ঢাকা ০৪:৫৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৫ মে ২০২৬, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিশু বালকের অভিযোগে গণধোলাইয়ের শিকার মসজিদ ইমাম,পরবর্তীতে কারাগারে মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক গাজীপুর
  • আপডেট সময় : ০৬:৩০:১৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৫
  • / 385

গাজীপুর মহানগরের পূবাইলে শিশু বলাৎকারের অভিযোগে গণধোলাইয়ের শিকার মসজিদ ইমাম রইজউদ্দিন কারাগারে অসুস্থ হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন। সোমবার সকালে গাজীপুর জেলা কারাগারের জেল সুপার মোহাম্মদ রফিকুল কাদের এই মৃত্যুর সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

শিশুর বলাৎকারের অভিযোগ

গাজীপুরের পূবাইলে আখলাছ জামে মসজিদের ইমাম রইজউদ্দিনের বিরুদ্ধে শিশু বলাৎকারের অভিযোগ ওঠে। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি নিয়মিতভাবে মসজিদের কামরায় শিশুদের ডেকে এনে কোমল পানীয়’র সঙ্গে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে অচেতন করে তাদের বলাৎকার করতেন। এই ঘটনায় গত রোববার খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকাবাসী তাকে গণধোলাই দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করে।

গণধোলাইয়ের পর পুলিশের কাছে আনা

পূবাইল থানার ওসি শেখ আমিরুল ইসলাম জানান, ইমাম রইজউদ্দিনকে গণধোলাইয়ের পর উদ্ধার করে থানায় আনা হলে তার শারীরিক অবস্থা স্বাভাবিক ছিল। তবে, তিনি বলেন, “হয়তো লোকলজ্জা ও টেনশনের কারণে তার শারীরিক অবস্থা খারাপ হতে পারে।”

কারাগারে অসুস্থ হয়ে মৃত্যু

গণধোলাইয়ের পর পুলিশ ইমাম রইজউদ্দিনকে আদালতের মাধ্যমে নারী ও শিশু নির্যাতন মামলায় গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠায়। এরপরই, দিবাগত রাত ২.৪৫ মিনিটে তার শরীর অসুস্থ হয়ে পড়ে। তাকে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমেদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে পাঠানো হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

মৃত্যুর কারণের তদন্ত

গাজীপুর জেলা কারাগারের জেল সুপার মোহাম্মদ রফিকুল কাদের জানান, রইজউদ্দিন রোববার সন্ধ্যায় কারাগারে আসেন এবং পরদিন ভোররাতে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। তিনি আরও জানান, ময়নাতদন্তের পর তার মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে।

মৃত্যুর পরিণতি

মাসখানেক ধরে ঘটনার পর, ইমাম রইজউদ্দিনের মৃত্যুর ঘটনা স্থানীয় এবং দেশের নানা অঞ্চলে আলোচনার সৃষ্টি করেছে। বিশেষত, শিশুদের নিরাপত্তা এবং মসজিদের মত ধর্মীয় স্থানে এমন অনৈতিক কর্মকাণ্ডের প্রতিবন্ধকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

শিশু বালকের অভিযোগে গণধোলাইয়ের শিকার মসজিদ ইমাম,পরবর্তীতে কারাগারে মৃত্যু

আপডেট সময় : ০৬:৩০:১৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৫

গাজীপুর মহানগরের পূবাইলে শিশু বলাৎকারের অভিযোগে গণধোলাইয়ের শিকার মসজিদ ইমাম রইজউদ্দিন কারাগারে অসুস্থ হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন। সোমবার সকালে গাজীপুর জেলা কারাগারের জেল সুপার মোহাম্মদ রফিকুল কাদের এই মৃত্যুর সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

শিশুর বলাৎকারের অভিযোগ

গাজীপুরের পূবাইলে আখলাছ জামে মসজিদের ইমাম রইজউদ্দিনের বিরুদ্ধে শিশু বলাৎকারের অভিযোগ ওঠে। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি নিয়মিতভাবে মসজিদের কামরায় শিশুদের ডেকে এনে কোমল পানীয়’র সঙ্গে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে অচেতন করে তাদের বলাৎকার করতেন। এই ঘটনায় গত রোববার খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকাবাসী তাকে গণধোলাই দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করে।

গণধোলাইয়ের পর পুলিশের কাছে আনা

পূবাইল থানার ওসি শেখ আমিরুল ইসলাম জানান, ইমাম রইজউদ্দিনকে গণধোলাইয়ের পর উদ্ধার করে থানায় আনা হলে তার শারীরিক অবস্থা স্বাভাবিক ছিল। তবে, তিনি বলেন, “হয়তো লোকলজ্জা ও টেনশনের কারণে তার শারীরিক অবস্থা খারাপ হতে পারে।”

কারাগারে অসুস্থ হয়ে মৃত্যু

গণধোলাইয়ের পর পুলিশ ইমাম রইজউদ্দিনকে আদালতের মাধ্যমে নারী ও শিশু নির্যাতন মামলায় গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠায়। এরপরই, দিবাগত রাত ২.৪৫ মিনিটে তার শরীর অসুস্থ হয়ে পড়ে। তাকে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমেদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে পাঠানো হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

মৃত্যুর কারণের তদন্ত

গাজীপুর জেলা কারাগারের জেল সুপার মোহাম্মদ রফিকুল কাদের জানান, রইজউদ্দিন রোববার সন্ধ্যায় কারাগারে আসেন এবং পরদিন ভোররাতে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। তিনি আরও জানান, ময়নাতদন্তের পর তার মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে।

মৃত্যুর পরিণতি

মাসখানেক ধরে ঘটনার পর, ইমাম রইজউদ্দিনের মৃত্যুর ঘটনা স্থানীয় এবং দেশের নানা অঞ্চলে আলোচনার সৃষ্টি করেছে। বিশেষত, শিশুদের নিরাপত্তা এবং মসজিদের মত ধর্মীয় স্থানে এমন অনৈতিক কর্মকাণ্ডের প্রতিবন্ধকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।