মসজিদের ভেতরেই বিএনপি’র দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, আহত ১০
- আপডেট সময় : ১০:২৩:৫৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩ অক্টোবর ২০২৫
- / 400
ঢাকার ধামরাইয়ে মসজিদ কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই সভাপতি প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে মসজিদের ভেতরেই ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। আজ শুক্রবার জুমার নামাজের পর ধামরাই উপজেলার বালিয়া ইউনিয়নের মাদারপুর মসজিদে এই সংঘর্ষে কমপক্ষে ১০ জন মুসল্লি আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
সংঘর্ষের পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পরে স্থানীয় বিএনপি নেতারাই হস্তক্ষেপ করেন। মসজিদের মতো পবিত্র স্থানে এমন ঘটনাকে দুঃখজনক ও লজ্জাজনক বলেছেন সংশ্লিষ্টরা।
কমিটি নিয়ে বিরোধ: যেভাবে শুরু হয় উত্তেজনা
সংঘর্ষের সূত্রপাত হয় মাদারপুর মসজিদ কমিটির খসড়া কমিটি ঘোষণা নিয়ে।
কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত: বিএনপির নির্বাহী কমিটির অন্যতম সদস্য ও ধামরাই উপজেলা বিএনপির সভাপতি তমিজ উদ্দিন জনতা ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত প্রিন্সিপাল অফিসার শামসুল ইসলামকে সভাপতি এবং মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলমকে সাধারণ সম্পাদক করে মসজিদ কমিটির খসড়া তৈরি করেন।
কমিটি ঘোষণা: জুমার নামাজ শেষে বালিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম মাস্টার মসজিদে উপস্থিত হয়ে একটি আংশিক কমিটি ঘোষণা করেন। কিন্তু তিনি শামসুল ইসলামকে সভাপতি করলেও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে ঘোষণা করেন মো. আব্দুর রাজ্জাকের নাম।
সংঘর্ষ: কমিটি ঘোষণার পরপরই রাজ্জাক বলয়ের সুজন মাহমুদ রামদা হাতে নিয়ে “এ কমিটি মানি না” বলে মসজিদের ভেতরে স্লোগান দিতে শুরু করেন। দ্রুতই রাজ্জাক বলয়ের অন্যান্য লোকজনও এই স্লোগান ধরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করে তোলে।
শামসুল ইসলাম বলয়ের লোকজন প্রতিবাদমুখর হলে উভয় পক্ষের মধ্যে মসজিদের ভেতরেই হাতাহাতি ও সংঘর্ষ শুরু হয়। এতে আব্দুর রশিদ, মোশারফ হোসেন, মীর হোসেন, আলী হোসেনসহ কমপক্ষে ১০ জন মুসল্লি আহত হন।
অভিযোগ ও পাল্টাপাল্টি যুক্তি
সংঘর্ষের পর দুই পক্ষের নেতারাই পাল্টাপাল্টি অভিযোগ তুলেছেন।
আব্দুর রাজ্জাকের দাবি: মো. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, তিনি নিজে থেকে সভাপতি হতে চাননি, গ্রামের অধিকাংশ লোক তাঁকে সভাপতি হিসেবে চায়। নেতা তমিজ উদ্দিনের সিদ্ধান্ত মেনেই তাঁরা প্রতিবাদ জানাতে গেলে সংঘর্ষ হয়।
শামসুল ইসলামের ক্ষোভ: শামসুল ইসলাম ঘটনাটিকে ‘দৃষ্টিকটু ও লজ্জাজনক’ আখ্যা দিয়ে বলেন, তিনি গ্রামের লোকজনের খেদমত করার জন্যই সভাপতি হতে চেয়েছিলেন। কমিটি ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই আব্দুর রাজ্জাকের লোকজন সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন।
ইউনিয়ন সভাপতির নিন্দা: বালিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম মাস্টার সংঘর্ষের তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, “আমার উপস্থিতিতেই এমন ন্যক্কারজনক ঘটনা মোটেও উচিত হয়নি। এ আমাদের কাম্য নয়।”
পরে ওই বিএনপি নেতার হস্তক্ষেপে দুই গ্রুপের লোকজন দুদিকে গিয়ে অবস্থান নিলে পরিস্থিতি শান্ত হয়।





















