ঢাকা ০৬:২৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিএনপি-জামায়াতের দুর্গে এনসিপির হানা: জাতীয় নির্বাচনে তুমুল লড়াইয়ের আভাস

দৈনিক জাগ্রত বাংলাদেশ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ০৮:৫২:৫২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ জুন ২০২৫
  • / 359

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নবগঠিত জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর শীর্ষ নেতাদের কঠিন লড়াইয়ের মুখোমুখি হতে হবে। তাদের সম্ভাব্য নির্বাচনি আসনগুলোতে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর একাধিক হেভিওয়েট প্রার্থীর নাম শোনা যাচ্ছে, যা এনসিপি নেতাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। গণ-অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া এই তরুণ দল যদি ভোটের মাঠে সেই আবেগকে ধরে রাখতে ব্যর্থ হয়, তবে ফলাফলে বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

জাতীয় নির্বাচনের দিনক্ষণ এখনো চূড়ান্ত না হলেও, প্রধান উপদেষ্টা জানিয়েছেন যে সংস্কার ও বিচারের বিষয়ে পর্যাপ্ত অগ্রগতি হলে আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতে ভোট হতে পারে। এই ঘোষণার পর থেকেই রাজনৈতিক দলগুলো নির্বাচনি মাঠ গোছাতে তৎপর হয়ে উঠেছে। দলের শীর্ষ নেতারা কে কোন আসন থেকে লড়বেন, তাও প্রায় চূড়ান্ত করে ফেলেছেন এবং নির্বাচনি প্রচারণাও শুরু করেছেন। তবে অনেকের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে গণ-অভ্যুত্থানে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেওয়া তরুণদের নতুন দল এনসিপি। দলটির নেতারাও ইতোমধ্যে নিজ নিজ এলাকায় জোরেশোরে ভোটের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

এনসিপির শীর্ষ নেতারা ও তাদের সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বী

সূত্রমতে, এনসিপির শীর্ষ নেতাদের মধ্যে নাহিদ ইসলাম, আখতার হোসেন, সামান্তা শারমিন, আরিফুল ইসলাম আদীব, সারোয়ার তুষার, ডা. তাসনিম জারা, সারজিস আলম, হাসনাত আবদুল্লাহ, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও আবদুল হান্নান মাসউদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। কিন্তু তাদের এই গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের লড়তে হবে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর শক্তিশালী প্রার্থীদের বিরুদ্ধে। বিশেষ করে এনসিপির শীর্ষ দশ নেতার আসনে বিএনপির সাবেক মন্ত্রী ড. আব্দুল মঈন খান, কেন্দ্রীয় নেতা এমএ কাইয়ুম, সাবেক এমপি প্রয়াত রহিম উদ্দিন ভরসার ছেলে মোহাম্মদ এমদাদুল হক ভরসা, সাবেক মন্ত্রী ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকারের ছেলে ব্যারিস্টার মুহম্মদ নওশাদ জমির, তারেক রহমানের রহমানের উপদেষ্টা মাহদী আমিন-এর মতো ব্যাপক জনপ্রিয় প্রার্থীরা রয়েছেন। এছাড়াও জামায়াতের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় প্রভাবশালী নেতারাও প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকবেন। এই পরিস্থিতিতে এনসিপির নেতারা নিজ আসনে সাধারণ ভোটারদের কতটা মন জয় করতে পারবেন, তার ওপরই নির্ভর করবে ভোটের ফলাফল।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতামত

