ঢাকা ০৮:৫৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আখতারুজ্জামানকে নেতা মানতে ‘নারাজ’ জামায়াত

দৈনিক জাগ্রত বাংলাদেশ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ১১:৪৮:৪৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৬
  • / 110

ঢাকার হযরত শাহজালাল (রহ.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের সঙ্গে বিবাদ, হুমকি ও মারধরের চাঞ্চল্যকর অভিযোগে গ্রেফতার হওয়া সাবেক সংসদ সদস্য ও অবসরপ্রাপ্ত মেজর আখতারুজ্জামানকে নিয়ে তোলপাড় রাজনৈতিক অঙ্গন। গণমাধ্যমের একাংশে তাঁকে ‘জামায়াত নেতা’ হিসেবে চিহ্নিত করা হলেও, শনিবার (৩ অক্টোবর) আনুষ্ঠানিকভাবে সেই দাবি নাকচ করে দিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির নায়েবে আমীর ও জাতীয় সংসদ সদস্য এটিএম আজহারুল ইসলাম স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন—মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান জামায়াতের কোনো নেতা নন, তিনি কেবল একজন প্রাথমিক সহযোগী সদস্য মাত্র।

শনিবার দুপুরে রংপুর নগরীর শাপলা চত্বরে অবস্থিত জেলা জামায়াত কার্যালয়ে ‘রংপুর বিভাগীয় উন্নয়ন ফোরাম’-এর ১৩ দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে আয়োজিত এক জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে এই রাজনৈতিক অবস্থান ব্যাখ্যা করেন আজহারুল ইসলাম।

‘বিভ্রান্তি ছড়াতে নেতা বানানোর অপচেষ্টা’

সংবাদ সম্মেলনে বিমানবন্দরে অপ্রীতিকর ঘটনায় আখতারুজ্জামানের গ্রেফতার ও দলীয় পরিচয়ের প্রসঙ্গ টেনে এটিএম আজহারুল ইসলাম বলেন, জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতেই উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আখতারুজ্জামানকে জামায়াতের ‘নেতা’ হিসেবে প্রচার করা হচ্ছে। তিনি তথ্য তুলে ধরে জানান—মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান ২০২৫ সালের ১৩ ডিসেম্বর জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দিয়ে কেবল প্রাথমিক সহযোগী সদস্যের ফরম পূরণ করেছিলেন।

জামায়াতের সাংগঠনিক কাঠামোর ব্যাখ্যা দিয়ে নায়েবে আমীর বলেন—

“টকশোতে যারা কথা বলেন, তারা বলে থাকেন জামায়াতে যোগ দিলেই নেতা হওয়া যায় না। কিন্তু কালকে থেকে দেখছি আখতারুজ্জামানকে রাতারাতি নেতা বানিয়ে দেওয়া হলো! তিনি দলের সাধারণ সহযোগী সদস্য ছাড়া আর কিছুই নন। প্রাথমিক সদস্যপদ পাওয়ার পর কর্মী, তারপর সদস্য এবং তার অনেক ধাপে উত্তরণ ঘটিয়ে নেতা হতে হয়। একজন সাধারণ প্রাথমিক সদস্যকে নেতা বানিয়ে প্রচার করাটা একধরনের রাজনৈতিক অপকৌশল।”

তিস্তা মহাপরিকল্পনা ও ভূ-রাজনীতির বাধা

সংবাদ সম্মেলনে রংপুর বিভাগের দীর্ঘদিনের অবহেলা ও বৈষম্যের চিত্র তুলে ধরে ১৩ দফা দাবি উপস্থাপন করা হয়। তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রতার জন্য ভৌগোলিক রাজনীতিকে দায়ী করে আজহারুল ইসলাম বলেন—

