ঢাকা ০৯:১৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৫ মে ২০২৬, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফরিদপুরে ‘সাপের ডিম সাপেই খাবে’: এনসিপি কমিটিতে নতুন বিতর্কের জন্ম!

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
  • আপডেট সময় : ১২:০৯:২৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ জুন ২০২৫
  • / 658

ফরিদপুরে সদ্যঘোষিত জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর সমন্বয় কমিটি নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সদস্যসচিব মো. সোহেল রানা। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজের আইডিতে তিনি এই ক্ষোভ প্রকাশ করেন, যেখানে ২৩ সদস্যের এই কমিটিতে ‘তৎকালীন আওয়ামী লীগের দোসর’ এবং ‘ফ্যাসিবাদের কোলে বসে থাকা মুখোশধারীদের’ স্থান দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন তিনি।

সোহেল রানা বলেন, “জুলাই-গণঅভ্যুত্থানকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা এনসিপি ছিল শহীদদের রক্ত ও বীরদের ত্যাগে নির্মিত। কিন্তু আজ সেই দলে জায়গা পাচ্ছে তারা, যারা সেই সময় বিরোধিতা করেছিল।”

বিতর্কিত ব্যক্তিদের পদায়ন ও সোহেল রানার অভিযোগ

জানা যায়, ফরিদপুর জেলা শাখার ঘোষিত এই সমন্বয় কমিটিতে প্রধান সমন্বয়কারী হিসেবে স্থান পেয়েছেন ফরিদপুর জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মাহমুদা বেগমের মেয়ে ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে ফরিদপুরের ছাত্র-জনতার বুকে গুলি চালানোর অভিযোগে অভিযুক্ত ফরিদপুর জেলা শ্রমিক লীগের সভাপতি ও বিতর্কিত ঠিকাদার গোলাম মোহাম্মদ নাসিরের ভাগ্নি সৈয়দা নীলিমা দোলা। এছাড়া, যুগ্ম সমন্বয়কারী হিসেবে রয়েছেন এসএম জাহিদ, সাইফ হাসান খান, জিল্লুর রহমান, মো. বায়েজিদ হোসেন ও মো. কামাল হোসাইন। কমিটির বাকি ১৭ জন সদস্য জেলার বিভিন্ন পেশা ও পটভূমি থেকে এসেছেন।

গত ৫ জুন এনসিপির কেন্দ্রীয় কমিটির অনুমোদনে এই কমিটি ঘোষণা করেন সদস্য সচিব আখতার হোসেন ও দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ। কমিটির মেয়াদ তিন মাস বা আহ্বায়ক কমিটি গঠনের পূর্ব পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়াও, গত ৩ জুন এনসিপির শ্রমিক উইংসের ৩৬ সদস্যের আরেকটি জেলা কো-অর্ডিনেশন কমিটি গঠিত হয়, যার প্রধান সমন্বয়কারী এসএম জুনায়েদ।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ফরিদপুরের সদস্যসচিব সোহেল রানা তার নিজস্ব ফেসবুক আইডিতে ক্ষোভ প্রকাশ করে মন্তব্য করেন: “উল্টে যাচ্ছে গণেশ। জুলাই-গণঅভ্যুত্থানকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা দল এনসিপি। শহীদদের রক্ত, হায়েনার হাত থেকে বেঁচে যাওয়া বীরদের ত্যাগের ওপরে দাঁড়িয়ে থাকা একটি রাজনৈতিক দল। দেখতে পাচ্ছি আমরা তৎকালীন সময়ের আওয়ামী লীগের সম্মানিত দালালরা, ফ্যাসিবাদের কোলে বসে থাকা দোসররা মুখ লুকিয়ে গুরুত্বপূর্ণ জায়গা নিচ্ছেন এই দলে। বাদ যাচ্ছে না সহযোগী সংগঠন গুলোর গুরুত্বপূর্ণ পদ।”

তিনি আরও উল্লেখ করেন, “এমন গুরুত্বপূর্ণ পদ দেওয়ার আগে কখনও খতিয়ে দেখার চেষ্টাও করেন নাই, জুলাইয়ে তাদের ভূমিকা কী ছিল। কার অবস্থান কী ছিল! জুলাইয়ের পক্ষে নাকি বিপক্ষে? যাদের পদ/পদবি দেবেন, তারা কী চায়! মানুষের জন্য রাজনীতি নাকি, টেন্ডারবাজি, দখলদারী করে নিজের পকেট ভারী। সময় ভালো চলছে…বসন্তের কোকিল আসবে ঝাঁকে ঝাঁকে, সময় খারাপ হলে, এদের কি আদৌ খুঁজে পাওয়া যাবে? রীতিমতো অবাক করে দিচ্ছেন আমাদের! যেটার ফলাফল হবে- সাপের ডিম সাপেই খাবে!”

এনসিপির কেন্দ্রীয় নেত্রীর বক্তব্য

এ বিষয়ে জানতে চাইলে এনসিপির কেন্দ্রীয় সদস্য ও ফরিদপুর জেলা শাখার প্রধান সমন্বয়কারী সৈয়দা নীলিমা দোলা বলেন, “রাজনীতিতে কিছু বিতর্ক থাকবেই। আমরা ছবির রাজনীতি করি না। আওয়ামী লীগ নেতার সঙ্গে কারও ছবি থাকলে সেটাই সব নয়। তবে কারও বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ এলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কমিটিতেও নানান মন মানসিকতার অনেকে রয়েছে। তাই কারও পুরোনো রাজনৈতিক পরিচয় বা সম্পর্কের ভিত্তিতে না দেখে আমরা তার বর্তমান অবস্থান ও ভূমিকা দেখছি।”

ফরিদপুরে ‘সাপের ডিম সাপেই খাবে’: এনসিপি কমিটিতে নতুন বিতর্কের জন্ম!

