যুবলীগ নেতার স্ত্রীকে নিয়ে পালানোয় যুবককে পুড়িয়ে হত্যা অভিযোগ
- আপডেট সময় : ০৯:১৭:৫৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ মার্চ ২০২৫
- / 333
স্ত্রীকে নিয়ে পালিয়ে যাওয়ায় ঝিনাইদহের কালীগঞ্জের আহসানুল ইসলাম অর্কিড নামে এক যুবককে শরীরে পেট্রল ঢেলে আগুন ধরিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদকের বিরুদ্ধে। দগ্ধ করার ৫ দিন পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার বেলা ১১টার দিকে ঢাকা মেডিকেলের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান অর্কিড। অভিযুক্ত মনিরুজ্জামান রিংকু কালীগঞ্জ পৌরসভার ৫নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর ও উপজেলা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। তিনি নিশ্চিন্তপুর গ্রামের আবেদ আলীর ছেলে ও ঝিনাইদহ-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজীম আনারের বড় ভাইয়ের ছেলে।
জানা গেছে, গত প্রায় ১ মাস আগে মনিরুজ্জামান রিংকুর স্ত্রী তারিন খাতুনকে পালিয়ে নিয়ে গিয়ে বিয়ে করেন অর্কিড। এরপর থেকে অর্কিড ও তারিন পলাতক ছিলেন। গত বুধবার সকাল ৭টার দিকে যশোর পুরাতন কসবা রায়পাড়া বটতলা মসজিদের কাছে মীমাংসার কথা বলে অর্কিডকে যশোরে ডাকেন তারিন। এ সময় তার শরীরে পেট্রল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। মনিরুজ্জামান রিংকু, তারিন খাতুন ও ফয়সাল নামে এই তিনজন শরীরে পেট্রল ঢেলে আগুন ধরিয়ে পালিয়ে যান। পরে স্থানীয়রা অর্কিডের পরিবারের স্বজনদের খবর দিলে তারা গিয়ে তাকে উদ্ধার করে নিয়ে আসে। ভয়ে যশোরের কোনো হাসপাতালে চিকিৎসা না করিয়ে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসেন। এরপর তাকে ঢাকা মেডিকেলের বার্ন ইউনিটে রেফার করা হয়।
অর্কিডের বাবা ওসমান গনি বলেন, “আমার একমাত্র ছেলে আর নেই। সাবেক এমপি আনারের ভাইপো রিংকু, তার স্ত্রী তারিন ও ফয়সাল আমার ছেলেকে শেষ করে দিয়েছে। আমি আমার ছেলে হত্যার বিচার চাই।” অর্কিডের মা জোসনা বেগম অভিযোগ করে বলেন, “আগুন দিয়ে পোড়ানোর পর ছেলের চিকিৎসার জন্য উদ্ধার করে নিয়ে আসার সময় জোরপূর্বক ভিডিও করে নেয় রিংকু ও তারিন। না হলে তারা সন্তানকে নিয়ে আসতে দিচ্ছিল না।” যশোর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কাজী বাবুল আক্তার জানান, “নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে এখনো মামলা দায়ের করেনি। তারা এলে মামলা নেওয়া হবে।”
এ ঘটনায় এলাকাবাসী ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।





















