ঢাকা ০২:৪০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

টেংরাটিলা বিস্ফোরণে ৪২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ক্ষতিপূরণ পাচ্ছে বাংলাদেশ

দৈনিক জাগ্রত বাংলাদেশ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ১১:৫৮:৫৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬
  • / 307

দীর্ঘ দুই দশকের আইনি লড়াই শেষে সুনামগঞ্জের টেংরাটিলা গ্যাসক্ষেত্রে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনায় ন্যায়বিচার পেল বাংলাদেশ। আন্তর্জাতিক সালিশি আদালত (ইকসিড) এক ঐতিহাসিক রায়ে কানাডিয়ান কোম্পানি নাইকো রিসোর্সকে ৪২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার (যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ৫০০ কোটি টাকারও বেশি) জরিমানা প্রদানের নির্দেশ দিয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান প্রকৌশলী রেজানুর রহমান গণমাধ্যমকে এই অভাবনীয় রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

⚠️ ঘটনার প্রেক্ষাপট: ২০০৫ সালের সেই ভয়াবহ বিপর্যয়

সুনামগঞ্জের ছাতকে অবস্থিত টেংরাটিলা গ্যাসক্ষেত্রটি ১৯৫৯ সালে আবিষ্কৃত হলেও ২০০৩ সালে এর উন্নয়নের দায়িত্ব পায় নাইকো রিসোর্স। কিন্তু তাদের চরম অদক্ষতা ও কারিগরি গাফিলতির কারণে ২০০৫ সালের ৭ জানুয়ারি ও ২৪ জুন পরপর দুটি ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটে।

বিস্ফোরণের ফলে সৃষ্ট আগুনে দেশের মহামূল্যবান গ্যাস সম্পদ পুড়ে ছাই হয়ে যাওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় পরিবেশ, ঘরবাড়ি এবং সাধারণ মানুষের জীবিকার অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছিল।

⚖️ আন্তর্জাতিক আদালতে বাংলাদেশের বিজয়

বিস্ফোরণের পর পেট্রোবাংলা প্রায় ৭৪৬ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি করলেও নাইকো তা দিতে বারবার অস্বীকার করে। শেষ পর্যন্ত বিষয়টি আন্তর্জাতিক আদালত (ইকসিড ট্রাইব্যুনাল) পর্যন্ত গড়ায়। আদালত তার পর্যবেক্ষণে জানায়:

বিস্ফোরণের মূল কারণ ছিল নাইকোর কারিগরি অবহেল ও অদক্ষতা।

নাইকোকে এখন বাধ্যতামূলকভাবে এই ৪২ মিলিয়ন ডলার বাংলাদেশকে পরিশোধ করতে হবে।

এই রায় ভবিষ্যতে বিদেশি কোম্পানিগুলোর দায়িত্বহীনতা রোধে একটি বড় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

💎 টেংরাটিলার গ্যাস মজুদ ও বর্তমান অবস্থা

ভূতাত্ত্বিকদের মতে, এই গ্যাসক্ষেত্রের একটি স্তর পুড়ে গেলেও ছাতক পূর্ব অংশের বিশাল গ্যাস মজুদ এখনও অক্ষত রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, এই ক্ষেত্রে এখনো ২ থেকে ৫ ট্রিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস মজুদ থাকতে পারে।

পেট্রোবাংলা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আদালতের এই রায়ের পর এখন অক্ষত থাকা গ্যাস স্তরগুলো থেকে নিরাপদ গ্যাস উত্তোলনের জন্য নতুন করে পরিকল্পনা গ্রহণ করা সম্ভব হবে।

টেংরাটিলা বিস্ফোরণে ৪২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ক্ষতিপূরণ পাচ্ছে বাংলাদেশ

আপডেট সময় : ১১:৫৮:৫৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬

দীর্ঘ দুই দশকের আইনি লড়াই শেষে সুনামগঞ্জের টেংরাটিলা গ্যাসক্ষেত্রে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনায় ন্যায়বিচার পেল বাংলাদেশ। আন্তর্জাতিক সালিশি আদালত (ইকসিড) এক ঐতিহাসিক রায়ে কানাডিয়ান কোম্পানি নাইকো রিসোর্সকে ৪২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার (যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ৫০০ কোটি টাকারও বেশি) জরিমানা প্রদানের নির্দেশ দিয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান প্রকৌশলী রেজানুর রহমান গণমাধ্যমকে এই অভাবনীয় রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

⚠️ ঘটনার প্রেক্ষাপট: ২০০৫ সালের সেই ভয়াবহ বিপর্যয়

সুনামগঞ্জের ছাতকে অবস্থিত টেংরাটিলা গ্যাসক্ষেত্রটি ১৯৫৯ সালে আবিষ্কৃত হলেও ২০০৩ সালে এর উন্নয়নের দায়িত্ব পায় নাইকো রিসোর্স। কিন্তু তাদের চরম অদক্ষতা ও কারিগরি গাফিলতির কারণে ২০০৫ সালের ৭ জানুয়ারি ও ২৪ জুন পরপর দুটি ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটে।

বিস্ফোরণের ফলে সৃষ্ট আগুনে দেশের মহামূল্যবান গ্যাস সম্পদ পুড়ে ছাই হয়ে যাওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় পরিবেশ, ঘরবাড়ি এবং সাধারণ মানুষের জীবিকার অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছিল।

⚖️ আন্তর্জাতিক আদালতে বাংলাদেশের বিজয়

বিস্ফোরণের পর পেট্রোবাংলা প্রায় ৭৪৬ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি করলেও নাইকো তা দিতে বারবার অস্বীকার করে। শেষ পর্যন্ত বিষয়টি আন্তর্জাতিক আদালত (ইকসিড ট্রাইব্যুনাল) পর্যন্ত গড়ায়। আদালত তার পর্যবেক্ষণে জানায়:

বিস্ফোরণের মূল কারণ ছিল নাইকোর কারিগরি অবহেল ও অদক্ষতা।

নাইকোকে এখন বাধ্যতামূলকভাবে এই ৪২ মিলিয়ন ডলার বাংলাদেশকে পরিশোধ করতে হবে।

এই রায় ভবিষ্যতে বিদেশি কোম্পানিগুলোর দায়িত্বহীনতা রোধে একটি বড় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

💎 টেংরাটিলার গ্যাস মজুদ ও বর্তমান অবস্থা

ভূতাত্ত্বিকদের মতে, এই গ্যাসক্ষেত্রের একটি স্তর পুড়ে গেলেও ছাতক পূর্ব অংশের বিশাল গ্যাস মজুদ এখনও অক্ষত রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, এই ক্ষেত্রে এখনো ২ থেকে ৫ ট্রিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস মজুদ থাকতে পারে।

পেট্রোবাংলা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আদালতের এই রায়ের পর এখন অক্ষত থাকা গ্যাস স্তরগুলো থেকে নিরাপদ গ্যাস উত্তোলনের জন্য নতুন করে পরিকল্পনা গ্রহণ করা সম্ভব হবে।