ঢাকা ১০:০২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৫ মে ২০২৬, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফরিদপুর এনসিপি’র কমিটি গঠনের দায়িত্বে আ. লীগ নেত্রীর মেয়ে দোলা

রাশেদুল হাসান কাজল, ফরিদপুর:
  • আপডেট সময় : ০১:৫২:৩১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ মে ২০২৫
  • / 862

ফরিদপুরে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এর কমিটি গঠনের দায়িত্ব পেয়েছেন ফরিদপুর জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মাহামুদা বেগমের মেয়ে সৈয়দা নীলিমা দোলা। মঙ্গলবার (২৯ এপ্রিল) এনসিপি’র মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) হাসনাত আব্দুল্লাহ এবং সদস্য সচিব আক্তার হোসেনের যৌথ স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এ তথ্য জানানো হয়।

চিঠিতে ফরিদপুর অঞ্চলের তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে মো. আব্দুর রহমান এবং সংগঠক হিসেবে মো. রাকিব হোসেনের নাম উল্লেখ করা হয়। ফরিদপুর, গোপালগঞ্জ, মাদারীপুর, শরীয়তপুর ও রাজবাড়ী জেলা থেকে দুইজন করে ব্যক্তিকে কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মনোনীত করা হয়েছে।

৩০ দিনের মধ্যে কমিটির প্রস্তাবনা জমা দেয়ার নির্দেশ

চিঠিতে ফরিদপুর অঞ্চলের টিমকে বলা হয়েছে, উল্লিখিত অঞ্চলগুলোর কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্যদের সঙ্গে সমন্বয় করে আগামী ৩০ দিনের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটির প্রস্তাবনা জমা দিতে হবে।

ফরিদপুর জেলার কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য হিসেবে মনোনীত সৈয়দা নীলিমা দোলা সম্পর্কে জানা গেছে, তিনি জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মাহামুদা বেগমের মেয়ে এবং জেলা শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোহাম্মদ নাসিরের ভাগ্নি। তার বাবা সৈয়দ গোলাম দস্তগির একজন ব্যবসায়ী। ২০১৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগীত বিভাগ থেকে মাস্টার্স শেষ করে মোবাইল ফোন কোম্পানিতে কিছুদিন কাজ করেন নীলিমা। বর্তমানে তিনি ‘সিনে কার্টেল’ নামে একটি চলচ্চিত্র নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের মালিক।

আওয়ামী পরিবারের মেয়ে হয়েও এনসিপি নেতৃত্বে কেন?

আওয়ামী লীগ পরিবারের সদস্য হয়েও এনসিপিতে যুক্ত হওয়ার পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে সৈয়দা নীলিমা বলেন, “আমার পরিবারের রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে অনেকেই প্রশ্ন তুলতে পারেন। আমি স্পষ্ট করে বলতে চাই—আমি বিগত ১০ বছর ধরে আওয়ামী ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত। বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকাকালীন আমি সক্রিয় কর্মী ছিলাম এবং ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লেখালেখিও করেছি। ২০১২ সালে পরিবার ছেড়ে আসার পর রাজপথই আমার পরিবার হয়ে উঠেছে।”

তিনি আরও জানান, “তাহির জামান প্রিয় হত্যাকাণ্ডে আমি একজন প্রত্যক্ষদর্শী। ছাত্রলীগের সঙ্গে আমি কখনও যুক্ত ছিলাম না, বরং স্বাধীনভাবে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে যুক্ত ছিলাম। সুতরাং নাগরিক কমিটির সদস্য হওয়ার ক্ষেত্রে কোনো বাধা নেই। আমাকে কেন্দ্রীয় নেতারা যাচাই-বাছাই করেই দায়িত্ব দিয়েছেন।”

নেতৃত্ব নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন

তবে সৈয়দা নীলিমার নেতৃত্ব পাওয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ফরিদপুর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সদস্য সচিব সোহেল রানা। তিনি বলেন, “তার পারিবারিক ব্যাকগ্রাউন্ড আওয়ামী লীগের। আমরা দেখেছি গত জুলাই-আগস্ট আন্দোলনে তার মামা গোলাম নাসির কীভাবে আমাদের ওপর নির্বিচারে গুলি চালিয়েছেন। তার মায়ের কর্মকাণ্ডও আমাদের অজানা নয়।”

তিনি আরও বলেন, “আমাদের সঙ্গে সৈয়দা নীলিমার কোনো পরিচয় নেই। সঠিক যাচাই-বাছাই ছাড়া দায়িত্ব দেয়ায় এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। সঠিকভাবে যাচাই করা হলে এই ভুল হতো না।”