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক কাজী মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান গণমাধ্যমে জানান, এনসিপির সম্ভাবনা তৈরি হবে নতুন দল এবং দলের অবস্থানগতভাবে, প্রার্থীগতভাবে নয়। নির্বাচনের আগ পর্যন্ত দলটি পুরোনো ধারার রাজনৈতিক দলের চেয়ে নতুন কী ধারা তৈরি করল অথবা ভবিষ্যতের জন্য নতুন কী প্রতিশ্রুতি দিতে পারল – তার ওপর অনেক কিছু নির্ভর করবে। তিনি আরও বলেন, মাঠপর্যায়ে এনসিপির সাংগঠনিক ভিত্তি একটা বড় ফ্যাক্টর হিসাবে কাজ করবে। শুধু ফেসবুক স্ট্যাটাস আর সংবাদ সম্মেলন করে ভোটের রাজনীতিতে সফল হওয়া যাবে না। গণ-অভ্যুত্থানে নেতৃত্বের সফলতা আর ভোটের রাজনীতি এক বিষয় নয়; ভোট রাজনীতি বড় কঠিন বিষয় এবং এর হিসাব-নিকাশ হয় ভিন্নভাবে। এছাড়া, আমাদের দেশে এখনো শুধু প্রার্থীকে দেখে ভোট দেওয়ার সংস্কৃতি তৈরি হয়নি।

তিনি যোগ করেন, এনসিপির প্রার্থীদের সম্পূর্ণ দুর্নীতিমুক্ত থাকতে হবে। তাদের বিরুদ্ধে কোনো খারাপ কিছু উত্থাপিত হলে এবং তার সঠিক জবাব জনগণ খুঁজে না পেলে ভোটের প্রচারণা ও ফলাফলে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। এমনকি জোট করলেও তাদের জয়ের নিশ্চয়তা নাও থাকতে পারে।

আসনভিত্তিক সম্ভাব্য লড়াই

ঢাকা-১১ (বাড্ডা-রামপুরা): এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম লড়তে পারেন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী হতে পারেন বিএনপির হেভিওয়েট প্রার্থী ড. এমএ কাইয়ুম এবং জামায়াতের অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান। এমএ কাইয়ুম নিজ এলাকায় অত্যন্ত জনপ্রিয়।

রংপুর-৪ (পীরগাছা ও কাউনিয়া): এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন ইতোমধ্যে তার নির্বাচনি এলাকায় সক্রিয়। এই আসনে বিএনপির শক্তিশালী প্রার্থী সাবেক এমপি প্রয়াত রহিম উদ্দিন ভরসার ছেলে মোহাম্মদ এমদাদুল হক ভরসা এবং জামায়াতের রংপুর মহানগর আমির এটিএম আজম খান।

ভোলা-১ (সদর): এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন প্রার্থী হতে পারেন, যদিও এখনো নিশ্চিত নয়। এই আসনে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীরা হলেন গোলাম নবী আলমগীর, হায়দার আলী লেলিন, শফিউর রহমান কিরণ। এছাড়া, ব্যারিস্টার আন্দালিভ রহমান পার্থও শক্তিশালী প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন। জামায়াতের প্রার্থী জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির অধ্যক্ষ মো. নজরুল ইসলাম।

ঢাকা-১৪ (মিরপুর-কাউনিয়া): এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব সম্ভাব্য প্রার্থী। এই আসনে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী তারেক রহমানের উপদেষ্টা মাহদী আমিন এবং জামায়াতের ব্যারিস্টার মীর আহমদ বিন কাশেম আরমান।

নরসিংদী-২ (পলাশ ও সদর অংশ): এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার সম্ভাব্য প্রার্থী। তার বিপক্ষে লড়বেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান, যিনি সাবেক এমপি ও মন্ত্রী এবং অত্যন্ত জনপ্রিয়। জামায়াতের সম্ভাব্য প্রার্থী আমজাদ হোসাইন।

ঢাকা-১৭ (গুলশান-বনানী-ক্যান্টনমেন্ট): এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিব ডা. তাসনিম জারা নির্বাচন করতে পারেন। এখানে বিএনপির একাধিক হেভিওয়েট প্রার্থী রয়েছেন এবং জামায়াতের সম্ভাব্য প্রার্থী ডা. এসএম খালিদুজ্জামান।

পঞ্চগড়-১ (সদর, তেঁতুলিয়া ও আটোয়ারী): এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম সম্ভাব্য প্রার্থী। এটি মূলত বিএনপির ঘাঁটি। এখানে বিএনপির ব্যারিস্টার মুহম্মদ নওশাদ জমির (সাবেক মন্ত্রী জমিরউদ্দিন সরকারের ছেলে) এবং জামায়াতের অধ্যাপক ইকবাল হোসেন (জেলা আমির) শক্তিশালী প্রার্থী।

কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার): এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ সম্ভাব্য প্রার্থী। এই আসনে বিএনপি-এনসিপি এবং জামায়াতের মধ্যে ত্রিমুখী লড়াইয়ের সম্ভাবনা রয়েছে। বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীরা হলেন মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী, এএফএম তারেক মুন্সী ও এমএ আউয়াল খান। জামায়াতের প্রার্থী সাইফুল ইসলাম। হাসনাত আবদুল্লাহ জুলাই-আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দিয়ে তরুণ প্রজন্মের বড় অংশের অনুসারী হয়েছেন।

চাঁদপুর-৫ (হাজীগঞ্জ-শাহরাস্তি): এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এই আসনে বিএনপির ইঞ্জিনিয়ার মমিনুল হক, আনোয়ার হোসেন খোকন ও ব্যারিস্টার কামাল উদ্দিন সম্ভাব্য প্রার্থী। জামায়াতের সম্ভাব্য প্রার্থী অধ্যাপক মাওলানা আবুল হোসাইন। নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী জানিয়েছেন, বিচার ও সংস্কারের বিষয়গুলো নিষ্পত্তি হওয়ার পরেই তারা দলীয়ভাবে নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নেবেন।

নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া): এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আবদুল হান্নান মাসউদ সম্ভাব্য প্রার্থী। বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশীদের মধ্যে শীর্ষে আছেন সাবেক জনপ্রিয় সংসদ-সদস্য প্রকৌশলী ফজলুল হক আজিম। এছাড়াও প্রকৌশলী তানভীর উদ্দিন রাজিব ও শাহ নেওয়াজ বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী। জামায়াতের সম্ভাব্য প্রার্থী অ্যাডভোকেট শাহ মুহাম্মদ মাহফুজুল হক।

এসব সমীকরণের উত্তর জানতে এবং ভোটের মাঠের সত্যিকার অবস্থা দেখতে নির্বাচনি প্রচারণা শুরু হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।

বিএনপি-জামায়াতের দুর্গে এনসিপির হানা: জাতীয় নির্বাচনে তুমুল লড়াইয়ের আভাস

আপডেট সময় : ০৮:৫২:৫২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ জুন ২০২৫

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নবগঠিত জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর শীর্ষ নেতাদের কঠিন লড়াইয়ের মুখোমুখি হতে হবে। তাদের সম্ভাব্য নির্বাচনি আসনগুলোতে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর একাধিক হেভিওয়েট প্রার্থীর নাম শোনা যাচ্ছে, যা এনসিপি নেতাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। গণ-অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া এই তরুণ দল যদি ভোটের মাঠে সেই আবেগকে ধরে রাখতে ব্যর্থ হয়, তবে ফলাফলে বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

জাতীয় নির্বাচনের দিনক্ষণ এখনো চূড়ান্ত না হলেও, প্রধান উপদেষ্টা জানিয়েছেন যে সংস্কার ও বিচারের বিষয়ে পর্যাপ্ত অগ্রগতি হলে আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতে ভোট হতে পারে। এই ঘোষণার পর থেকেই রাজনৈতিক দলগুলো নির্বাচনি মাঠ গোছাতে তৎপর হয়ে উঠেছে। দলের শীর্ষ নেতারা কে কোন আসন থেকে লড়বেন, তাও প্রায় চূড়ান্ত করে ফেলেছেন এবং নির্বাচনি প্রচারণাও শুরু করেছেন। তবে অনেকের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে গণ-অভ্যুত্থানে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেওয়া তরুণদের নতুন দল এনসিপি। দলটির নেতারাও ইতোমধ্যে নিজ নিজ এলাকায় জোরেশোরে ভোটের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

এনসিপির শীর্ষ নেতারা ও তাদের সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বী

