ঢাকা ০২:২২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬, ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফরিদপুরে অস্ত্র হাতে রণক্ষেত্র গ্রাম: সংঘর্ষে জখম ১৫

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
  • আপডেট সময় : ০৫:৫৩:২৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ জুন ২০২৬
  • / 220

শান্ত পল্লীর বুক চিরে আকস্মিক নেমে এল আদিম অন্ধকার। দেশীয় অস্ত্র, ঢাল-সড়কি আর রামদার ঝনঝনানিতে কেঁপে উঠল গোটা এলাকা। ফরিদপুরের সালথা উপজেলার সোনাপুর ইউনিয়নের চরবাংরাইল গ্রামে পূর্ব শত্রুতার জেরে দুই পক্ষের মধ্যে এক রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। ঘণ্টাব্যাপী চলা এই নারকীয় তাণ্ডবে ও ইটপাটকেলের আঘাতে নারী-পুরুষসহ অন্তত ১৫ জন গুরুতর জখম হয়েছেন। উন্মত্ততার এখানেই শেষ নয়, সংঘর্ষ চলাকালীন নির্বিচারে হামলা চালিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে অন্তত ৫টি নিরীহ বসতবাড়ি।

গত সোমবার (১ জুন) রাতে চরবাংরাইল গ্রামে এই মধ্যযুগীয় তাণ্ডবের ঘটনা ঘটে। পরে খবর পেয়ে সালথা থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

তুচ্ছ মারামারি থেকেই মহালঙ্কাখণ্ড:

স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, চরবাংরাইল গ্রামের দুই মাতব্বর বিল্লাল মুন্সী ও মনি মোল্যার সমর্থকদের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধ ছিল। সোমবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে সেই বিরোধের জেরে মনি মোল্যার সমর্থক রুহুল ফকিরকে (২৭) অতর্কিতে মারধর করেন বিল্লাল মুন্সীর লোক আহাদ মুন্সী (২৬)। এই ঘটনার খবর চাউর হতেই দুই পক্ষের শত শত মানুষ লাঠিসোঁটা, ঢাল, সড়কি ও রামদা নিয়ে মরণপণ যুদ্ধে মেতে ওঠে।

ধাওয়াপাল্টা ধাওয়া আর ইটপাটকেলের আঘাতে নিমিষেই রণক্ষেত্রে পরিণত হয় গোটা চত্বর। প্রাণভয়ে নারী, শিশু ও বৃদ্ধরা নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ছোটাছুটি শুরু করেন। এই সুযোগে দাঙ্গাবাজরা একে একে ৫টি বসতবাড়িতে চড়াও হয়ে আসবাবপত্র ও মূল্যবান মালামাল ব্যাপক ভাঙচুর করে।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ১৫, গ্রামে পুলিশ পাহারা:

ফুটন্ত এই সংঘর্ষে দুই পক্ষের অন্তত ১৫ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন স্থানীয় ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে চিকিৎসাধীন আহতদের পূর্ণাঙ্গ পরিচয় নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ।

সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. বাবলুর রহমান খান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, “দুই ব্যক্তির তুচ্ছ মারামারিকে কেন্দ্র করে পুরো গ্রামে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়েছিল। খবর পাওয়ার সাথে সাথেই পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এলাকায় নতুন করে উত্তেজনা এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রাখা হয়েছে।” ঘটনার সাথে জড়িত অপরাধীদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনা হচ্ছে বলে সাফ জানিয়েছে পুলিশ।

ফরিদপুরে অস্ত্র হাতে রণক্ষেত্র গ্রাম: সংঘর্ষে জখম ১৫

আপডেট সময় : ০৫:৫৩:২৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ জুন ২০২৬

শান্ত পল্লীর বুক চিরে আকস্মিক নেমে এল আদিম অন্ধকার। দেশীয় অস্ত্র, ঢাল-সড়কি আর রামদার ঝনঝনানিতে কেঁপে উঠল গোটা এলাকা। ফরিদপুরের সালথা উপজেলার সোনাপুর ইউনিয়নের চরবাংরাইল গ্রামে পূর্ব শত্রুতার জেরে দুই পক্ষের মধ্যে এক রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। ঘণ্টাব্যাপী চলা এই নারকীয় তাণ্ডবে ও ইটপাটকেলের আঘাতে নারী-পুরুষসহ অন্তত ১৫ জন গুরুতর জখম হয়েছেন। উন্মত্ততার এখানেই শেষ নয়, সংঘর্ষ চলাকালীন নির্বিচারে হামলা চালিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে অন্তত ৫টি নিরীহ বসতবাড়ি।

গত সোমবার (১ জুন) রাতে চরবাংরাইল গ্রামে এই মধ্যযুগীয় তাণ্ডবের ঘটনা ঘটে। পরে খবর পেয়ে সালথা থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

তুচ্ছ মারামারি থেকেই মহালঙ্কাখণ্ড:

স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, চরবাংরাইল গ্রামের দুই মাতব্বর বিল্লাল মুন্সী ও মনি মোল্যার সমর্থকদের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধ ছিল। সোমবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে সেই বিরোধের জেরে মনি মোল্যার সমর্থক রুহুল ফকিরকে (২৭) অতর্কিতে মারধর করেন বিল্লাল মুন্সীর লোক আহাদ মুন্সী (২৬)। এই ঘটনার খবর চাউর হতেই দুই পক্ষের শত শত মানুষ লাঠিসোঁটা, ঢাল, সড়কি ও রামদা নিয়ে মরণপণ যুদ্ধে মেতে ওঠে।

ধাওয়াপাল্টা ধাওয়া আর ইটপাটকেলের আঘাতে নিমিষেই রণক্ষেত্রে পরিণত হয় গোটা চত্বর। প্রাণভয়ে নারী, শিশু ও বৃদ্ধরা নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ছোটাছুটি শুরু করেন। এই সুযোগে দাঙ্গাবাজরা একে একে ৫টি বসতবাড়িতে চড়াও হয়ে আসবাবপত্র ও মূল্যবান মালামাল ব্যাপক ভাঙচুর করে।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ১৫, গ্রামে পুলিশ পাহারা:

ফুটন্ত এই সংঘর্ষে দুই পক্ষের অন্তত ১৫ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন স্থানীয় ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে চিকিৎসাধীন আহতদের পূর্ণাঙ্গ পরিচয় নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ।

সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. বাবলুর রহমান খান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, “দুই ব্যক্তির তুচ্ছ মারামারিকে কেন্দ্র করে পুরো গ্রামে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়েছিল। খবর পাওয়ার সাথে সাথেই পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এলাকায় নতুন করে উত্তেজনা এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রাখা হয়েছে।” ঘটনার সাথে জড়িত অপরাধীদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনা হচ্ছে বলে সাফ জানিয়েছে পুলিশ।