“রংপুর বিভাগ দেশের সবচেয়ে অবহেলিত অঞ্চল। এ অঞ্চলের দীর্ঘদিনের বৈষম্য দূর করতে তিস্তা মহাপরিকল্পনা দ্রুত বাস্তবায়ন জরুরি। কিন্তু একটি বিশেষ প্রতিবেশী দেশের আপত্তির কারণে সরকার তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে পিছু হটে আছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।”

বিএনপি-আওয়ামী লীগকে একবন্ধনীতে কড়া তোপ

দেশের বর্তমান রাজনৈতিক অস্থিরতা ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতির চরম সমালোচনা করে জামায়াতের এই শীর্ষ নেতা হুঙ্কার ছেড়ে বলেন, আওয়ামী লীগের পরিণতি থেকে শিক্ষা না নিলে বিএনপিকেও একই পরিণতি ভোগ করতে হতে পারে।

তাঁর ভাষ্য মতে—

“আওয়ামী লীগের মতো বিএনপিকেও শেষ পর্যন্ত পালিয়ে যেতে হবে, কারণ দেশের জনগণ জুলুম, অত্যাচার আর নতুন কোনো চাঁদাবাজি সহ্য করবে না। আজ চাঁদাবাজির কারণে সাধারণ মানুষের জীবন অতিষ্ঠ। পরিতাপের বিষয়, বিএনপি আজ ক্ষমতার লোভে সেই পুরনো আওয়ামী লীগের দেখানো পথেই হাঁটছে। আমাদের ভয় দেখিয়ে লাভ নেই; অযোগ্য ও দুর্নীতিপরায়ণ নেতৃত্বের কারণেই আজ দেশে অরাজকতা বিরাজ করছে এবং সরকার সংবিধানের দোহাই দিয়ে যা ইচ্ছা তা-ই চালিয়ে যাচ্ছে।”

সংবাদ সম্মেলনে রংপুর বিভাগের বিভিন্ন আসনের জামায়াত সমর্থিত সংসদ সদস্যবৃন্দ, রংপুর মহানগর জামায়াতের আমীর উপাধ্যক্ষ এটিএম আজম খানসহ জেলা ও মহানগরের শীর্ষস্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

আখতারুজ্জামানকে নেতা মানতে ‘নারাজ’ জামায়াত

আপডেট সময় : ১১:৪৮:৪৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৬

ঢাকার হযরত শাহজালাল (রহ.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের সঙ্গে বিবাদ, হুমকি ও মারধরের চাঞ্চল্যকর অভিযোগে গ্রেফতার হওয়া সাবেক সংসদ সদস্য ও অবসরপ্রাপ্ত মেজর আখতারুজ্জামানকে নিয়ে তোলপাড় রাজনৈতিক অঙ্গন। গণমাধ্যমের একাংশে তাঁকে ‘জামায়াত নেতা’ হিসেবে চিহ্নিত করা হলেও, শনিবার (৩ অক্টোবর) আনুষ্ঠানিকভাবে সেই দাবি নাকচ করে দিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির নায়েবে আমীর ও জাতীয় সংসদ সদস্য এটিএম আজহারুল ইসলাম স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন—মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান জামায়াতের কোনো নেতা নন, তিনি কেবল একজন প্রাথমিক সহযোগী সদস্য মাত্র।

শনিবার দুপুরে রংপুর নগরীর শাপলা চত্বরে অবস্থিত জেলা জামায়াত কার্যালয়ে ‘রংপুর বিভাগীয় উন্নয়ন ফোরাম’-এর ১৩ দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে আয়োজিত এক জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে এই রাজনৈতিক অবস্থান ব্যাখ্যা করেন আজহারুল ইসলাম।

‘বিভ্রান্তি ছড়াতে নেতা বানানোর অপচেষ্টা’

