ডিসেম্বরে নির্বাচন হওয়ার কথা থাকলেও, কার্যকর কোনো লক্ষণ এখনও দৃশ্যমান নয়। উৎখাত হওয়া হাসিনা আমলের মামলার নিষ্পত্তি এবং ৫ আগস্টের পর দায়েরকৃত মামলার বিচার প্রক্রিয়া ধীরগতিতে চলছে, যা নির্বাচনকে অনিশ্চিত করে তুলেছে।
হাসিনা আমলের মামলা ও রাজনৈতিক হয়রানি:
হাসিনা আমলে রাজনৈতিক দমন-পীড়নের অংশ হিসেবে অসংখ্য মামলা দায়ের করা হয়েছিল। এসব মামলায় এখনও রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের নিয়মিত আদালতে হাজিরা দিতে হচ্ছে। অনেক মামলায় চার্জশিট দেওয়া হয়েছে, এমনকি নিরীহ মানুষদেরও আসামি করা হয়েছে।
৫ আগস্টের পর দায়েরকৃত মামলার ধীরগতি:
জুলাই-আগস্টের অভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতা হত্যা, গুম-খুন ও দুর্নীতির অভিযোগে দায়েরকৃত মামলার বিচার এখনও শুরু হয়নি। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আসামিদের হাজির করা হলেও, কাজের অগ্রগতি নেই।
মামলা নিষ্পত্তি ও বিচারের ধীরগতির কারণ:
আইন, বিচার ও সংসদ-বিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল জানিয়েছেন, ‘গায়েবি মামলা’র তালিকা করার পর প্রতিটি মামলার রেকর্ড ঘেঁটে রাজনৈতিক হয়রানিমূলক কি না, তা নিশ্চিত হতে হচ্ছে। এছাড়া, হত্যা মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তি করা জরুরি, যা আগামী জাতীয় নির্বাচনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট।
মামলা নিষ্পত্তির ধীরগতি নিয়ে বিশেষজ্ঞদের মতামত:
অবসরপ্রাপ্ত সিনিয়র জেলা জজ ও আইনজ্ঞ মো. মঈদুল ইসলাম মনে করেন, দুই ধরনের মামলাই আগামী জাতীয় নির্বাচনে প্রভাব ফেলবে। গায়েবি মামলা চিহ্নিত করে সেগুলো প্রত্যাহারে সাত মাস যথেষ্ট সময়। একইভাবে ৫ আগস্টের পর দায়ের হওয়া মামলাগুলোর তদন্ত সম্পন্ন করার জন্যও এ সময় যথেষ্ট।
বিএনপির বক্তব্য ও উদ্বেগ:
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির আইন-বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, ফ্যাসিস্টবিরোধী আন্দোলন করতে গিয়ে হয়রানিমূলক মামলার শিকার ব্যক্তিদের মামলা প্রত্যাহার করা উচিত। তিনি ৫ আগস্টের পর দায়েরকৃত মামলার প্রক্রিয়া নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
সুষ্ঠু নির্বাচন ও আইনের শাসন:
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, উভয় ধরনের মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি না হওয়া আগামী নির্বাচনের ‘অন্তরায়’। তারা সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার ওপর জোর দেন।
এলাকাবাসীর প্রতিক্রিয়া:
মামলা নিষ্পত্তির ধীরগতিতে জনমনে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।