টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলায় এক বাক-শ্রবণ প্রতিবন্ধী তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগে অভিযুক্ত ইসমাইল হোসেনকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ার পর নির্যাতনের বিষয়টি প্রকাশ করেন ভুক্তভোগী তরুণী।
গতকাল রোববার (১২ অক্টোবর) রাতে টাঙ্গাইল র্যাব-১২ সিসিসি-৩ এর কোম্পানি কমান্ডার মেজর মোহাম্মদ কাউছার বাধন এক প্রেস ব্রিফিংয়ে গ্রেপ্তারের এই তথ্য নিশ্চিত করেন।
প্রতিবেশীর বাড়িতে ধর্ষণের ঘটনা ও হুমকি
র্যাব সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত ইসমাইল হোসেন নির্যাতিতার প্রতিবেশী হওয়ায় তরুণী প্রায়ই নানা কাজে তার বাড়িতে যেতেন।
ধর্ষণের দিন: গত ২৫ মার্চ তরুণী অন্যান্য দিনের মতো ইসমাইলের বাড়িতে কাজ করতে গিয়ে ঘুমিয়ে পড়েন। এই সুযোগে ইসমাইলের স্ত্রী বাড়িতে না থাকায় তিনি ভয়-ভীতি দেখিয়ে ওই তরুণীকে ধর্ষণ করেন।
গোপন রাখা: ইসমাইল হোসেন বিষয়টি কাউকে জানালে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়ায় তরুণী দীর্ঘদিন ধর্ষণের ঘটনা গোপন রাখেন।
প্রকাশ: কিছুদিন পর নির্যাতিতার চলাফেরায় পরিবর্তন এবং শরীরের পরিবর্তন দেখা দিলে পরিবারের সদস্যরা জিজ্ঞাসাবাদ করেন। তখন তরুণী ইশারা ও লেখনির মাধ্যমে প্রতিবেশী ইসমাইল কর্তৃক ধর্ষণের বিষয়টি প্রকাশ করেন।
পরবর্তীতে ডাক্তারি পরীক্ষা করা হলে জানা যায়, ভিকটিম তরুণী ২৬ সপ্তাহ ৪ দিনের অন্তঃসত্ত্বা।
গ্রেপ্তার ও রাজনৈতিক পরিচয়
তথ্য-প্রযুক্তি ব্যবহার করে র্যাব গতকাল বিকেলে জেলার দেলদুয়ার থানাধীন নাসির গ্রুপ কোম্পানি এলাকা থেকে ইসমাইল হোসেনকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।
রাজনৈতিক যোগসূত্র: উল্লেখ্য, অভিযুক্ত ইসমাইল হোসেন কালিহাতী উপজেলার নারান্দিয়া ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।
দল থেকে বহিষ্কার: এই গুরুতর ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক গত ১০ অক্টোবর তাকে দল থেকে বহিষ্কার করেন।
র্যাব জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃত আসামির বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।