আলোচনা ব্যর্থ হলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি যুদ্ধের হুঁশিয়ারি ইরানের
- আপডেট সময় : ০৭:৪৪:৩৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৭ মে ২০২৬
- / 94
আলোচনা ব্যর্থ হলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি সামরিক সংঘাতে ফিরতে ইরান সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধ শুধু মধ্যপ্রাচ্যকেই ক্ষতিগ্রস্ত করেনি, এর সরাসরি প্রভাব এখন সাধারণ মার্কিন পরিবারগুলোর ওপরও পড়ছে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে শনিবার (১৬ মে) এই তথ্য জানানো হয়েছে।
টুইটে মার্কিন অর্থনীতি নিয়ে খোঁচা:
এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাঘচি লেখেন, “আমেরিকানদের বলা হচ্ছে, ইরানের বিরুদ্ধে পছন্দের এই যুদ্ধের ক্রমবর্ধমান খরচ তাদেরই বহন করতে হবে।” পোস্টটির সঙ্গে তিনি মার্কিন ট্রেজারি বন্ডের বাড়তে থাকা সুদের হারের একটি ছবিও যুক্ত করেন।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানি ব্যয় ও মূল্যস্ফীতি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। উল্লেখ্য, বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাস পরিবহনের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ সাধারণত এই কৌশলগত প্রণালি দিয়েই হয়ে থাকে।
আরাঘচি আরও বলেন, জ্বালানির দাম বৃদ্ধি ও শেয়ারবাজারের অস্থিরতা বাদ দিলেও আসল চাপ শুরু হবে তখন, যখন মার্কিন ঋণ ও গৃহঋণের সুদের হার বাড়তে থাকবে। তিনি জানান, মার্কিন মুলুকে গাড়ির ঋণ খেলাপির হার ইতোমধ্যেই গত ৩০ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে এবং যুদ্ধের হুমকি বজায় থাকলে এই চাপ শেষ পর্যন্ত দেশটিকে মারাত্মক মন্দার দিকে নিয়ে যেতে পারে।
মার্কিন বন্ড ও ঋণের সংকট:
এদিকে ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফও এক্সে ব্যঙ্গাত্মক সুরে মার্কিন প্রশাসনের সমালোচনা করেছেন। তিনি ৩৯ ট্রিলিয়ন ডলারের মার্কিন ঋণের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, একটি অভিনয়সুলভ যুদ্ধের জন্য আর্থিক সংকট-পূর্ব সময়ের মতো উচ্চ সুদে অর্থ জোগানো চরম পাগলামি, যার ফল হতে পারে নতুন একটি বৈশ্বিক আর্থিক সংকট।
সম্প্রতি মার্কিন সরকার ৩০ বছর মেয়াদি ২৫ বিলিয়ন ডলারের বন্ড রেকর্ড পাঁচ শতাংশ সুদে বিক্রি করেছে, যা গত দুই দশকের মধ্যে প্রথম। শুক্রবার ১০ বছর মেয়াদি মার্কিন ট্রেজারি বন্ডের সুদের হারও এক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। ব্যবসায়ীরা আশঙ্কা করছেন, হরমুজ সংকটের কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে মূল্যস্ফীতি বাড়তে থাকায় ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার আরও বাড়াতে পারে।
হরমুজ প্রণালি নিয়ে অচলাবস্থা:
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনার প্রধান অচলাবস্থার কেন্দ্রবিন্দু হলো হরমুজ প্রণালির ভবিষ্যৎ। ইরান এই জলপথের ওপর তাদের সার্বভৌম নিয়ন্ত্রণের স্বীকৃতি দাবি করলেও উপসাগরীয় দেশগুলো এটিকে আন্তর্জাতিক জলপথ হিসেবে উল্লেখ করে তা প্রত্যাখ্যান করেছে।
ইরানি পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা কমিশনের প্রধান এব্রাহিম আজিজি শনিবার জানান, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিয়ন্ত্রণের জন্য একটি পেশাদার ব্যবস্থা প্রস্তুত করা হয়েছে, যা শিগগিরই প্রকাশ করা হবে। এই নতুন ব্যবস্থায় কেবল ইরানের সঙ্গে সহযোগিতাকারী বাণিজ্যিক জাহাজগুলো সুবিধা পাবে এবং ওয়াশিংটনের ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ সমর্থনকারী দেশগুলোর জাহাজ চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রাখা হবে।


