সংবাদ সম্মেলনে বিমানবন্দরে অপ্রীতিকর ঘটনায় আখতারুজ্জামানের গ্রেফতার ও দলীয় পরিচয়ের প্রসঙ্গ টেনে এটিএম আজহারুল ইসলাম বলেন, জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতেই উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আখতারুজ্জামানকে জামায়াতের ‘নেতা’ হিসেবে প্রচার করা হচ্ছে। তিনি তথ্য তুলে ধরে জানান—মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান ২০২৫ সালের ১৩ ডিসেম্বর জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দিয়ে কেবল প্রাথমিক সহযোগী সদস্যের ফরম পূরণ করেছিলেন।

জামায়াতের সাংগঠনিক কাঠামোর ব্যাখ্যা দিয়ে নায়েবে আমীর বলেন—

“টকশোতে যারা কথা বলেন, তারা বলে থাকেন জামায়াতে যোগ দিলেই নেতা হওয়া যায় না। কিন্তু কালকে থেকে দেখছি আখতারুজ্জামানকে রাতারাতি নেতা বানিয়ে দেওয়া হলো! তিনি দলের সাধারণ সহযোগী সদস্য ছাড়া আর কিছুই নন। প্রাথমিক সদস্যপদ পাওয়ার পর কর্মী, তারপর সদস্য এবং তার অনেক ধাপে উত্তরণ ঘটিয়ে নেতা হতে হয়। একজন সাধারণ প্রাথমিক সদস্যকে নেতা বানিয়ে প্রচার করাটা একধরনের রাজনৈতিক অপকৌশল।”

তিস্তা মহাপরিকল্পনা ও ভূ-রাজনীতির বাধা

সংবাদ সম্মেলনে রংপুর বিভাগের দীর্ঘদিনের অবহেলা ও বৈষম্যের চিত্র তুলে ধরে ১৩ দফা দাবি উপস্থাপন করা হয়। তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রতার জন্য ভৌগোলিক রাজনীতিকে দায়ী করে আজহারুল ইসলাম বলেন—

“রংপুর বিভাগ দেশের সবচেয়ে অবহেলিত অঞ্চল। এ অঞ্চলের দীর্ঘদিনের বৈষম্য দূর করতে তিস্তা মহাপরিকল্পনা দ্রুত বাস্তবায়ন জরুরি। কিন্তু একটি বিশেষ প্রতিবেশী দেশের আপত্তির কারণে সরকার তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে পিছু হটে আছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।”

বিএনপি-আওয়ামী লীগকে একবন্ধনীতে কড়া তোপ

দেশের বর্তমান রাজনৈতিক অস্থিরতা ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতির চরম সমালোচনা করে জামায়াতের এই শীর্ষ নেতা হুঙ্কার ছেড়ে বলেন, আওয়ামী লীগের পরিণতি থেকে শিক্ষা না নিলে বিএনপিকেও একই পরিণতি ভোগ করতে হতে পারে।

তাঁর ভাষ্য মতে—

“আওয়ামী লীগের মতো বিএনপিকেও শেষ পর্যন্ত পালিয়ে যেতে হবে, কারণ দেশের জনগণ জুলুম, অত্যাচার আর নতুন কোনো চাঁদাবাজি সহ্য করবে না। আজ চাঁদাবাজির কারণে সাধারণ মানুষের জীবন অতিষ্ঠ। পরিতাপের বিষয়, বিএনপি আজ ক্ষমতার লোভে সেই পুরনো আওয়ামী লীগের দেখানো পথেই হাঁটছে। আমাদের ভয় দেখিয়ে লাভ নেই; অযোগ্য ও দুর্নীতিপরায়ণ নেতৃত্বের কারণেই আজ দেশে অরাজকতা বিরাজ করছে এবং সরকার সংবিধানের দোহাই দিয়ে যা ইচ্ছা তা-ই চালিয়ে যাচ্ছে।”

সংবাদ সম্মেলনে রংপুর বিভাগের বিভিন্ন আসনের জামায়াত সমর্থিত সংসদ সদস্যবৃন্দ, রংপুর মহানগর জামায়াতের আমীর উপাধ্যক্ষ এটিএম আজম খানসহ জেলা ও মহানগরের শীর্ষস্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।