আপডেট সময় : ১২:০৯:২৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ জুন ২০২৫

ফরিদপুরে সদ্যঘোষিত জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর সমন্বয় কমিটি নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সদস্যসচিব মো. সোহেল রানা। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজের আইডিতে তিনি এই ক্ষোভ প্রকাশ করেন, যেখানে ২৩ সদস্যের এই কমিটিতে ‘তৎকালীন আওয়ামী লীগের দোসর’ এবং ‘ফ্যাসিবাদের কোলে বসে থাকা মুখোশধারীদের’ স্থান দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন তিনি।

সোহেল রানা বলেন, “জুলাই-গণঅভ্যুত্থানকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা এনসিপি ছিল শহীদদের রক্ত ও বীরদের ত্যাগে নির্মিত। কিন্তু আজ সেই দলে জায়গা পাচ্ছে তারা, যারা সেই সময় বিরোধিতা করেছিল।”

বিতর্কিত ব্যক্তিদের পদায়ন ও সোহেল রানার অভিযোগ

জানা যায়, ফরিদপুর জেলা শাখার ঘোষিত এই সমন্বয় কমিটিতে প্রধান সমন্বয়কারী হিসেবে স্থান পেয়েছেন ফরিদপুর জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মাহমুদা বেগমের মেয়ে ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে ফরিদপুরের ছাত্র-জনতার বুকে গুলি চালানোর অভিযোগে অভিযুক্ত ফরিদপুর জেলা শ্রমিক লীগের সভাপতি ও বিতর্কিত ঠিকাদার গোলাম মোহাম্মদ নাসিরের ভাগ্নি সৈয়দা নীলিমা দোলা। এছাড়া, যুগ্ম সমন্বয়কারী হিসেবে রয়েছেন এসএম জাহিদ, সাইফ হাসান খান, জিল্লুর রহমান, মো. বায়েজিদ হোসেন ও মো. কামাল হোসাইন। কমিটির বাকি ১৭ জন সদস্য জেলার বিভিন্ন পেশা ও পটভূমি থেকে এসেছেন।

গত ৫ জুন এনসিপির কেন্দ্রীয় কমিটির অনুমোদনে এই কমিটি ঘোষণা করেন সদস্য সচিব আখতার হোসেন ও দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ। কমিটির মেয়াদ তিন মাস বা আহ্বায়ক কমিটি গঠনের পূর্ব পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়াও, গত ৩ জুন এনসিপির শ্রমিক উইংসের ৩৬ সদস্যের আরেকটি জেলা কো-অর্ডিনেশন কমিটি গঠিত হয়, যার প্রধান সমন্বয়কারী এসএম জুনায়েদ।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ফরিদপুরের সদস্যসচিব সোহেল রানা তার নিজস্ব ফেসবুক আইডিতে ক্ষোভ প্রকাশ করে মন্তব্য করেন: “উল্টে যাচ্ছে গণেশ। জুলাই-গণঅভ্যুত্থানকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা দল এনসিপি। শহীদদের রক্ত, হায়েনার হাত থেকে বেঁচে যাওয়া বীরদের ত্যাগের ওপরে দাঁড়িয়ে থাকা একটি রাজনৈতিক দল। দেখতে পাচ্ছি আমরা তৎকালীন সময়ের আওয়ামী লীগের সম্মানিত দালালরা, ফ্যাসিবাদের কোলে বসে থাকা দোসররা মুখ লুকিয়ে গুরুত্বপূর্ণ জায়গা নিচ্ছেন এই দলে। বাদ যাচ্ছে না সহযোগী সংগঠন গুলোর গুরুত্বপূর্ণ পদ।”

তিনি আরও উল্লেখ করেন, “এমন গুরুত্বপূর্ণ পদ দেওয়ার আগে কখনও খতিয়ে দেখার চেষ্টাও করেন নাই, জুলাইয়ে তাদের ভূমিকা কী ছিল। কার অবস্থান কী ছিল! জুলাইয়ের পক্ষে নাকি বিপক্ষে? যাদের পদ/পদবি দেবেন, তারা কী চায়! মানুষের জন্য রাজনীতি নাকি, টেন্ডারবাজি, দখলদারী করে নিজের পকেট ভারী। সময় ভালো চলছে…বসন্তের কোকিল আসবে ঝাঁকে ঝাঁকে, সময় খারাপ হলে, এদের কি আদৌ খুঁজে পাওয়া যাবে? রীতিমতো অবাক করে দিচ্ছেন আমাদের! যেটার ফলাফল হবে- সাপের ডিম সাপেই খাবে!”

এনসিপির কেন্দ্রীয় নেত্রীর বক্তব্য

এ বিষয়ে জানতে চাইলে এনসিপির কেন্দ্রীয় সদস্য ও ফরিদপুর জেলা শাখার প্রধান সমন্বয়কারী সৈয়দা নীলিমা দোলা বলেন, “রাজনীতিতে কিছু বিতর্ক থাকবেই। আমরা ছবির রাজনীতি করি না। আওয়ামী লীগ নেতার সঙ্গে কারও ছবি থাকলে সেটাই সব নয়। তবে কারও বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ এলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কমিটিতেও নানান মন মানসিকতার অনেকে রয়েছে। তাই কারও পুরোনো রাজনৈতিক পরিচয় বা সম্পর্কের ভিত্তিতে না দেখে আমরা তার বর্তমান অবস্থান ও ভূমিকা দেখছি।”