মোবাইল গেম নিয়ে দ্বন্দ্বে ৯ বছরের শিশুকে ইট দিয়ে থেঁতলে হত্যা
- আপডেট সময় : ১২:১৮:২২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৮ জুন ২০২৫
- / 338
নাটোরের বড়াইগ্রামে মোবাইল ফোনে গেম খেলা নিয়ে তুচ্ছ দ্বন্দ্বে মাত্র ১২ বছর বয়সী এক শিশুর হাতে ৯ বছর বয়সী মিনহাজ হোসেন আবির নামে আরেক শিশু নির্মমভাবে খুন হয়েছে। ইট দিয়ে মাথা থেঁতলে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে অভিযুক্ত শিশু হযরত আলী। শুক্রবার (২৭ জুন, ২০২৫) সকালে হযরত আলীকে (১২) গ্রেফতারের পর পুলিশ এই লোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য উদঘাটন করেছে।
এই হৃদয়বিদারক ঘটনাটি ঘটে বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলার বনপাড়া পাটোয়ারী ফিলিং স্টেশন সংলগ্ন নির্মাণাধীন মসলা মিলের ফাঁকা মাঠে।
নিহত ও অভিযুক্তের পরিচয়
নিহত মিনহাজ হোসেন আবির উপজেলার মহিষভাঙ্গা মহল্লার কাতার প্রবাসী মিলন হোসেনের একমাত্র ছেলে। সে বনপাড়া আদিব ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। অভিযুক্ত হযরত আলী একই গ্রামের রিয়াজুল ইসলামের ছেলে এবং মহিষভাঙ্গা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র।
হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচন
শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় এক প্রেস ব্রিফিংয়ে বড়াইগ্রাম সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শোভন চন্দ্র হোড় হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনের তথ্য জানান।
নিহতের স্বজনরা জানান, বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টার দিকে আবির তার বাবার স্মার্টফোন ও বাইসাইকেল নিয়ে ঘুরতে বের হয়ে আর ফিরে আসেনি। সন্ধ্যায় তার বাবা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। পরে খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে রাতে স্বজনরা পাশের মসলা মিলের ফাঁকা মাঠে প্রথমে তার রক্তমাখা বাইসাইকেল ও স্যান্ডেলসহ আবিরের মাথা থেঁতলানো লাশ দেখতে পান।
থানা ও প্রেস ব্রিফিং সূত্রে জানা যায়, বিকেলে আবির ও হযরত একসঙ্গে বসে মোবাইলে গেম খেলছিল। এ সময় গেম খেলা নিয়ে তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি ও মারামারি শুরু হয়। একপর্যায়ে আবির সাইকেল ফেলে রেখে কিছুদূরে গেলে হযরত পাশে পড়ে থাকা একটি ইট দিয়ে আবিরের মাথায় উপর্যুপরি আঘাত করে। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। পরে হযরত আবিরের মৃতদেহ পাশেই ভুট্টার শুকনো গাছের পালার নিচে লুকিয়ে রেখে মোবাইলটি নিয়ে চলে যায়।
শুক্রবার সকালে পুলিশ হযরতকে গ্রেফতার করলে সে প্রাথমিক স্বীকারোক্তিতে এসব তথ্য জানায়। পরে তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী হযরতের বাড়ি থেকে আবিরের মোবাইল ফোনটি জব্দ করা হয়।
পিতার আকুতি ও পুলিশের পদক্ষেপ
নিহতের পিতা মিলন হোসেন জানান, ঈদের ছুটিতে বাড়িতে আসার পর থেকে ছেলেটা বেশিরভাগ সময় তার সঙ্গেই থাকত। তিনি আফসোস করে বলেন, “গতকাল মোবাইল ও সাইকেল নিয়ে সে ঘুরতে যায়। আমি বাড়িতে থেকেও আমার সন্তানকে নিরাপদ জীবন দিতে পারলাম না—এ দুঃখ আমি রাখি কোথায়?”
বড়াইগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম সারওয়ার হোসেন জানান, দ্রুততম সময়ের মধ্যে অভিযুক্তকে গ্রেফতার ও হত্যার রহস্য উদঘাটন করা হয়েছে। শুক্রবার ওই শিশুকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া নিহতের লাশ শুক্রবার ময়নাতদন্ত শেষে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।





















