জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সম্মেলন শুরুর ঠিক আগে ফিলিস্তিনকে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া ও কানাডা। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিরোধিতা সত্ত্বেও এই দেশগুলো এই পদক্ষেপ নিয়েছে, যা আন্তর্জাতিক নীতিতে একটি বড় পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
যুক্তরাজ্য ও কানাডার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কেয়ার স্টারমার এই স্বীকৃতিকে ‘শান্তি ও দ্বি-রাষ্ট্র সমাধান পুনরুজ্জীবিত করার’ একটি পদক্ষেপ বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, গাজায় যুদ্ধবিরতিতে রাজি না হলে যুক্তরাজ্য তাদের নীতি পরিবর্তন করবে— এমন ইঙ্গিতের পরই এই ঘোষণা এলো।
কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি বলেন, ‘কানাডা ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দিচ্ছে। একইসঙ্গে ফিলিস্তিনি এবং ইসরায়েলের জন্য একটি শান্তিপূর্ণ ভবিষ্যৎ গঠনে অংশীদারিত্বের প্রতিশ্রুতিও দিচ্ছে।’
ফিলিস্তিন কর্তৃপক্ষের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস যুক্তরাজ্যের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। ডাউনিং স্ট্রিটে এই দুই নেতা একমত হন যে, ফিলিস্তিনের ভবিষ্যৎ শাসন ব্যবস্থায় হামাসের কোনো ভূমিকা থাকবে না।
মার্কিন বিরোধিতা ও ইসরায়েলের প্রতিক্রিয়া
এই পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু, যিনি এটিকে ‘সন্ত্রাসবাদকে পুরস্কৃত করা’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন এই স্বীকৃতির বিরোধিতা করছে এবং মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও সতর্ক করেছেন যে, এর জবাবে ইসরায়েল পশ্চিম তীর দখল করে নিতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা টাইমস অব ইসরায়েলকে জানিয়েছেন যে, তারা অস্ট্রেলিয়াকে এই সিদ্ধান্তকে ‘সহায়ক হবে না’ বলে জানিয়েছিল।
কেন এই সিদ্ধান্ত?
ব্রিটিশ মন্ত্রীরা বলছেন, দীর্ঘমেয়াদি শান্তি চুক্তির আশা বাঁচিয়ে রাখার জন্য এটি করা তাদের একটি নৈতিক দায়িত্ব ছিল। সরকারি সূত্রগুলো গাজার মানবিক পরিস্থিতিকে ‘অসহনীয়’ হিসেবে উল্লেখ করে জানিয়েছে যে, ইসরায়েলের সাম্প্রতিক স্থল-অভিযানে লাখ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।
জাতিসংঘের একটি তদন্ত কমিশন সম্প্রতি এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছে যে, গাজায় ইসরায়েল ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে গণহত্যা চালিয়েছে। যদিও ইসরায়েল জাতিসংঘের এই বক্তব্যকে ‘বিকৃত ও মিথ্যা’ বলে নিন্দা জানিয়েছে। এছাড়াও, অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনের অব্যাহত সম্প্রসারণও এই দেশগুলোকে তাদের নীতি পরিবর্তনে উৎসাহিত করেছে।