সূত্রমতে, এনসিপির শীর্ষ নেতাদের মধ্যে নাহিদ ইসলাম, আখতার হোসেন, সামান্তা শারমিন, আরিফুল ইসলাম আদীব, সারোয়ার তুষার, ডা. তাসনিম জারা, সারজিস আলম, হাসনাত আবদুল্লাহ, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও আবদুল হান্নান মাসউদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। কিন্তু তাদের এই গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের লড়তে হবে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর শক্তিশালী প্রার্থীদের বিরুদ্ধে। বিশেষ করে এনসিপির শীর্ষ দশ নেতার আসনে বিএনপির সাবেক মন্ত্রী ড. আব্দুল মঈন খান, কেন্দ্রীয় নেতা এমএ কাইয়ুম, সাবেক এমপি প্রয়াত রহিম উদ্দিন ভরসার ছেলে মোহাম্মদ এমদাদুল হক ভরসা, সাবেক মন্ত্রী ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকারের ছেলে ব্যারিস্টার মুহম্মদ নওশাদ জমির, তারেক রহমানের রহমানের উপদেষ্টা মাহদী আমিন-এর মতো ব্যাপক জনপ্রিয় প্রার্থীরা রয়েছেন। এছাড়াও জামায়াতের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় প্রভাবশালী নেতারাও প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকবেন। এই পরিস্থিতিতে এনসিপির নেতারা নিজ আসনে সাধারণ ভোটারদের কতটা মন জয় করতে পারবেন, তার ওপরই নির্ভর করবে ভোটের ফলাফল।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতামত

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক কাজী মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান গণমাধ্যমে জানান, এনসিপির সম্ভাবনা তৈরি হবে নতুন দল এবং দলের অবস্থানগতভাবে, প্রার্থীগতভাবে নয়। নির্বাচনের আগ পর্যন্ত দলটি পুরোনো ধারার রাজনৈতিক দলের চেয়ে নতুন কী ধারা তৈরি করল অথবা ভবিষ্যতের জন্য নতুন কী প্রতিশ্রুতি দিতে পারল – তার ওপর অনেক কিছু নির্ভর করবে। তিনি আরও বলেন, মাঠপর্যায়ে এনসিপির সাংগঠনিক ভিত্তি একটা বড় ফ্যাক্টর হিসাবে কাজ করবে। শুধু ফেসবুক স্ট্যাটাস আর সংবাদ সম্মেলন করে ভোটের রাজনীতিতে সফল হওয়া যাবে না। গণ-অভ্যুত্থানে নেতৃত্বের সফলতা আর ভোটের রাজনীতি এক বিষয় নয়; ভোট রাজনীতি বড় কঠিন বিষয় এবং এর হিসাব-নিকাশ হয় ভিন্নভাবে। এছাড়া, আমাদের দেশে এখনো শুধু প্রার্থীকে দেখে ভোট দেওয়ার সংস্কৃতি তৈরি হয়নি।

তিনি যোগ করেন, এনসিপির প্রার্থীদের সম্পূর্ণ দুর্নীতিমুক্ত থাকতে হবে। তাদের বিরুদ্ধে কোনো খারাপ কিছু উত্থাপিত হলে এবং তার সঠিক জবাব জনগণ খুঁজে না পেলে ভোটের প্রচারণা ও ফলাফলে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। এমনকি জোট করলেও তাদের জয়ের নিশ্চয়তা নাও থাকতে পারে।

আসনভিত্তিক সম্ভাব্য লড়াই

ঢাকা-১১ (বাড্ডা-রামপুরা): এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম লড়তে পারেন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী হতে পারেন বিএনপির হেভিওয়েট প্রার্থী ড. এমএ কাইয়ুম এবং জামায়াতের অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান। এমএ কাইয়ুম নিজ এলাকায় অত্যন্ত জনপ্রিয়।

রংপুর-৪ (পীরগাছা ও কাউনিয়া): এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন ইতোমধ্যে তার নির্বাচনি এলাকায় সক্রিয়। এই আসনে বিএনপির শক্তিশালী প্রার্থী সাবেক এমপি প্রয়াত রহিম উদ্দিন ভরসার ছেলে মোহাম্মদ এমদাদুল হক ভরসা এবং জামায়াতের রংপুর মহানগর আমির এটিএম আজম খান।

