ঢাকা ০৩:৫৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬, ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফরিদপুরে ভুবনেশ্বর নদে ভাসছিল বিবস্ত্র-অর্ধগলিত কিশোরীর লাশ

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
  • আপডেট সময় : ০২:৪৩:৪১ অপরাহ্ন, শনিবার, ৬ জুন ২০২৬
  • / 27

ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার ভুবনেশ্বর নদ থেকে ভাসমান অবস্থায় অজ্ঞাতনামা এক কিশোরীর রহস্যজনক মরদেহ উদ্ধার করেছে থানা পুলিশ। উদ্ধার হওয়া মরদেহটি অনেকটাই বিবস্ত্র এবং অর্ধগলিত অবস্থায় ছিল বলে নিশ্চিত করেছে স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা। নিহত ওই কিশোরীর বয়স আনুমানিক ১৪ থেকে ১৫ বছর হতে পারে বলে ধারণা করছে পুলিশ।

গত শুক্রবার (৫ জুন) দুপুরে উপজেলার চরকৃষ্ণপুর এলাকার ভুবনেশ্বর নদ থেকে এই গলিত লাশটি উদ্ধার করা হয়।

নদীতে লাশ দেখে পুলিশে খবর:

স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শুক্রবার সকাল ১১টার দিকে নদীর পানিতে একটি বিকৃত মরদেহ ভাসতে দেখতে পান কয়েকজন জেলে ও এলাকাবাসী। কিশোরীর লাশ ভাসার খবরটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে নদীর পাড়ে উৎসুক জনতার ভিড় জমে। পরবর্তীতে বিষয়টি স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুল জলিল মিয়াকে জানানো হলে তিনি তাৎক্ষণিক সদরপুর থানায় খবর দেন। খবর পেয়ে দুপুরের দিকে সদরপুর থানা-পুলিশের একটি টিম দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে নদী থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে।

তদন্তে সিআইডি ও ফরেনসিক টিম:

লাশ উদ্ধারের পর সুরতহাল প্রতিবেদন শেষে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে পুলিশ। সদরপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আসাদুজ্জামান রিপন বলেন, “খবর পাওয়ার পরপরই আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে নদী থেকে মরদেহটি উদ্ধার করি। মরদেহের অবয়ব অনেকটাই নষ্ট হয়ে গেছে। নিহতের পরিচয় শনাক্ত এবং মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন করতে ময়নাতদন্তের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।”

সদরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল আল মামুন শাহ জানান, মরদেহটির পরিচয় শনাক্তে সাধারণ পুলিশের পাশাপাশি বিশেষায়িত ফরেনসিক ও সিআইডি (CID) টিম কাজ শুরু করেছে। এখন পর্যন্ত নিহত কিশোরীর কোনো পরিবার বা সঠিক পরিচয় পাওয়া যায়নি। পুরো বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছে পুলিশ।

হত্যাকাণ্ড নাকি দুর্ঘটনা?

উদ্ধারকৃত লাশটি বিবস্ত্র ও অর্ধগলিত থাকায় এলাকায় নানা গুঞ্জন ও রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। তবে পুলিশ জানিয়েছে, এটি কোনো দুর্ঘটনা, আত্মহত্যা নাকি পরিকল্পিত ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ড—তা ময়নাতদন্তের রিপোর্ট ছাড়া এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। হাসপাতালের ফরেনসিক প্রতিবেদন এবং পুলিশের তদন্তের অগ্রগতির ভিত্তিতে পরবর্তী কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ফরিদপুরে ভুবনেশ্বর নদে ভাসছিল বিবস্ত্র-অর্ধগলিত কিশোরীর লাশ

আপডেট সময় : ০২:৪৩:৪১ অপরাহ্ন, শনিবার, ৬ জুন ২০২৬

ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার ভুবনেশ্বর নদ থেকে ভাসমান অবস্থায় অজ্ঞাতনামা এক কিশোরীর রহস্যজনক মরদেহ উদ্ধার করেছে থানা পুলিশ। উদ্ধার হওয়া মরদেহটি অনেকটাই বিবস্ত্র এবং অর্ধগলিত অবস্থায় ছিল বলে নিশ্চিত করেছে স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা। নিহত ওই কিশোরীর বয়স আনুমানিক ১৪ থেকে ১৫ বছর হতে পারে বলে ধারণা করছে পুলিশ।

গত শুক্রবার (৫ জুন) দুপুরে উপজেলার চরকৃষ্ণপুর এলাকার ভুবনেশ্বর নদ থেকে এই গলিত লাশটি উদ্ধার করা হয়।

নদীতে লাশ দেখে পুলিশে খবর:

স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শুক্রবার সকাল ১১টার দিকে নদীর পানিতে একটি বিকৃত মরদেহ ভাসতে দেখতে পান কয়েকজন জেলে ও এলাকাবাসী। কিশোরীর লাশ ভাসার খবরটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে নদীর পাড়ে উৎসুক জনতার ভিড় জমে। পরবর্তীতে বিষয়টি স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুল জলিল মিয়াকে জানানো হলে তিনি তাৎক্ষণিক সদরপুর থানায় খবর দেন। খবর পেয়ে দুপুরের দিকে সদরপুর থানা-পুলিশের একটি টিম দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে নদী থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে।

তদন্তে সিআইডি ও ফরেনসিক টিম:

লাশ উদ্ধারের পর সুরতহাল প্রতিবেদন শেষে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে পুলিশ। সদরপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আসাদুজ্জামান রিপন বলেন, “খবর পাওয়ার পরপরই আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে নদী থেকে মরদেহটি উদ্ধার করি। মরদেহের অবয়ব অনেকটাই নষ্ট হয়ে গেছে। নিহতের পরিচয় শনাক্ত এবং মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন করতে ময়নাতদন্তের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।”

সদরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল আল মামুন শাহ জানান, মরদেহটির পরিচয় শনাক্তে সাধারণ পুলিশের পাশাপাশি বিশেষায়িত ফরেনসিক ও সিআইডি (CID) টিম কাজ শুরু করেছে। এখন পর্যন্ত নিহত কিশোরীর কোনো পরিবার বা সঠিক পরিচয় পাওয়া যায়নি। পুরো বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছে পুলিশ।

হত্যাকাণ্ড নাকি দুর্ঘটনা?

উদ্ধারকৃত লাশটি বিবস্ত্র ও অর্ধগলিত থাকায় এলাকায় নানা গুঞ্জন ও রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। তবে পুলিশ জানিয়েছে, এটি কোনো দুর্ঘটনা, আত্মহত্যা নাকি পরিকল্পিত ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ড—তা ময়নাতদন্তের রিপোর্ট ছাড়া এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। হাসপাতালের ফরেনসিক প্রতিবেদন এবং পুলিশের তদন্তের অগ্রগতির ভিত্তিতে পরবর্তী কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।