নির্বাচনী লড়াইয়ে চমক: ৭০ শতাংশ আসনে একক প্রার্থী চূড়ান্ত করছে বিএনপি
- আপডেট সময় : ১০:২৪:১২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫
- / 541
আসছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নতুন ও চমকপ্রদ কৌশল নিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। তফসিল ঘোষণার আগেই ৩০০ আসনের মধ্যে অন্তত ৭০ শতাংশ আসনে একক প্রার্থী চূড়ান্ত করে ঘোষণা দেওয়ার প্রাথমিক প্রস্তুতি নিচ্ছে দলটি। এ সিদ্ধান্তের পেছনে রয়েছে দীর্ঘ ১৫ বছর নির্বাচন থেকে দূরে থাকার কারণে সৃষ্ট দলীয় দ্বন্দ্ব এড়ানো এবং জনগণের কাছে আরও সুসংগঠিতভাবে পৌঁছানোর লক্ষ্য।
কেন আগেভাগে প্রার্থী ঘোষণা?
বিএনপির শীর্ষ নীতিনির্ধারকদের মতে, দীর্ঘদিন নির্বাচন থেকে দূরে থাকায় এবার প্রতিটি আসনে একাধিক প্রার্থী মনোনয়ন চাইবেন, যা ভোটের আগ মুহূর্তে অভ্যন্তরীণ কোন্দল তৈরি করতে পারে। এই আশঙ্কা থেকেই আগেভাগে একক প্রার্থী চূড়ান্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এতে মনোনয়নপ্রত্যাশীরা ঐক্যবদ্ধভাবে একক প্রার্থীর পক্ষে কাজ করতে পারবেন এবং জনগণের কাছে দলের অবস্থান সুসংহত হবে। এটি সফল করতে বিভিন্ন উইং থেকে আসনভিত্তিক বাস্তব চিত্র সংগ্রহ করা হচ্ছে।
মনোনয়ন প্রক্রিয়া ও নতুন মুখের চমক
প্রার্থী মনোনয়নে বড় ধরনের চমক থাকার ইঙ্গিত দিয়েছেন নীতিনির্ধারকরা। জানা গেছে, এবার অনেক সিনিয়র ও প্রভাবশালী নেতা মনোনয়ন নাও পেতে পারেন। দলটির হাইকমান্ড তরুণ ও নতুন মুখকে বেশি সুযোগ দিতে চাইছে। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ত্যাগী, সৎ, যোগ্য এবং জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য প্রার্থীদেরই বেছে নেবেন। যাদের বিরুদ্ধে অপকর্মের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আছে এবং মাঠে গ্রহণযোগ্যতা নেই, তারা কোনোভাবেই প্রার্থী হতে পারবেন না। দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, দলের স্থায়ী কমিটিই হবে পার্লামেন্টারি বোর্ড এবং তাদের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলে গণ্য হবে।
ভোটারদের কাছে যাওয়ার নতুন কৌশল
নির্বাচনের প্রস্তুতি হিসেবে বিএনপি এখন মাঠের পাশাপাশি জনগণের ঘরে ঘরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। জনসম্পৃক্ত নানা কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে ভোটারদের কাছে যাওয়ার এই কৌশলকে বলা হচ্ছে ‘ডোর টু ডোর’ কর্মসূচি। এই কর্মসূচিতে পুরুষের পাশাপাশি মহিলা নেতাকর্মীদেরও ব্যাপক পরিসরে যুক্ত করা হবে। বিএনপি তাদের ‘রাষ্ট্র কাঠামো মেরামতের’ ৩১ দফা রূপরেখাসহ বিগত সরকারগুলোর ইতিবাচক পদক্ষেপ এবং আগামী দিনের প্রতিশ্রুতিগুলো মানুষের কাছে তুলে ধরবে। পাশাপাশি, কেন আগামী ফেব্রুয়ারিতেই নির্বাচন প্রয়োজন, সেই বিষয়টিও তারা জনগণকে বোঝাবে।
অন্যান্য দলের প্রস্তুতি
নির্বাচন সামনে রেখে অন্যান্য রাজনৈতিক দলও ইতোমধ্যে প্রার্থী ঘোষণা শুরু করেছে। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ২৯৬ আসনে, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ৩০০ আসনে, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ২৬৮ আসনে এবং নুরুল হক নুরের গণঅধিকার পরিষদ ৩৬ আসনে সম্ভাব্য প্রার্থীর তালিকা প্রকাশ করেছে। এসব দলের প্রস্তুতির পরিপ্রেক্ষিতেই বিএনপিও এখন দ্রুত একক প্রার্থী চূড়ান্ত করার পরিকল্পনা করছে।

























