ভবঘুরে লায়লা বাউল ভাইরাল: তুলনা চলছে রানু মণ্ডলের সাথে
- আপডেট সময় : ১১:২৯:১০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৫ মে ২০২৬
- / 81
ফরিদপুর শহরের বাসস্ট্যান্ড, রেলস্টেশন কিংবা বিভিন্ন হাটবাজারে জীর্ণ পোশাকে ঘুরে বেড়ানো চেনা মুখ ‘লায়লা বাউল’। কখনো খালি পায়ে, কখনো সাধারণ স্যান্ডেল পরে শহরের অলিগলিতে গান গেয়ে বেড়ানো এই ভবঘুরে নারীই এবার অনন্য এক কীর্তি গড়েছেন। জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জন্মজয়ন্তীর মঞ্চে খালি গলায় নজরুল সঙ্গীত গেয়ে রাতারাতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রীতিমতো ভাইরাল হয়ে উঠেছেন তিনি।
নজরুল সঙ্গীত ‘নয়নভরা জল গো তোমার’ গেয়ে নেটিজেনদের প্রশংসায় ভাসছেন লায়লা বাউল। তার এই সুরেলা ও দরদী কণ্ঠ শুনে অনেকেই তাকে ভারতের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের এক সময়ের ভাইরাল শিল্পী রানু মণ্ডলের সঙ্গে তুলনা করছেন।
ময়েজ মঞ্জিলের মঞ্চে লায়লার ম্যাজিক:
শনিবার (২৪ মে) বিকালে নজরুল জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে ফরিদপুর সাহিত্য পরিষদ। শহরের কমলাপুর এলাকার ঐতিহাসিক ময়েজ মঞ্জিলে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে হঠাৎ করেই অতিসাধারণ এক শাড়ি পরিহিত অবস্থায় মঞ্চে ওঠেন লায়লা বাউল। কোনো বাদ্যযন্ত্র ছাড়া, সম্পূর্ণ খালি গলায় মনের আনন্দে তিনি যখন গেয়ে ওঠেন নজরুলের অমর সৃষ্টি, তখন উপস্থিত সকল গুণীজন ও শ্রোতারা স্তব্ধ হয়ে যান। মুহূর্তের মধ্যেই সেই গানের ভিডিও ক্যামেরাবন্দি হয়ে ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক মাধ্যমে, যা এখন নেটদুনিয়ায় ট্রেন্ডিং।
মুগ্ধ সদর আসনের সংসদ সদস্যসহ বিশিষ্টজনেরা:
ঐতিহ্যবাহী ময়েজ মঞ্জিলের এই আনন্দ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফরিদপুর-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য চৌধুরী নায়াব ইউসুফ। তিনি লায়লার গানের ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, “নজরুল শুধু বিদ্রোহের কবি নন, তিনি প্রেম ও সাম্যেরও কবি। লায়লার খালি গলায় গাওয়া সুরেলা গান শুনে আমি নিজেও মুগ্ধ হয়েছি।”
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ফরিদপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক আফজাল হোসেন খান পলাশ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফাতেমা ইসলাম, প্রফেসর এম এ সামাদ, প্রখ্যাত নাট্যকার ড. অনুপম হায়াৎ, বিশিষ্ট সাংবাদিক বদিউজ্জামান চৌধুরীসহ স্থানীয় সাংস্কৃতিক ব্যক্তিবর্গ। জেলা পরিষদের প্রশাসক আফজাল হোসেন বলেন, “লায়লা বাউল যে এতো সুন্দর নজরুল সঙ্গীত গাইতে পারেন তা আগে জানা ছিল না।”
সংসারত্যাগী এক ‘মানুষ’ দেখার বাউল:
স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা গেছে, লায়লা বাউল দীর্ঘ প্রায় ২০ বছর ধরে ফরিদপুর শহরের বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে বেড়াচ্ছেন। লোকসঙ্গীতের পাশাপাশি দেশি-বিদেশি বিভিন্ন শিল্পীদের গানও গাইতে পারেন তিনি। তার নিজের এক মেয়ে ও একটি পালক ছেলে রয়েছে। সন্তানরা বড় হয়ে সংসারী হলেও লায়লা আর চার দেয়ালের সংসারে ফেরেননি। গান গেয়ে আর মানুষের ভিড়ে মিশে গিয়েই কেটে যাচ্ছে তার যাযাবর জীবন।
ফরিদপুর সাহিত্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মফিজ ইমাম মিলন লায়লার ভবঘুরে জীবনের এক দারুণ গল্প শুনিয়ে বলেন, “একবার তাকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, কেন এভাবে ঘুরে বেড়ান? উত্তরে লায়লা বলেছিলেন—‘আমি মানুষ দেখি। দুনিয়াতে কত রকমের মানুষ, কারও সঙ্গে কারও মিল নাই। মানুষ দেখতে আমার ভাল্লাগে’।”
ফরিদপুর সাহিত্য ও সংস্কৃতি উন্নয়ন সংস্থার সাধারণ সম্পাদক হাসানউজ্জামান বলেন, “তাকে প্রায় দুই দশক ধরে শহরে গান গেয়ে বেড়াতে দেখছি। তিনি খুবই ভালো মনের মানুষ। অনুষ্ঠানে হঠাৎ করেই তাকে গান গাওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তার কণ্ঠের এই জাদু এভাবে সামাজিক মাধ্যমে আলোড়ন সৃষ্টি করবে, তা আমরা ভাবতে পারিনি।”




















