দেশ প্রস্তুত: ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন
- আপডেট সময় : ১২:৩৬:২৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৫
- / 212
কক্সবাজারে আয়োজিত এক আন্তর্জাতিক রোহিঙ্গা সম্মেলনে প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, দেশ নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত এবং অন্তর্বর্তী সরকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করবে। তিনি জানান, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে নির্বাচন ঘোষণা করা হয়েছে।
গতকাল সোমবার (২৫ আগস্ট) কক্সবাজারে ‘রোহিঙ্গা স্টেকহোল্ডার্স’ ডায়ালগ’ শীর্ষক তিন দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান উপদেষ্টা এই মন্তব্য করেন।
রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও রোহিঙ্গা সংকট
ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, “আমরা এখন আমাদের রাজনৈতিক ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে আছি। এক বছর আগে এক ভয়াবহ হত্যাযজ্ঞের মধ্য দিয়ে যাওয়ার পর ছাত্র নেতৃত্বাধীন গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ফ্যাসিবাদী শাসন থেকে দেশকে মুক্ত করা সম্ভব হয়েছে।”
রোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশ প্রায় ১৩ লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিচ্ছে, যার কারণে কক্সবাজার এখন বিশ্বের সবচেয়ে বড় শরণার্থী ক্যাম্পে পরিণত হয়েছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘আমরা রোহিঙ্গা নারী-পুরুষের চোখে এখনো ভীতি দেখি। এই পরিস্থিতিতে আমরা চুপচাপ বসে থাকতে পারি না।’
প্রত্যাবাসনের জন্য ৭ প্রস্তাব
রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রধান উপদেষ্টা প্রত্যাবাসনের একটি কার্যকর রোডম্যাপ তৈরির জন্য সাতটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব তুলে ধরেন:
১. রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছায় ও টেকসই প্রত্যাবাসনের জন্য দ্রুত একটি বাস্তবসম্মত রোডম্যাপ তৈরি করতে হবে। ২. আন্তর্জাতিক দাতাসংস্থাগুলোকে মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখতে হবে এবং পর্যাপ্ত ও টেকসই অর্থায়নের ব্যবস্থা করতে হবে। ৩. মিয়ানমারের অভ্যন্তরে রোহিঙ্গাদের ওপর সব ধরনের নিপীড়ন অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। ৪. মিয়ানমার সরকার ও রাখাইন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে রোহিঙ্গাদের অধিকার নিশ্চিত করতে গঠনমূলক সংলাপের জন্য একটি প্ল্যাটফর্ম তৈরি করতে হবে। ৫. আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়, বিশেষ করে আসিয়ানকে, রাখাইনে নিরাপদ পরিবেশ তৈরিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করতে হবে। ৬. আঞ্চলিক এবং আন্তর্জাতিক অংশীজনদের জাতিগত নিধনের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে হবে। ৭. আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উচিত গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধ বন্ধে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া এবং ন্যায়বিচার ও দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করা।
অন্যান্যদের বক্তব্য
সম্মেলনে উপস্থিত জাতিসংঘ, ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ ৪০টিরও বেশি দেশের প্রতিনিধিরা রোহিঙ্গা সংকটের দ্রুত সমাধানের ওপর জোর দেন। জাতিসংঘের এক প্রতিনিধি বলেন, এই সংকট এখন শুধু বাংলাদেশের নয়, বরং গোটা দক্ষিণ এশিয়া ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার জন্যই একটি বড় চ্যালেঞ্জ।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধি জানান, তারা মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখবেন, তবে সমাধানের জন্য মিয়ানমারের ওপর রাজনৈতিক চাপ বৃদ্ধি করা জরুরি।
সম্মেলনের প্রথম দিনে রোহিঙ্গা প্রতিনিধিরাও বিদেশি অতিথিদের কাছে নিজেদের ওপর ঘটে যাওয়া নির্যাতনের বর্ণনা তুলে ধরেন। এ সময় এক রোহিঙ্গা তরুণ বলেন, ‘আমরা বাংলাদেশে আশ্রিত কিন্তু এখানে আমাদের কোনো ভবিষ্যৎ নেই। আমাদের অধিকার ফিরিয়ে দিতে হবে আমাদের নিজেদের দেশ মিয়ানমারে।’
আজ মঙ্গলবার বিদেশি অতিথিরা কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনে যাবেন। সেখানে তারা রোহিঙ্গাদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলবেন এবং বাস্তব পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করবেন।
