ফরিদপুর এনসিপি’র কমিটি গঠনের দায়িত্বে আ. লীগ নেত্রীর মেয়ে দোলা

আপডেট সময় : ০১:৫২:৩১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ মে ২০২৫

ফরিদপুরে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এর কমিটি গঠনের দায়িত্ব পেয়েছেন ফরিদপুর জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মাহামুদা বেগমের মেয়ে সৈয়দা নীলিমা দোলা। মঙ্গলবার (২৯ এপ্রিল) এনসিপি’র মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) হাসনাত আব্দুল্লাহ এবং সদস্য সচিব আক্তার হোসেনের যৌথ স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এ তথ্য জানানো হয়।

চিঠিতে ফরিদপুর অঞ্চলের তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে মো. আব্দুর রহমান এবং সংগঠক হিসেবে মো. রাকিব হোসেনের নাম উল্লেখ করা হয়। ফরিদপুর, গোপালগঞ্জ, মাদারীপুর, শরীয়তপুর ও রাজবাড়ী জেলা থেকে দুইজন করে ব্যক্তিকে কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মনোনীত করা হয়েছে।

৩০ দিনের মধ্যে কমিটির প্রস্তাবনা জমা দেয়ার নির্দেশ

চিঠিতে ফরিদপুর অঞ্চলের টিমকে বলা হয়েছে, উল্লিখিত অঞ্চলগুলোর কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্যদের সঙ্গে সমন্বয় করে আগামী ৩০ দিনের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটির প্রস্তাবনা জমা দিতে হবে।

ফরিদপুর জেলার কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য হিসেবে মনোনীত সৈয়দা নীলিমা দোলা সম্পর্কে জানা গেছে, তিনি জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মাহামুদা বেগমের মেয়ে এবং জেলা শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোহাম্মদ নাসিরের ভাগ্নি। তার বাবা সৈয়দ গোলাম দস্তগির একজন ব্যবসায়ী। ২০১৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগীত বিভাগ থেকে মাস্টার্স শেষ করে মোবাইল ফোন কোম্পানিতে কিছুদিন কাজ করেন নীলিমা। বর্তমানে তিনি ‘সিনে কার্টেল’ নামে একটি চলচ্চিত্র নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের মালিক।

আওয়ামী পরিবারের মেয়ে হয়েও এনসিপি নেতৃত্বে কেন?

আওয়ামী লীগ পরিবারের সদস্য হয়েও এনসিপিতে যুক্ত হওয়ার পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে সৈয়দা নীলিমা বলেন, “আমার পরিবারের রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে অনেকেই প্রশ্ন তুলতে পারেন। আমি স্পষ্ট করে বলতে চাই—আমি বিগত ১০ বছর ধরে আওয়ামী ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত। বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকাকালীন আমি সক্রিয় কর্মী ছিলাম এবং ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লেখালেখিও করেছি। ২০১২ সালে পরিবার ছেড়ে আসার পর রাজপথই আমার পরিবার হয়ে উঠেছে।”

তিনি আরও জানান, “তাহির জামান প্রিয় হত্যাকাণ্ডে আমি একজন প্রত্যক্ষদর্শী। ছাত্রলীগের সঙ্গে আমি কখনও যুক্ত ছিলাম না, বরং স্বাধীনভাবে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে যুক্ত ছিলাম। সুতরাং নাগরিক কমিটির সদস্য হওয়ার ক্ষেত্রে কোনো বাধা নেই। আমাকে কেন্দ্রীয় নেতারা যাচাই-বাছাই করেই দায়িত্ব দিয়েছেন।”

নেতৃত্ব নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন

তবে সৈয়দা নীলিমার নেতৃত্ব পাওয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ফরিদপুর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সদস্য সচিব সোহেল রানা। তিনি বলেন, “তার পারিবারিক ব্যাকগ্রাউন্ড আওয়ামী লীগের। আমরা দেখেছি গত জুলাই-আগস্ট আন্দোলনে তার মামা গোলাম নাসির কীভাবে আমাদের ওপর নির্বিচারে গুলি চালিয়েছেন। তার মায়ের কর্মকাণ্ডও আমাদের অজানা নয়।”

তিনি আরও বলেন, “আমাদের সঙ্গে সৈয়দা নীলিমার কোনো পরিচয় নেই। সঠিক যাচাই-বাছাই ছাড়া দায়িত্ব দেয়ায় এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। সঠিকভাবে যাচাই করা হলে এই ভুল হতো না।”