টাইমফ্রেম নিয়ে দূরত্ব বাড়ছে সরকার-রাজনৈতিক দলের
ডিসেম্বরেই নির্বাচন চায় ৫০টির বেশি দল
- আপডেট সময় : ০১:৫৬:৩৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১ জুন ২০২৫
- / 241
জুলাই-আগস্টের গণআন্দোলনে পতন ঘটে আওয়ামী লীগ সরকারের। এরপর ক্ষমতায় আসে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। এই সরকার আন্দোলনকারী সব পক্ষের সমর্থন পেলেও সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে তাদের কার্যক্রম ও বক্তব্য নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সন্দেহ ও অনাস্থা বাড়ছে।
নির্বাচনের টাইমফ্রেম নিয়ে বাড়ছে দূরত্ব
যদিও ড. ইউনূস একাধিকবার বলেছেন, নির্বাচন ডিসেম্বর থেকে জুনের মধ্যে হবে, কিন্তু বিএনপিসহ অধিকাংশ রাজনৈতিক দল ডিসেম্বরের মধ্যেই নির্বাচন দেখতে চায়। প্রধান উপদেষ্টার বক্তব্যে তারা আশ্বস্ত হতে পারছে না।
জাপান সফরে ড. ইউনূসের বক্তব্য—শুধু একটি দল ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন চায়—বিষয়টিকে আরও বিতর্কিত করে তুলেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, তিনি মুখে এক কথা বললেও, ভেতরে ভিন্ন চিন্তা লালন করছেন।
ক্ষমতা দীর্ঘায়িতের আশঙ্কা ও উপদেষ্টাদের ভূমিকা
বিশ্লেষকদের দাবি, ড. ইউনূস কিছু উপদেষ্টাসহ জামায়াত ও এনসিপির সহযোগিতায় ক্ষমতার মেয়াদ বাড়ানোর কৌশল নিচ্ছেন। এই দলগুলো এখন প্রশাসনের বড় অংশ নিয়ন্ত্রণ করছে, অথচ জনগণের ভোটে নির্বাচিত হওয়ার অবস্থানে নেই।
সংস্কার ও নির্বাচন—দুই দিকেই নেই অগ্রগতি
সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার প্রায় ১০ মাস পেরিয়ে গেলেও সংস্কার, বিচার ও নির্বাচন—এই তিনটি ক্ষেত্রেই দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। বরং ড. ইউনূস নিজের প্রতিষ্ঠান গ্রামীণ ব্যাংকের ট্যাক্স মওকুফ, গ্রামীণ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠাসহ নানা সুবিধা নিয়েছেন, যা নিয়ে সমালোচনা বাড়ছে।
রাজনৈতিক দলগুলোর একক দাবি—ডিসেম্বরে নির্বাচন
বিএনপি, এলডিপি, সিপিবি, বাসদ, জাসদ, বিজেপি, এনপিপি, গণফোরামসহ ৫০টির বেশি রাজনৈতিক দল একমত যে নির্বাচন ডিসেম্বরের মধ্যেই হওয়া উচিত।
এলডিপি মহাসচিব ড. রেদোয়ান আহমেদ বলেন, সরকারের দায়িত্ব ছিল অরাজকতা থামিয়ে দ্রুত নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতা হস্তান্তর করা। কিন্তু এখন তারা ক্ষমতায় থাকার পথ পাকাপোক্ত করছে।
জামায়াত-এনসিপির দীর্ঘমেয়াদী আগ্রহ
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, জামায়াত ও এনসিপি এই সরকারে যে সুবিধা পাচ্ছে তা তারা আগে কখনও পায়নি। ফলে তারা চায় সরকার আরো দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকুক।
জনমতের স্পষ্ট বার্তা, সরকার করছে এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা
সিপিবি নেতা রুহিন হোসেন প্রিন্স জানান, বিএনপির সঙ্গে ৪২টি দল এবং গণতান্ত্রিক জোটের অন্তত ৬টি দল ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন চায়। এ সংখ্যা মোট ৫৫টিরও বেশি।
বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাইফুল হক বলেন, যারা বিগত ১০ মাসে সরকারে সুবিধা পেয়েছে তারাই চায় নির্বাচন পেছাতে। অথচ সর্বমহল ডিসেম্বরেই নির্বাচন চায়।
বিনিয়োগকারীরাও চায় দ্রুত স্থিতিশীলতা
বিএনপি নেতা আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, “বিদেশি বিনিয়োগকারীরা জানতে চায়, নির্বাচিত সরকার কবে আসবে।”
তিনি আরও বলেন, “শুধু একটি দল নির্বাচন চায়—এমন বক্তব্য জাতিকে বিভ্রান্ত করছে।”


























