ফরিদপুরে মসজিদের ইমামের দাড়ি টেনে ছিঁড়ে নিলেন আওয়ামী লীগ নেতা
- আপডেট সময় : ১২:২৭:৪৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩০ মার্চ ২০২৫
- / 731
ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে উত্তরপাড়া জামে মসজিদের ইমাম হাফেজ মো. ওলিয়ার রহমানের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগটি দাদপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. জিয়াউর রহমান ও তার ভাইদের বিরুদ্ধে। শুধু তাই নয়, ইমামের দাড়ি টেনে ছিঁড়ে নেওয়ারও অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। এই ঘটনার বিচারের দাবিতে স্থানীয়রা মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছেন।
আজ দুপুরে বোয়ালমারীর দাদপুর ইউনিয়নের নাগদী গ্রামের উত্তরপাড়া জামে মসজিদ সংলগ্ন সড়কে এই মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। এতে স্থানীয় বিভিন্ন মসজিদের কয়েকশ’ মুসল্লি অংশ নেন।
জানা গেছে, ইমাম হাফেজ মো. ওলিয়ার রহমানের পৈত্রিক সূত্রে পাওয়া জমি প্রায় ১৫-১৬ বছর ধরে জোর করে ভোগদখল করে আসছিলেন জিয়াউর রহমান, তার ভাই ইউনিয়ন কৃষক লীগের সাধারণ সম্পাদক বিল্লাল মাতুব্বর এবং বাকেয়ার মাতুব্বরসহ তাদের সহযোগীরা।
সম্প্রতি ইমাম ওই জমির মালিকানা দাবি করলে আমিন দিয়ে জমি মাপা হয় এবং ওলিয়ার রহমান জমির প্রকৃত মালিক বলে প্রমাণিত হন। এরপর দখলদারদের জমি ছেড়ে দিতে বললে সুগন্ধি মাঠের মধ্যে ওলিয়ার রহমানের ওপর হামলা করা হয়। অভিযোগ, জিয়াউর রহমান, বাকিয়ার ও বিল্লাল মাতুব্বর ইমামের মুখের দাড়ি ধরে টানা-হেঁচড়া করেন এবং বেদম প্রহার করেন। এমনকি তারা ইমামের দাড়ি ও শরীরের পোশাক ছিঁড়ে ফেলেন। মারধরের কারণে রোজাদার ইমাম জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন।
পরে স্থানীয়রা ইমামকে উদ্ধার করে বাড়ি নিয়ে যান। পরিবারের সদস্যরা তাকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসার পর কিছুটা সুস্থ হলে তাকে বাড়ি আনা হয়। তবে এখনো তিনি ঠিকমতো চলাফেরা করতে পারছেন না এবং দাঁড়িয়ে নামাজ পড়তে তার অসুবিধা হচ্ছে।
এই ঘটনার প্রতিবাদে এলাকার তিনটি মসজিদের মুসল্লিরা মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেন।
ভুক্তভোগী ইমাম ওলিয়ার রহমান বলেন, তার বাবার অনেক জমি জিয়া মেম্বার ১৭ বছর ধরে আওয়ামী লীগের প্রভাব খাটিয়ে জোরপূর্বক ভোগদখল করে আসছেন। সম্প্রতি তিনি এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সহায়তায় কিছু জমি উদ্ধার করতে সক্ষম হন। জমি মাপ করে ফেরার পথে ক্ষিপ্ত জিয়া মেম্বার ও তার বাহিনী তার ওপর হামলা চালায় এবং নির্মমভাবে মারধর করে। তিনি এই ঘটনার ন্যায়বিচার চান এবং থানায় দরখাস্ত দিয়েছেন।
আওয়ামী লীগ নেতা জিয়াউর রহমান বলেন, বিষয়টি তাদের পারিবারিক এবং ভুল বোঝাবুঝির কারণে নিজেদের মধ্যে একটু ঝামেলা হয়েছে। এর বাইরে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
বোয়ালমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুল হাসান বলেন, তিনি এখনো আবেদনটি হাতে পাননি এবং কেউ তার সঙ্গে যোগাযোগও করেননি। তিনি খবর নিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবেন বলে জানিয়েছেন।





