ভোলা-১ (সদর): এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন প্রার্থী হতে পারেন, যদিও এখনো নিশ্চিত নয়। এই আসনে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীরা হলেন গোলাম নবী আলমগীর, হায়দার আলী লেলিন, শফিউর রহমান কিরণ। এছাড়া, ব্যারিস্টার আন্দালিভ রহমান পার্থও শক্তিশালী প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন। জামায়াতের প্রার্থী জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির অধ্যক্ষ মো. নজরুল ইসলাম।

ঢাকা-১৪ (মিরপুর-কাউনিয়া): এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব সম্ভাব্য প্রার্থী। এই আসনে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী তারেক রহমানের উপদেষ্টা মাহদী আমিন এবং জামায়াতের ব্যারিস্টার মীর আহমদ বিন কাশেম আরমান।

নরসিংদী-২ (পলাশ ও সদর অংশ): এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার সম্ভাব্য প্রার্থী। তার বিপক্ষে লড়বেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান, যিনি সাবেক এমপি ও মন্ত্রী এবং অত্যন্ত জনপ্রিয়। জামায়াতের সম্ভাব্য প্রার্থী আমজাদ হোসাইন।

ঢাকা-১৭ (গুলশান-বনানী-ক্যান্টনমেন্ট): এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিব ডা. তাসনিম জারা নির্বাচন করতে পারেন। এখানে বিএনপির একাধিক হেভিওয়েট প্রার্থী রয়েছেন এবং জামায়াতের সম্ভাব্য প্রার্থী ডা. এসএম খালিদুজ্জামান।

পঞ্চগড়-১ (সদর, তেঁতুলিয়া ও আটোয়ারী): এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম সম্ভাব্য প্রার্থী। এটি মূলত বিএনপির ঘাঁটি। এখানে বিএনপির ব্যারিস্টার মুহম্মদ নওশাদ জমির (সাবেক মন্ত্রী জমিরউদ্দিন সরকারের ছেলে) এবং জামায়াতের অধ্যাপক ইকবাল হোসেন (জেলা আমির) শক্তিশালী প্রার্থী।

কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার): এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ সম্ভাব্য প্রার্থী। এই আসনে বিএনপি-এনসিপি এবং জামায়াতের মধ্যে ত্রিমুখী লড়াইয়ের সম্ভাবনা রয়েছে। বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীরা হলেন মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী, এএফএম তারেক মুন্সী ও এমএ আউয়াল খান। জামায়াতের প্রার্থী সাইফুল ইসলাম। হাসনাত আবদুল্লাহ জুলাই-আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দিয়ে তরুণ প্রজন্মের বড় অংশের অনুসারী হয়েছেন।

চাঁদপুর-৫ (হাজীগঞ্জ-শাহরাস্তি): এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এই আসনে বিএনপির ইঞ্জিনিয়ার মমিনুল হক, আনোয়ার হোসেন খোকন ও ব্যারিস্টার কামাল উদ্দিন সম্ভাব্য প্রার্থী। জামায়াতের সম্ভাব্য প্রার্থী অধ্যাপক মাওলানা আবুল হোসাইন। নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী জানিয়েছেন, বিচার ও সংস্কারের বিষয়গুলো নিষ্পত্তি হওয়ার পরেই তারা দলীয়ভাবে নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নেবেন।

নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া): এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আবদুল হান্নান মাসউদ সম্ভাব্য প্রার্থী। বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশীদের মধ্যে শীর্ষে আছেন সাবেক জনপ্রিয় সংসদ-সদস্য প্রকৌশলী ফজলুল হক আজিম। এছাড়াও প্রকৌশলী তানভীর উদ্দিন রাজিব ও শাহ নেওয়াজ বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী। জামায়াতের সম্ভাব্য প্রার্থী অ্যাডভোকেট শাহ মুহাম্মদ মাহফুজুল হক।

এসব সমীকরণের উত্তর জানতে এবং ভোটের মাঠের সত্যিকার অবস্থা দেখতে নির্বাচনি প্রচারণা শুরু হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।