পাচার করা টাকা ফেরাতে ও সংস্কারে সহায়তা চায় বাংলাদেশ
- আপডেট সময় : ০৮:০৩:৩৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৫
- / 270
যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত বিশ্বব্যাংক ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বার্ষিক সভার সাইডলাইনে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদল একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে অংশ নিয়ে বিদেশে পাচার করা টাকা ফেরাতে এবং অর্থনৈতিক সংস্কার কার্যক্রমে সহযোগিতা চেয়েছে। একই সঙ্গে জলবায়ুর নেতিবাচক প্রভাব মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক তহবিল বরাদ্দ বাড়ানোরও জোরালো প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
ড. সালেহউদ্দিন আহমেদের নেতৃত্বে গঠিত বাংলাদেশের প্রতিনিধিদল এই বৈঠকে যোগ দেয়। দলে ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ সচিবসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
শর্ত নয়, স্থিতিশীলতায় জোর
বৈঠকে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদল স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, দেশের স্বার্থবিরোধী কোনো শর্তে আর বৈদেশিক ঋণ গ্রহণ করা হবে না।
রিজার্ভের স্থিতিশীলতা: বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বলা হয়, আগের সরকারের রেখে যাওয়া বৈদেশিক মুদ্রার সংকট সফলভাবে মোকাবিলা করা সম্ভব হয়েছে এবং বর্তমানে রিজার্ভের স্থিতিশীলতা ফিরে এসেছে, ফলে বাজারে ডলারের জোগানও বেড়েছে।
আইএমএফের সঙ্গে বৈঠক: রাজস্ব বৃদ্ধি ও ষষ্ঠ কিস্তির শর্ত
মঙ্গলবার (মার্কিন সময়) আইএমএফের সঙ্গে বৈঠকে চলমান ঋণ কর্মসূচির অগ্রগতি এবং ভবিষ্যৎ সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়।
জলবায়ু তহবিল: বাংলাদেশ প্রতিনিধিদল জলবায়ু ক্ষতির জন্য বাড়তি অর্থ বরাদ্দের অনুরোধ জানায়, তবে এ ক্ষেত্রে শর্ত শিথিল রাখার আহ্বান জানায়।
আইএমএফের পরামর্শ: আইএমএফ এই ঋণ কর্মসূচির অধীনে রাজস্ব আহরণ বাড়ানো, সরকারি ঋণ গ্রহণে সুদের হার বাজারের সঙ্গে সমন্বয় করা এবং জ্বালানি উপকরণের দাম আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার পরামর্শ দিয়েছে।
পরবর্তী পদক্ষেপ: এসব শর্ত বাস্তবায়নের অগ্রগতি পর্যালোচনা করতে আগামী ২৯ অক্টোবর ঢাকায় আইএমএফের একটি মিশন আসবে।
বিশ্বব্যাংকের কাছে পাচারকৃত অর্থ উদ্ধারে সহায়তা
একই দিনে বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশ একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে কারিগরি সহায়তা চেয়েছে।
কারিগরি সহায়তা: বাংলাদেশ বিদেশে পাচার হওয়া টাকা ফেরাতে বিশ্বব্যাংকের তত্ত্বাবধানে থাকা আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর কারিগরি সহায়তা চেয়েছে। ইতোমধ্যে এসব সংস্থার সহায়তায় পাচারকৃত অর্থের একটি অংশ শনাক্ত করা হয়েছে, যা ফেরাতে এখন বাড়তি সহায়তা প্রয়োজন।
অতিরিক্ত ঋণ: বিশ্বব্যাংক সম্প্রতি সহজ শর্তের নতুন ঋণ কর্মসূচি চালু করেছে। বাংলাদেশ এ কর্মসূচির আওতায় অতিরিক্ত ঋণ সহযোগিতা চেয়েছে।
এছাড়া, ওপেক ফান্ডের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশ জ্বালানি আমদানির জন্য ক্রেডিট লাইন বাড়ানোর অনুরোধ জানায়। জ্বালানি তেলের চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় আমদানি ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় এই ঋণের চাহিদা সৃষ্টি হয়েছে। বাংলাদেশ প্রতিনিধিদল এডিবি, এআইআইবি ও জাইকার সঙ্গেও উন্নয়ন প্রকল্পে সহযোগিতা বাড়াতে বৈঠক করেছে।
















