ঢাকা ০২:৪৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

২১ আগস্ট হামলা: তারেক রহমান-বাবরসহ সবার খালাস বহাল

দৈনিক জাগ্রত বাংলাদেশ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ১১:৪৮:৪১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • / 201

বহুল আলোচিত ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত তারেক রহমান ও মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরসহ সব আসামিকে খালাস দিয়েছেন দেশের সর্বোচ্চ আদালত। হাইকোর্টের দেওয়া রায় বহাল রেখে বৃহস্পতিবার (৪ সেপ্টেম্বর) প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে ৬ বিচারপতির আপিল বেঞ্চ এই রায় ঘোষণা করেন। দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষে এই মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পরিণতি পেল।

আদালতের রায় ও শুনানি

বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা ৫ মিনিটে প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বে আপিল বেঞ্চ রায় ঘোষণা করেন। আদালতে তারেক রহমান-বাবরের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট এস এম শাহজাহান ও অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির। অন্যদিকে, রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান। এই রায়ের মধ্য দিয়ে বিচারিক আদালতের দেওয়া দণ্ড বাতিল হয়ে গেল।

হামলার প্রেক্ষাপট ও বিচার প্রক্রিয়া

২০০৪ সালের ২১ আগস্ট ঢাকার বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউতে আওয়ামী লীগের সমাবেশে গ্রেনেড হামলা চালানো হয়। এই হামলায় মহিলা আওয়ামী লীগের সভানেত্রী আইভি রহমানসহ ২৪ জন নিহত এবং শতাধিক নেতাকর্মী আহত হন। ঘটনার পর তদন্ত নিয়ে নানা বিতর্ক দেখা দেয়। পরবর্তীতে ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে অধিকতর তদন্ত করে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ আরও ৩০ জনকে আসামি করা হয়।

২০১৮ সালে ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল এই মামলার রায় দেন। রায়ে তারেক রহমানসহ ১৯ জনকে যাবজ্জীবন এবং লুৎফুজ্জামান বাবরসহ ১৯ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। এর বিরুদ্ধে আপিল করা হলে ২০২৩ সালে হাইকোর্ট সব আসামিকে খালাস দিয়ে রায় দেন। হাইকোর্ট তার রায়ে উল্লেখ করেন, মামলার তদন্ত পর্যাপ্ত ও স্বাধীনভাবে হয়নি।

আপিল বিভাগের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত

হাইকোর্টের এই খালাসের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করে রাষ্ট্রপক্ষ। তাদের দাবি ছিল, বিচারিক আদালতের দেওয়া সাজা বহাল রাখা হোক। অন্যদিকে, আসামিপক্ষ হাইকোর্টের রায় বহাল রাখার পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে। আপিল বিভাগে ধারাবাহিকভাবে শুনানি শেষে আদালত আজকের দিনটি রায়ের জন্য নির্ধারণ করেন। আপিল বিভাগের এই সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ার অবসান হলো।

২১ আগস্ট হামলা: তারেক রহমান-বাবরসহ সবার খালাস বহাল

আপডেট সময় : ১১:৪৮:৪১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫

বহুল আলোচিত ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত তারেক রহমান ও মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরসহ সব আসামিকে খালাস দিয়েছেন দেশের সর্বোচ্চ আদালত। হাইকোর্টের দেওয়া রায় বহাল রেখে বৃহস্পতিবার (৪ সেপ্টেম্বর) প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে ৬ বিচারপতির আপিল বেঞ্চ এই রায় ঘোষণা করেন। দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষে এই মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পরিণতি পেল।

আদালতের রায় ও শুনানি

বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা ৫ মিনিটে প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বে আপিল বেঞ্চ রায় ঘোষণা করেন। আদালতে তারেক রহমান-বাবরের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট এস এম শাহজাহান ও অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির। অন্যদিকে, রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান। এই রায়ের মধ্য দিয়ে বিচারিক আদালতের দেওয়া দণ্ড বাতিল হয়ে গেল।

হামলার প্রেক্ষাপট ও বিচার প্রক্রিয়া

২০০৪ সালের ২১ আগস্ট ঢাকার বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউতে আওয়ামী লীগের সমাবেশে গ্রেনেড হামলা চালানো হয়। এই হামলায় মহিলা আওয়ামী লীগের সভানেত্রী আইভি রহমানসহ ২৪ জন নিহত এবং শতাধিক নেতাকর্মী আহত হন। ঘটনার পর তদন্ত নিয়ে নানা বিতর্ক দেখা দেয়। পরবর্তীতে ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে অধিকতর তদন্ত করে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ আরও ৩০ জনকে আসামি করা হয়।

২০১৮ সালে ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল এই মামলার রায় দেন। রায়ে তারেক রহমানসহ ১৯ জনকে যাবজ্জীবন এবং লুৎফুজ্জামান বাবরসহ ১৯ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। এর বিরুদ্ধে আপিল করা হলে ২০২৩ সালে হাইকোর্ট সব আসামিকে খালাস দিয়ে রায় দেন। হাইকোর্ট তার রায়ে উল্লেখ করেন, মামলার তদন্ত পর্যাপ্ত ও স্বাধীনভাবে হয়নি।

আপিল বিভাগের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত

হাইকোর্টের এই খালাসের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করে রাষ্ট্রপক্ষ। তাদের দাবি ছিল, বিচারিক আদালতের দেওয়া সাজা বহাল রাখা হোক। অন্যদিকে, আসামিপক্ষ হাইকোর্টের রায় বহাল রাখার পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে। আপিল বিভাগে ধারাবাহিকভাবে শুনানি শেষে আদালত আজকের দিনটি রায়ের জন্য নির্ধারণ করেন। আপিল বিভাগের এই সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ার অবসান হলো।