ফরিদপুরে সালিশ প্রত্যাখ্যানের জেরে রণক্ষেত্র , আহত ৪০
- আপডেট সময় : ০৮:৫২:১৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২ নভেম্বর ২০২৫
- / 443
ফরিদপুরের ভাঙ্গায় আধিপত্য বিস্তার ও সালিশ-বৈঠককে কেন্দ্র করে দুটি পক্ষের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষে কমপক্ষে ৪০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সংঘর্ষের ঘটনায় এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করায় পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে।
রোববার (২ নভেম্বর) বিকেল ৪টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত উপজেলার হামিরদী ইউনিয়নের গুপিনাথপুর গ্রামে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
সংঘর্ষের সূত্রপাত: সালিশ প্রত্যাখ্যান ও গালিগালাজ
এলাকাবাসী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গুপিনাথপুর এলাকার বাসিন্দা সায়মন শেখ (৫০) এবং কুদ্দুস মুন্সি (৬৫) গ্রুপের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধ চলছিল।
উত্তেজনার শুরু: বৃহস্পতিবার (৩০ অক্টোবর) সন্ধ্যায় সায়মন শেখ মোতালেব মাতুব্বরের দোকানে এসে কুদ্দুস মুন্সিকে উদ্দেশ্য করে গালিগালাজ করেন।
সালিশের উদ্যোগ: এই উত্তেজনার জেরে রোববার বিকেলে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে গুপিনাথপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে একটি সালিশি বৈঠক হওয়ার কথা ছিল।
সংঘর্ষ: সায়মন শেখ গ্রুপ সেই সালিশ প্রত্যাখ্যান করায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। উভয় পক্ষ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে, যার ফলে কমপক্ষে ৪০ জন আহত হন।
ক্ষয়ক্ষতি ও আহতদের অবস্থা
কুদ্দুস মুন্সির অভিযোগ: কুদ্দুস মুন্সি অভিযোগ করে বলেন, সায়মন শেখের লোকজন সালিশে না এসে তাদের ওপর হামলা চালায় এবং কমপক্ষে ২০টি বাড়ি, তিনটি দোকান ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়। এতে তাঁর পক্ষের প্রায় ২৫ জন আহত হয়েছেন।
আহতদের সংখ্যা: সংঘর্ষে আহত হয়েছেন উভয় পক্ষের কমপক্ষে ৪০ জন। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি সবুজ শেখ (৩৫) নিশ্চিত করেন যে সালিশে না আসাকে কেন্দ্র করেই সংঘর্ষ শুরু হয়।
চিকিৎসা: ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তা তানসিভ জুবায়ের নাদিম জানান, গুরুতর আহত চারজনকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে এবং ২৫ থেকে ৩০ জনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
আইনি ব্যবস্থা
ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আশরাফ হোসেন বলেন, “খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।” তিনি জানান, এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
উল্লেখ্য, ঘটনার বিষয়ে বক্তব্য জানতে সায়মন শেখের মোবাইল নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।





















