ঢাকা ১১:৪১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৫ মে ২০২৬, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

‘সালিসে ডেকে’ বিএনপি কর্মীকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ জামায়াত কর্মীদের বিরুদ্ধে

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ১১:৪৩:০১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২১ মার্চ ২০২৫
  • / 222

ঝিনাইদহের মহেশপুরে সালিসে ডেকে জাফর আলী নামের বিএনপির এক কর্মীকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। বৃহস্পতিবার (২০ মার্চ) রাত সাড়ে ৯টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। মহেশপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফয়েজ উদ্দিন মৃধা মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

 নিহতের পরিচয় ও রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা:

জাফর আলী উপজেলার কাজীরবেড় ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সদস্য ও সামন্তা গ্রামের জীবননগর পাড়ার বাসিন্দা।

 অভিযোগ ও প্রতিপক্ষের বক্তব্য:

মহেশপুর উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক জিয়াউর রহমান বলেন, একটি গাছের মালিকানা নিয়ে বিএনপির কর্মী জাফর আলীর সঙ্গে স্থানীয় জামায়াত কর্মী আমির মোড়ল, সজীব হোসেন ও আব্বাস আলীর বিরোধ ছিল। বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে জাফরকে বাড়ি থেকে ডেকে গ্রামের একটি মোড়ে নিয়ে যান তাঁরা। সেখানে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে উপস্থিত লোকজন তাঁকে পেটাতে শুরু করে। একপর্যায়ে তিনি মারা যান। নিহত ব্যক্তির ছেলে আলমগীর হোসেন বলেন, ‘আমার বাবা বিএনপি করত। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিচার চাই। যারা সেখানে ছিল, তারা জামায়াতের রাজনীতি করে।’ এদিকে সংবাদ সম্মেলনে উপজেলা জামায়াতের আমির ফারুক আহম্মেদ বলেন, জীবননগর পাড়ার আব্বাস আলী ও জাফর আলীর সঙ্গে গাছ কাটা নিয়ে বিরোধ মীমাংসার জন্য গ্রাম্য সালিস বাসানো হয়। তাঁদের দুজনের মধ্যে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে জাফর মাটিতে পড়ে জ্ঞান হারিয়ে ঘটনাস্থলে মারা যান।

 পুলিশের পদক্ষেপ ও আইনি প্রক্রিয়া:

খবর পেয়ে মহেশপুর থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে অবস্থান নেয়। ঘটনার প্রতিবাদে শুক্রবার বেলা ৩টার দিকে সামন্তা বাজারে মহেশপুর উপজেলা বিএনপি বিক্ষোভ করেছে। এ সময় উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় বিএনপির সহতথ্য ও গবেষণা সম্পাদক আমিরুজ্জামান খান শিমুল। তাঁরা দ্রুত খুনিদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন। মহেশপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফয়েজ উদ্দিন মৃধা জানান, প্রতিপক্ষের হামলায় বৃহস্পতিবার রাতে জাফর আলী নামের এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। ময়নাতদন্ত শেষে তাঁর মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় নিহত ব্যক্তির ছেলে আলমগীর বাদী হয়ে থানায় ১৩ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ৪-৫ জনের নামে মামলা করেছেন। আসামিদের আটকের চেষ্টা চলছে।

এলাকাবাসীর প্রতিক্রিয়া:

এই ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।

‘সালিসে ডেকে’ বিএনপি কর্মীকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ জামায়াত কর্মীদের বিরুদ্ধে

আপডেট সময় : ১১:৪৩:০১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২১ মার্চ ২০২৫

ঝিনাইদহের মহেশপুরে সালিসে ডেকে জাফর আলী নামের বিএনপির এক কর্মীকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। বৃহস্পতিবার (২০ মার্চ) রাত সাড়ে ৯টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। মহেশপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফয়েজ উদ্দিন মৃধা মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

 নিহতের পরিচয় ও রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা:

জাফর আলী উপজেলার কাজীরবেড় ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সদস্য ও সামন্তা গ্রামের জীবননগর পাড়ার বাসিন্দা।

 অভিযোগ ও প্রতিপক্ষের বক্তব্য:

মহেশপুর উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক জিয়াউর রহমান বলেন, একটি গাছের মালিকানা নিয়ে বিএনপির কর্মী জাফর আলীর সঙ্গে স্থানীয় জামায়াত কর্মী আমির মোড়ল, সজীব হোসেন ও আব্বাস আলীর বিরোধ ছিল। বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে জাফরকে বাড়ি থেকে ডেকে গ্রামের একটি মোড়ে নিয়ে যান তাঁরা। সেখানে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে উপস্থিত লোকজন তাঁকে পেটাতে শুরু করে। একপর্যায়ে তিনি মারা যান। নিহত ব্যক্তির ছেলে আলমগীর হোসেন বলেন, ‘আমার বাবা বিএনপি করত। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিচার চাই। যারা সেখানে ছিল, তারা জামায়াতের রাজনীতি করে।’ এদিকে সংবাদ সম্মেলনে উপজেলা জামায়াতের আমির ফারুক আহম্মেদ বলেন, জীবননগর পাড়ার আব্বাস আলী ও জাফর আলীর সঙ্গে গাছ কাটা নিয়ে বিরোধ মীমাংসার জন্য গ্রাম্য সালিস বাসানো হয়। তাঁদের দুজনের মধ্যে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে জাফর মাটিতে পড়ে জ্ঞান হারিয়ে ঘটনাস্থলে মারা যান।

 পুলিশের পদক্ষেপ ও আইনি প্রক্রিয়া:

খবর পেয়ে মহেশপুর থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে অবস্থান নেয়। ঘটনার প্রতিবাদে শুক্রবার বেলা ৩টার দিকে সামন্তা বাজারে মহেশপুর উপজেলা বিএনপি বিক্ষোভ করেছে। এ সময় উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় বিএনপির সহতথ্য ও গবেষণা সম্পাদক আমিরুজ্জামান খান শিমুল। তাঁরা দ্রুত খুনিদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন। মহেশপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফয়েজ উদ্দিন মৃধা জানান, প্রতিপক্ষের হামলায় বৃহস্পতিবার রাতে জাফর আলী নামের এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। ময়নাতদন্ত শেষে তাঁর মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় নিহত ব্যক্তির ছেলে আলমগীর বাদী হয়ে থানায় ১৩ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ৪-৫ জনের নামে মামলা করেছেন। আসামিদের আটকের চেষ্টা চলছে।

এলাকাবাসীর প্রতিক্রিয়া:

এই ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।