বঙ্গোপসাগরে বিপদের সংকেত: ২ হাজার মিটার গভীরেও প্লাস্টিক
- আপডেট সময় : ০৩:২৯:২০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ জানুয়ারী ২০২৬
- / 458
বাংলাদেশের সমুদ্রসীমায় সামুদ্রিক মৎস্যসম্পদ ও ইকোসিস্টেমের ওপর পরিচালিত এক গবেষণায় উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য। আজ মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) সকালে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে এই গবেষণা প্রতিবেদন জমা দিয়েছে সংশ্লিষ্ট কমিটি। আন্তর্জাতিক গবেষণা জাহাজ ‘আর.ভি. ড. ফ্রিডজফ ন্যানসেন’-এর জরিপে দেখা গেছে, বঙ্গোপসাগরের গভীর তলদেশেও পৌঁছে গেছে প্লাস্টিক দূষণ।
গবেষণার ভয়াবহ তথ্য:
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সায়েদুর রহমান চৌধুরী জানান, সমুদ্রের দুই হাজার মিটার গভীরতায়ও প্লাস্টিক পাওয়া গেছে, যা পরিবেশের জন্য চরম হুমকির বিষয়। এছাড়া ‘ওভারফিশিং’ বা অতিরিক্ত মাছ ধরার ফলে গভীর সমুদ্রে বড় মাছের সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে কমছে। অন্যদিকে, সামুদ্রিক ভারসাম্য নষ্ট হওয়ায় সাগরে জেলিফিশের আধিক্য মাত্রাতিরিক্ত হারে বেড়ে গেছে।
সোনা ফিশিং ও আগ্রাসী প্রযুক্তি:
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে প্রায় ২৭০-২৮০টি বড় ট্রলার সাগরে মাছ ধরছে, যার মধ্যে ৭০টি ‘সোনার’ (Sonar) প্রযুক্তি ব্যবহার করে টার্গেটেড ফিশিং করছে। এটি অত্যন্ত আগ্রাসী পদ্ধতি, যার ফলে সমুদ্র দ্রুত মৎস্যশূন্য হওয়ার পথে। মৎস্য উপদেষ্টা ফরিদা আখতার জানিয়েছেন, এ বিষয়ে সরকার কঠোর ব্যবস্থা নেবে এবং ‘সোনার ফিশিং’ নিয়ন্ত্রণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
নতুন সম্ভাবনা ও ব্লু-ইকোনমি:
উদ্বেগের পাশাপাশি গবেষণায় নতুন ৬৫ প্রজাতির জলজ প্রাণীর অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। এছাড়া সুন্দরবনের নিচে একটি বিশাল ‘ফিশিং নার্সারি’র সন্ধান মিলেছে। প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, “আমাদের স্থলভাগের সমান জলভাগ থাকলেও আমরা এই সম্পদ কাজে লাগাতে পারিনি। অর্থনীতির নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে জাপান, ইন্দোনেশিয়া ও মালদ্বীপের সঙ্গে যৌথ গবেষণায় গুরুত্ব দিতে হবে।”
উল্লেখ্য, সামুদ্রিক সক্ষমতা বাড়াতে যুক্তরাজ্যের বহুমুখী সার্ভে ভেসেল ‘এইচএমএস এন্টারপ্রাইজ’ বর্তমানে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়ায় রয়েছে।






















