ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক এখন ছাত্রদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি
- আপডেট সময় : ০৪:০৫:০৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ নভেম্বর ২০২৫
- / 441
কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার আসাদনগর আব্দুল মতিন খসরু কলেজে ছাত্রদলের সম্প্রতি অনুমোদিত কমিটি নিয়ে তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, এই কমিটিতে ইমন রানা ভূঁইয়া নামের এক ব্যক্তি সিনিয়র সহ-সভাপতি পদে এসেছেন, যিনি এর আগে ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা মালাপাড়া ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক পদে ছিলেন।
গত ২২ অক্টোবর কমিটি অনুমোদন দেওয়া হলেও, গত ২০ নভেম্বর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কমিটির প্যাড ছড়িয়ে পড়ার পর এই বিতর্ক সামনে আসে। এমনকি কমিটির তালিকা দেখে পদ পাওয়া অনেকেই রাজনীতিতে জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করে পদ থেকে অব্যাহতি চেয়েছেন।
ছাত্রদলের কমিটিতে ছাত্রলীগ নেতার প্রমোশন
কমিটির তালিকা ছড়িয়ে পড়ার পর জানা যায়, এই বিতর্কিত কমিটিতে সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ও সদস্যসহ একাধিক ব্যক্তির নাম রয়েছে।
ইমন রানা ভূঁইয়া: তিনি পূর্বে মালাপাড়া ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক পদে ছিলেন। বর্তমানে তাঁকে আসাদনগর আব্দুল মতিন খসরু কলেজের ছাত্রদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি করা হয়েছে।
জুবায়ের ভূঁইয়া: এই কমিটির সহ-সভাপতি করা হয়েছে জুবায়ের ভূঁইয়াকে, যিনি মালাপাড়া ইউনিয়ন ছাত্রলীগের কমিটির সদস্য ছিলেন।
নেতাদের বিস্ময় ও প্রত্যাখ্যান
কমিটিতে নাম আসা অনেকেই রাজনীতির সঙ্গে নিজেদের সংশ্লিষ্টতা অস্বীকার করেছেন, যা বিতর্কের মাত্রা আরও বাড়িয়েছে।
সৌরভ ভূঁইয়ার তীব্র নিন্দা: ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে সৌরভ ভূঁইয়াকে। কমিটি ছড়িয়ে পড়ার পর তিনি ফেসবুকে পোস্টে তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “আমি কোনো রাজনীতির মধ্যে জড়িত না। আমার জীবনেও কোনো দলের কাজ করিনি। আমার বংশেও রাজনীতি করে না। কে বা কারা আমার নাম ছাত্রদলের কমিটিতে দিয়েছে তা আমি জানি না। আমি আর তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। আমি এই কমিটি থেকে অব্যাহতি চাই।”
ইমন রানা ভূঁইয়ার দাবি: সিনিয়র সহ-সভাপতি ইমন রানা ভূঁইয়াও এ বিষয়ে জানেন না বলে দাবি করেছেন। তিনি বলেন, “এ বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। আমার নাম এর আগেও ছাত্রলীগের কমিটিতে দিয়েছিল, এটাও আমি গতকাল দেখেছি। আমি কোনো রাজনীতির সাথে জড়িত না।”
কেন্দ্র ও জেলার দায় অস্বীকার
আসাদনগর আব্দুল মতিন খসরু কলেজ ছাত্রদলের কমিটি অনুমোদন করেছেন কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব এবং সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন নাসির। তবে জেলার নেতারা এই বিতর্কিত নাম অন্তর্ভুক্তির দায় অস্বীকার করেছেন।
সুলেমান মুন্সী (কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি): তিনি বলেন, “আমি যেই নাম কেন্দ্রে পাঠিয়েছি, সেই নামের মধ্যে ছাত্রলীগ নেতা ইমন রানার নাম ছিল না। হয়তোবা কেউ করে এই নামগুলো কেন্দ্রে পাঠিয়েছে। এই বিষয়ে আমি অবগত না।”
এমদাদুল হক ধীমান (কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক): তিনি বলেন, “আমরা ফরম সংগ্রহ করে কেন্দ্রে পাঠিয়েছি। ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার দায়িত্বে আমি ছিলাম না।”
এই ঘটনা কেন্দ্রীয় ছাত্রদল নেতৃত্বের কাছে নাম পাঠানোর প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে।





















