জামায়াতের নিবন্ধন বাতিল চেয়ে প্রধানমন্ত্রী বরাবর চিঠি
- আপডেট সময় : ১০:০১:২৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
- / 363
বিয়ে ও নানা ব্যক্তিগত ইস্যুতে সবসময় আলোচনায় থাকা জনপ্রিয় ইনফ্লুয়েন্সার ও নারী উদ্যোক্তা রোবাইয়াত ফাতিমা তনি এবার ভিন্ন এক কারণে সংবাদের শিরোনাম হয়েছেন। জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন বাতিলের দাবি জানিয়ে ‘সচেতন নাগরিক সমাজ’ নামে একটি সংগঠনের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীর কাছে চিঠি পাঠিয়েছেন তিনি।
শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তনি নিজে এই তথ্য নিশ্চিত করেন এবং প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠানো চিঠির বিষয়বস্তু পাঠ করে শোনান।
কেন এই দাবি? তনির যুক্তি
সংবাদ সম্মেলনে রোবাইয়াত ফাতিমা তনি জানান, তিনি ‘সচেতন নাগরিক সমাজ’ সংগঠনের সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তার দাবি, জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানসহ শীর্ষ নেতারা বিভিন্ন সময় নারীর নেতৃত্ব ও ক্ষমতায়নের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন।
তনি বলেন:
“জামায়াতের নীতি অনুযায়ী কোনো নারী দলীয় প্রধান, রাষ্ট্রপ্রধান বা কোনো সংস্থার প্রধান হতে পারবেন না। এই অবস্থান আমাদের সংবিধানের ২৭ ও ২৮ অনুচ্ছেদের সরাসরি লঙ্ঘন। আরপিও অনুযায়ী, কোনো দল লিঙ্গ সমতার বিরুদ্ধে অবস্থান নিলে তাদের নিবন্ধন বাতিলযোগ্য।”
সংবিধান ও আইনি ব্যবস্থা
তনি আরও উল্লেখ করেন যে, রাষ্ট্র পরিচালনায় নারীদের অংশগ্রহণের অধিকার কেড়ে নেওয়া একটি চরম অসাংবিধানিক আদর্শ। তিনি জামায়াতের আমিরের সাম্প্রতিক বক্তব্যের কঠোর সমালোচনা করেন এবং তিনটি সুনির্দিষ্ট দাবি উত্থাপন করেন:
১. জামায়াতের নিবন্ধন বাতিলের বিষয়টি খতিয়ে দেখে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ। ২. অবমাননাকর বক্তব্যের জন্য ডা. শফিকুর রহমানের বিচার নিশ্চিত করা। ৩. তাকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে বাধ্য করা।
নারীর সম্মান নিয়ে আপস নয়
সংবাদ সম্মেলনে তনি স্পষ্টভাবে জানান, নারীর সম্মান ও সাংবিধানিক অধিকার কোনো রাজনৈতিক আপসের বিষয় হতে পারে না। নারীর প্রতি বিদ্বেষমূলক বক্তব্যের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রকে কঠোর আইনগত অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানান এই নারী উদ্যোক্তা।
সংগঠনটির আহ্বায়ক নীলা ইসরাফিলও এ সময় উপস্থিত ছিলেন। তনির এই রাজনৈতিক পদক্ষেপে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ইতিমধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।


























