম ঘটনা। বৃদ্ধের জিহ্বা কেটে ভয়াবহভাবে জখম করা হয়েছে। ধারের টাকা সংক্রান্ত বিরোধ থেকেই ঘটনা ঘটেছে বলে শুনেছি।”

পুলিশি পদক্ষেপ

আলফাডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হারুন অর রশিদ বলেন, “ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে, অর্থ লেনদেন নিয়ে বিরোধের জেরেই এ ঘটনা। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।”